কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
গোরখোদক মুজিবুর ফকির

‘হাত কাঁপছিল, কলিজা ফেটে যাচ্ছিল: ১৭ বছরে এমন দিন দেখিনি’

পাশাপাশি ৯টি কবর খুঁড়তে গিয়ে বারবার থমকে যাচ্ছিলেন কবরস্থানের খাদেম ও গোরখোদক মুজিবুর ফকির। ছবি : সংগৃহীত
পাশাপাশি ৯টি কবর খুঁড়তে গিয়ে বারবার থমকে যাচ্ছিলেন কবরস্থানের খাদেম ও গোরখোদক মুজিবুর ফকির। ছবি : সংগৃহীত

সতেরো বছরের দীর্ঘ পেশাজীবনে কত শত মানুষের শেষ শয্যা রচনা করেছেন মুজিবুর ফকির, তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু শুক্রবারের দুপুরটা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে ভারী এবং যন্ত্রণাময়। মোংলা পৌর কবরস্থানের এক কোণে পাশাপাশি ৯টি কবর খুঁড়তে গিয়ে বারবার থমকে যাচ্ছিলেন এই গোরখোদক। তার ভাষায়, “জীবনে প্রথম একসঙ্গে ৯ কবর খুঁড়লাম, হাত কাঁপছিল।”

কবরস্থানের খাদেম ও গোরখোদক মুজিবুর ফকির সাধারণত নির্বিকার চিত্তে কাজ করেন। কিন্তু শুক্রবারের পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। একই পরিবারের ৯ জন সদস্যের জন্য সারিবদ্ধভাবে কবর প্রস্তুত করার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনিও।

মুজিবুর বলেন, “১৭ বছর ধরে এই কবরস্থানে আছি। কত মানুষ বিদায় করলাম, কিন্তু এক বাড়িতে ৯ লাশ আর এক সারিতে ৯ কবরের দৃশ্য কোনোদিন দেখিনি। কোদাল চালাব কী, হাত বারবার কেঁপে উঠছিল। মনে হচ্ছিল কলিজাটা ফেটে যাবে।”

পরিবারের সদস্যদের ইচ্ছাতেই পাশাপাশি কবরগুলো খোঁড়া হয়েছে। মুজিবুর ফকির জানান, তারা চেয়েছিলেন বিয়োগব্যথার এই বিমর্ষ মুহূর্তেও যেন স্বজনরা অন্তত মাটির নিচে একসঙ্গে থাকতে পারেন। সারিবদ্ধ সেই ৯টি কবরের শূন্যতা যেন পুরো মোংলাবাসীর বুক চিরে বের হওয়া হাহাকারের প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

যখন একে একে ৯টি নিথর দেহ খাটিয়ায় করে কবরের পাশে আনা হলো, তখন নির্বাক দাঁড়িয়ে ছিলেন মুজিবুর। যে হাতগুলো এক সময় দক্ষতার সঙ্গে কবর খুঁড়েছে, সেই হাতগুলোই আজ কাঁপছিল শেষ মাটিটুকু দিতে।

মুজিবুরের কণ্ঠে ছিল কেবল করুণ এক প্রার্থনা, এমন দৃশ্য যেন আর কাউরে দেখতে না হয়। এই শোক সহ্য করার শক্তি খোদা পরিবারটারে দিক।

আশপাশের ৯টি মসজিদ থেকে আনা ৯টি খাটিয়া আর পাশাপাশি ৯টি কবরের এই দৃশ্য মোংলার ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর অধ্যায় হিসেবে চিরস্থায়ী হয়ে রইল মুজিবুর ফকিরের স্মৃতিতে।

প্রসঙ্গত, বুধবার (১১ মার্চ) রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তারের (মিতু) সঙ্গে বিয়ে হয় মোংলা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমানের (সাব্বির)। বিয়ের পর বর-কনেসহ দুই পরিবারের সদস্যরা মাইক্রোবাসে ফিরছিলেন। এরপর মাইক্রোবাসটি রামপাল উপজেলার বেলাইবিজ এলাকায় বিপরীত দিক দিয়ে আসা বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসের চালকসহ ১৪ জন নিহত হন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফুটবল খেলতে গিয়ে প্রাণ গেল কিশোরের 

ভারতীয় নাগরিকদের পুশইনের চেষ্টা / সীমান্তে উত্তেজনা, শক্ত অবস্থানে বিজিবি 

আজ রাতে তেহরান পুড়বে : বেন-গাভির

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইসরায়েলজুড়ে রেড অ্যালার্ট জারি

ভূমিকম্পের সময় যে দোয়া পড়বেন

বাসচালককে মারধর ও ছাত্রদল কর্মীকে কোপানোর অভিযোগ  

দেশের যেসব জেলায় ভূমিকম্প অনুভূত, উৎপত্তিস্থল যেখানে

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত

খেলতে গিয়ে প্রাণ গেল দুই শিশুর

চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনওর কাছে স্মারকলিপি

১০

আরও বাড়ল ই-ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়

১১

লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে আবারও যুদ্ধে নামব : ইরান

১২

‘বিশ্ব এলপিজি দিবস-২০২৬’ উদযাপন করল ফ্রেশ এলপি গ্যাস

১৩

আর্জেন্টিনা যেন মিনি হাসপাতাল!

১৪

বিশ্বকাপ এলেই রং বদলান নেইমার

১৫

রামিসা হত্যাকাণ্ডের রায়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পড়লেন জামায়াত আমির

১৬

সাতক্ষীরা পৌর নির্বাচনে নতুন সমীকরণ, আলোচনায় নাসিম ফারুক খান মিঠু

১৭

বিশ্বকাপে সেদিন আবির্ভাব হয়েছিল এক ‘ফুটবল দেবতার’, নাম তার ম্যারাডোনা

১৮

লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও, এস আই প্রত্যাহার

১৯

বাজেট ২০২৬-২৭ / মানবসম্পদ উন্নয়নের রূপরেখা চান বিশেষজ্ঞরা

২০
X