

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে লিটারপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) আলফাডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে তেল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে লিটারপ্রতি ১৫৫-১৬০ টাকা দরে ডিজেল বিক্রির অভিযোগ করা হয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) একেএম রায়হানুর রহমানের কাছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিষয়টি জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
কৃষক বাকু শেখ বলেন, আমি বিভিন্ন বাজারে গিয়েছি কোন দোকানদার তেল আছে স্বীকার করে না, যদি বলি দাম যা হোক তেল দেন তখন বলে ১৬০ টাকা হলে দেওয়া যায়, আমি এসিল্যান্ড স্যারের সরকারি নম্বরে ফোন করে অভিযোগ দিয়েছি যে, গোপালপুর বাজারে ১৫৫ টাকা লিটার নিচ্ছে। তিনি শুনলেন কোনো ব্যবস্থা নিলেন না, আমরা তখন প্রায় ১০০ মানুষ দাঁড়িয়ে তার অপেক্ষায়।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে ও বাজারে গিয়ে জানা যায়, আলফাডাঙ্গা সদর বাজারে আশরাফ নামে এক বিক্রেতার বিরুদ্ধে ১৩০ টাকা দরে ডিজেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। হেলেঞ্চা বাজারে মঞ্জুর ১৫০ টাকা এবং হেলেঞ্চাহাটী কটুরাকান্দী মাদ্রাসা মোড়ে সেলিম খান ১৬০ টাকা, গোপালপুর বাজারে তুফান ১৬০ টাকা লিটার দরে ডিজেল বিক্রি করছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত নুর মৌসুমির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার হোয়াটসঅ্যাপে সব তথ্য পৌঁছে দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর অভিযান বা ব্যবস্থা দেখা যায়নি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট একেএম রায়হানুর রহমান বলেন, এই উপজেলায় কোনো লাইসেন্সধারী ডিলার নেই। খুচরা বিক্রেতা বেশি দামে ক্রয় করে সেটি বেশি দামে বিক্রয় করে। এখন যদি তাকে জরিমানা করি তাহলে তো কৃষক তেল পাবে না। আজকের পর থেকে কেউ বেশি দামে বিক্রয় করার তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির কারণে চাষাবাদে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। ট্রাক্টর ও সেচ পাম্পে তেল না পেয়ে অনেকেই জমি প্রস্তুত করতে পারছেন না। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত বাজার তদারকি জোরদার করে অভিযানে না নামলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে।