

ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। বাংলাদেশ ও ভারত আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে সোমবার (১৫ জুন) পূর্বাভাসে কেন্দ্র এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সোমবার আষাঢ়ের প্রথম দিনে ভ্যাপসা গরমে অস্বস্তিতে পড়েন দেশবাসী। এরমধ্যে ৬ জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ বইছে, যা অব্যাহত থাকতে পারে। শনিবারের (২০ জুন) পর দেশে বৃষ্টি বাড়তে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুশিয়ারা নদী ফেঞ্চুগঞ্জ ও মার্কুলি স্টেশনে এবং সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা স্টেশনে সতর্কসীমায় বা সতর্কসীমার কাছে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে মাঝারি ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে উজানে ভারতের তৎসংলগ্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত হয়নি।
আগামী ৩ দিন দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে মাঝারি-ভারী থেকে ভারী এবং পরবর্তী ২ দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল রয়েছে, যা আগামী ৫ দিন বাড়লেও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে; গঙ্গা নদীর পানি সমতল আগামী ৫ দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।
অপরদিকে পদ্মা নদীর পানি সমতল আগামী ৫ দিন বাড়তে পারে, তবে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
এদিকে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল বেড়েছে, যা আগামী ৩ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ে নদীসমূহ সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সামরিকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগের দুধকুমার নদীর পানি সমতল বেড়েছে, অপরদিকে তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল রয়েছে, ওই নদীসমূহের পানি সমতল আগামী ১ দিন স্থিতিশীল থেকে পরবর্তী ২ দিন বাড়তে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী, ভুলাই ও কংস নদীসমূহের পানি সমতল দ্রুত বেড়েছে। এসব নদীর পানি সমতল আগামী ৩ দিন বাড়তে পারে। এ সময়ে নেত্রকোনা জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
এ ছাড়া সিলেট বিভাগের সারিগোয়াইন নদীর পানি সমতল বেড়েছে এবং যাদুকাটা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল রয়েছে; যা আগামী ৩ দিন বাড়তে পারে। অপরদিকে মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে; যা আগামী ৩ দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী নদীর পানি সমতল বেড়েছে। মুহুরি, সেলোনিয়া ও ফেনী নদীর পানি সমতল কমেছে। এসব নদীর পানি সমতল আগামী ৩ দিন কমতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
সোমবার রাজশাহী, পাবনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও খুলনা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। চলমান এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। পরবর্তী পাঁচ দিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে।
সোমবার রাজশাহীতে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এদিন কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে দেশের সর্বোচ্চ ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক কালবেলাকে বলেন, ‘২০ জুনের পর দেশে বৃষ্টি বাড়তে পারে। এর আগেও কোথাও অনেক বেশি কোথাও কম বৃষ্টি হবে। ভারী বৃষ্টি হলে ভ্যাপসা গরম কেটে যাবে। এবার জুন মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হতে পারে। সে লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ২০ জুনের পর উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টি বেশি হবে। মাসজুড়ে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হবে।’