মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মা-ছেলের একসঙ্গেই চিরবিদায়, ঈদের খুশি রূপ নিল বিষাদে

নিহত পাঁচজনের মরদেহ যখন গ্রামে পৌঁছায় তখন আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে স্বজনদের আহাজারিতে। ছবি : কালবেলা
নিহত পাঁচজনের মরদেহ যখন গ্রামে পৌঁছায় তখন আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে স্বজনদের আহাজারিতে। ছবি : কালবেলা

একটি সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় ঘর ছেড়েছিলেন তারা। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে টাঙ্গাইলের পোশাক কারখানায় হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতেন নার্গিস, সুলতান আর রিফারা। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ প্রিয়জনদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে কদিন আগেই বাড়ি ফিরেছিলেন। কিন্তু সেই আনন্দ যে বিষাদে রূপ নেবে, তা কে জানত? ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ঈদের ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফেরার পথেই থেমে গেল পাঁচটি প্রাণ।

শনিবার সকালে যখন টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়া পাঁচজনের মরদেহ গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের পূর্ব নিজপাড়া ও বোয়ালীদহ গ্রামে পৌঁছায়, তখন আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে স্বজনদের আহাজারিতে।

নিহতরা হলেন— পূর্ব নিজপাড়া গ্রামের হামিদুজ্জামান মিয়ার স্ত্রী নার্গিস বেগম (৪০), তার ছেলে নিরব মিয়া (১১), আজিজার রহমানের ছেলে সুলতান রহমান (২৫), আবদুর রশিদ মিয়ার মেয়ে রিফা আক্তার (২০) ও বোয়ালীদহ নামাপাড়া গ্রামের দোলা বেগম (২৫)।

পূর্ব নিজপাড়া গ্রামের হামিদুজ্জামান মিয়ার ঘর এখন স্তব্ধ। যে স্ত্রী আর সন্তানকে হাসিমুখে বিদায় দিয়েছিলেন, আজ তাদের নিথর দেহ সামনে নিয়ে পাথর হয়ে গেছেন তিনি। তার স্ত্রী নার্গিস বেগম (৪০) এবং মাত্র ১১ বছরের সন্তান নীরব মিয়া— দুজনকেই কেড়ে নিয়েছে ঘাতক ট্রেন। বিলাপ করতে করতে হামিদুজ্জামান বলছিলেন, আমার স্ত্রী গার্মেন্টেসে চাকরি করে সংসার চালাত। আমার সাজানো সংসারটা এক নিমেষেই শেষ হয়ে গেল। এখন আমি কাকে নিয়ে বাঁচব?

একই ট্র্যাজেডির শিকার হয়েছেন ওই গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে সুলতান রহমান (২৫), আবদুর রশিদের মেয়ে রিফা আক্তার (২০) এবং বোয়ালীদহ নামাপাড়া গ্রামের দোলা বেগম (২৫)। প্রত্যেকের ঘরেই চলছে মাতম। কারও মা, কারও সন্তান, আবার কারও উপার্জক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে দিশাহারা পরিবারগুলো।

স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় পচার বাজার থেকে বনশ্রী পরিবহনের একটি বাসে করে তারা টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে কালিহাতী এলাকায় বাসের তেল ফুরিয়ে গেলে যাত্রীরা নিচে নেমে অপেক্ষা করতে থাকেন। অলস সময় কাটাতে তারা রেললাইনের ওপর বসেছিলেন। ঠিক তখনই কাল হয়ে আসে দ্রুতগামী ট্রেন। মুহূর্তেই তছনছ হয়ে যায় সব রঙিন স্বপ্ন।

শনিবার সকাল থেকেই নিহতদের বাড়িতে ভিড় করছেন শত শত মানুষ। পাড়া-প্রতিবেশী থেকে শুরু করে দূর-দূরান্তের মানুষ আসছেন শেষ দেখা দেখতে।

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন বলেন, এই মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা শোকাহত পরিবারগুলোর পাশে আছি এবং পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি।

দুপুরে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাদের দাফন করার প্রস্তুতি চলছে। প্রিয়জনদের হারিয়ে স্বজনদের চোখে এখন শুধু অশ্রু আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের শঙ্কা। ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা হলো না তাদের, তারা ফিরলেন মাটির চিরস্থায়ী ঠিকানায়।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পদত্যাগী মন্ত্রীর বাসায় খিচুড়ি, প্রতিমন্ত্রীর সভা শেষে বিরিয়ানি দিয়ে আপ্যায়ন

বাজেটে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নতুনভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে : মির্জা ফখরুল 

মৌচাকে থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বিল্লাল খুন

মহানগর যুবদল নেতা বহিষ্কার

নুরজাহান বেগমের মৃত্যু : সমাজের এক নির্মম আয়না

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি নেতা সোহেল রানাকে স্থায়ী বহিষ্কার 

পবিপ্রবির নতুন উপাচার্য হলেন প্রফেসর ড. এস এম হেমায়েত জাহান

তনু হত্যা  / ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ ২ আসামির বিরুদ্ধে 

নাগরিকসেবায় অবহেলা করলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ডিএসসিসি প্রশাসকের

হোয়াটসঅ্যাপে ইসরায়েলের সাইবার হামলা, মামলা করবে মেটা

১০

রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

১১

আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক ট্রেনিং সেন্টার / ৬ দিনব্যাপী ফাউন্ডেশন কোর্সের দ্বিতীয় পর্ব শুরু

১২

এনসিপিতে যোগ দিলেন বিভিন্ন দলের শতাধিক নেতাকর্মী

১৩

বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া বাণিজ্য : হালাল পণ্যে বড় সম্ভাবনা

১৪

ছেলের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা

১৫

মুক্তির আগেই সাফল্যের দুয়ারে ‘ককটেল ২’

১৬

ইসরায়েলে ছোড়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেনি যুক্তরাষ্ট্র

১৭

নারী-পুরুষের বৈষম্য কমিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার : মঈন খান

১৮

অতিরিক্ত ফাউলের অভিনয় করলে বিশ্বকাপে দেখতে হবে হলুদ কার্ড

১৯

ছাত্রলীগ নেতা ডেবিট আটক

২০
X