

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী দল। সরকার গঠনের পর জাতীয় সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের বণ্টন নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক সমীকরণ। নতুন সরকারের সংসদীয় কার্যক্রমে নারী নেতৃত্বের অংশীদারত্ব বাড়াতে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন নিয়ে জল্পনা কল্পনা চলছে।
নির্বাচন কমিশনের তফশিলের পর দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হবে। নির্বাচনে প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে বিএনপি সংরক্ষিত আসনের ৩৭টি আসন পেতে পারে। ইতোমধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে দলটির ভেতরে ব্যাপক তৎপরতা দেখা দিয়েছে। সংরক্ষিত আসনে এমপি হতে দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেত্রীরা।
বহুল প্রত্যাশিত সিলেট -৬ এই আসনে কারা মনোনয়ন পাচ্ছেন, তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। আলোচনায় সিলেট থেকে এগিয়ে রয়েছেন সৈয়দা আদিবা হোসেন। তিনি গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট -৬ আসনের দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের লেচু মিয়ার কন্যা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের প্রার্থীতা ঘোষণা করে তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা নিয়ে বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র অলিগলি চষে বেড়িয়ে ব্যাপক আলোচনায় ছিলেন এ নারী। উঠান বৈঠক থেকে শুরু করে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সব কিছুতে তিনি ছিলেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝেও তাকে নিয়ে ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে।
বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর ধারণা ছিল, বিগত জাতীয় নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাবেন আদিবা হোসেন। শেষ মুহূর্তে দল এড. এমরান আহমদ চৌধুরীকে মনোনীত করলে তাকে বিজয়ী করতে নিরলসভাবে কাজ করেন তিনি।
পিতার উত্তরসূরি হিসেবে রাজনীতিতে এসেছেন কন্যা সৈয়দা আদিবা হোসেন। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স অব অ্যাডমিনিস্টশনে এমবি সম্পন্ন করা উচ্চশিক্ষিতা ও প্রগতিশীল এই নারী বাবার মতো মানুষের সেবা করার উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করছেন। নিজের রাজনৈতিক কর্মতৎপরতায় ইতোমধ্যে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী দলের মিডিয়া সেলে কাজ করেছেন তিনি। বিএনপির রাজনীতির পাশাপাশি সৈয়দা আদিবা সামাজিক ও শিক্ষানুরাগী হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারে তার পরিবারের নামে প্রতিষ্ঠিত পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে শিক্ষা কার্যক্রমে তিনি ভূমিকা রেখেছেন। এছাড়াও, তিনি সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষাদানের জন্য কাজ করা ‘ফাউন্ডেশন ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের’ উপদেষ্টা ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের সহায়তা দেওয়ার উইমেন্স সাপোর্ট গ্রুপ বিডি এর সাথে যুক্ত রয়েছেন।
সৈয়দা আদিবা হোসেন বলেন, আমার পিতা মানুষের জন্য কাজ করেছেন। তাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের মানুষের জন্য কাজ করার জন্য রাজনীতিতে এসেছি। সুযোগ পেলে নিজের দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে কাজ করে যাব।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সবাই মিলে একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়তে অংশীদার হব। আমার বাবা গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলার মানুষের জন্য আজীবন কাজ করেছেন। গত নির্বাচনে আমি বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলাম। দল অন্য একজনকে মনোনীত করলে, আমি সর্বোচ্চ দিয়ে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য কাজ করেছি এবং আমরা সফল হয়েছি। সংরক্ষিত নারী আসন থেকে যদি আমাকে সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দেশকে এগিয়ে নেওয়ার যে সুবর্ণ সুযোগ এসেছে, সেই সুযোগ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখব।