বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
আদালতে জবানবন্দি

মেয়েকে মারধরের প্রতিশোধ নিতেই ৬ বছরের শিশুকে হত্যা

নিহত শিশু রাকা। ছবি : সংগৃহীত
নিহত শিশু রাকা। ছবি : সংগৃহীত

বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে আলোচিত শিশু রাকিকা আক্তার রাকা হত্যাকাণ্ডের আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সোনার দুল হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধও এই হত্যাকাণ্ডের আরও একটি কারণ। ইতোমধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে মামলার ২ নম্বর আসামি বন্যা বেগম আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

রোববার (১৪ জুন) বগুড়ায় আদমদীঘি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের বিচারকের কাছে তিনি এই স্বীকারোক্তি দেন। পরে বিচারক তার দেওয়া জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করে তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।

আদমদীঘি থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহত শিশু রাকার পরিবারের সঙ্গে আগে থেকেই নানা বিষয় নিয়ে বন্যা বেগম তার পরিবারের বিরোধ চলে আসছিল। তারপরও সাড়ে ৬ বছর বয়সী রাকা আসামি বন্যা বেগমের বাড়িতে যেত ও তার মেয়ে ফাতেমার (১২) সঙ্গে খেলাধুলা করত।

খেলাধুলার একপর্যায়ে রাকাকে কয়েকদিন আগে মারধর করে ফাতেমা। মার খেয়ে রাকা বাসায় গিয়ে তার দাদিকে বিষয়টি বললে তিনি ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে তার দাদি ফাতেমাকে মারধর করেন।

কিন্তু বিষয়টি সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি ফাতেমার মা বন্যা বেগম ও তার পরিবার। তারা পাল্টা প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে শিশু রাকামনিকে ডেকে এনে নির্মমভাবে হত্যা করে বন্যা বেগম ও তার পরিবার।

আসামি বন্যা বেগম স্বীকার করেন, সান্তাহার পৌর এলাকার সাহেবপাড়ায় তার বাড়িতে ব্রয়লার মুরগির একটি ছোট সেড রয়েছে। সেখানে রাকা যখন মুরগি দেখছিল তখন পেছন থেকে কাপড়ের রশি দিয়ে রাকার গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়।

বন্যা বেগম দাবি করেন, তিনি নিজেই রাকাকে হত্যা করেছেন। পরে তার লাশ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে। এরপর কাগজপত্র দিয়ে ঢেকে শয়ন কক্ষের পাশে লুকিয়ে রাখা হয়।

ওসি আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এজাহারনামীয় ৪ আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরমধ্যে বন্যা বেগমের স্বামী আমজাদ হোসেনও রয়েছে। নিহত রাকা সান্তাহার পৌর এলাকার সাহেবপাড়ার অটোরিকশা গ্যারেজ মিস্ত্রী রায়হান আলীর মেয়ে। তিনি আরও বলেন, রাকার সোনার দুটি কানের দুলও খুলে নেওয়া হয়।

এ বিষয়েও জোরালো তদন্ত চলছে। এ হত্যার ঘটনায় আদমদীঘি থানায় নিহত রাকার বাবা সান্তাহার সাহেব পাড়ার রায়হান আলী বাদী হয়ে প্রতিবেশী আমজাদ হোসেন ও তার স্ত্রী বন্যা বেগম এবং বাবু হোসেনসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রতিবেশী আমজাদ হোসেন, তার স্ত্রী বন্যা বেগম, বাবু হোসেন ও তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকাকে গ্রেপ্তার করেছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৩ ঘণ্টা পর ময়মনসিংহ-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

শর্ত মানলে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পাবে ইরান : ভ্যান্স

গণমাধ্যমে সত্যকে সত্য হিসেবেই তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর 

সিএমপির ৫ থানায় নতুন ওসি, ৮ পরিদর্শক বদলি

মাদারীপুরে দুপক্ষের তুমুল সংঘর্ষ, আহত ১০

হতাশায় গাঁজার নেশায় ঝুঁকছে ব্রাজিলের তরুণরা, বলছে গবেষণা

গোল করে বাঁ পায়ের জাদু দেখালেন জাইমা রহমান

বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে রুমিন ফারহানার প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা নিয়ে কঠোর অবস্থানে ইসরায়েল

বাড়ি বিক্রি করে বিশ্বভ্রমণে ব্রিটিশ নারী, ঘুরেছেন ১৭৯ দেশ

১০

এবার ছোটপর্দার গোয়েন্দা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়

১১

হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখতে একসঙ্গে কাজ করবে ইরান ও ওমান

১২

সরফরাজ হোসেনের কবিতা : নীল

১৩

ধর্মমন্ত্রীর প্রতি সেই ওমরাযাত্রীর পরিবারের কৃতজ্ঞতা

১৪

সন্তানদের সঙ্গে মিলে গেছে নতুন ২ ইউনিয়নের নাম, সংসদে ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী

১৫

জুনের প্রথম ১৩ দিনে রেমিট্যান্সে শীর্ষে কৃষি ব্যাংক

১৬

বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে ঢাবিতে ছাত্রদল নেতা তৌহিদের বৃক্ষরোপণ

১৭

সেই হজযাত্রীর জন্য ধর্মমন্ত্রীর শোক

১৮

রাশিয়ায় যুদ্ধে গিয়ে নিখোঁজ ২ বাংলাদেশি  

১৯

পশ্চিমবঙ্গের নতুন দল ‘এনসিপিআই’ বাংলাদেশে তৈরি, দাবি কংগ্রেস নেতার

২০
X