নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৮ এএম
অনলাইন সংস্করণ

দুই সন্তান, স্ত্রীকে নিয়ে উঠানেই শায়িত হাবিবুর

পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয় হাবিবুর, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে। ছবি : কালবেলা
পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয় হাবিবুর, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে। ছবি : কালবেলা

অবশেষে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার মধ্য দিয়ে দাফন করা হলো নৃশংসভাবে খুন হওয়া একই পরিবারের চারজনকে। বাবা-মায়ের পাশাপাশি রাখা হয়েছে ছোট্র দুই সন্তানকে। যেন মৃত্যুর পরও সকলেই এক সাথে থাকতে চায়। যে ঘরে ছিল হাসি, এখন তার উঠানেই হলো চারটি কবর।

বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলের দিকে স্তব্ধ হয়ে যায় নওগাঁর নিয়ামতপুরের পুরো জনপদ। একই পরিবারের চারটি প্রাণ নির্মমভাবে ঝরে যাওয়ার বেদনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে। ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পাশাপাশি শায়িত করা হয় সেই চারটি নিথর দেহ।

এর আগে নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার পর মরদেহগুলো গ্রামে আনা হলে সেখানে নেমে আসে এক আবেগঘন পরিবেশ। স্বজনদের আহাজারি, বুকফাটা কান্না আর গ্রামের মানুষের নিঃশব্দ শোক। সব মিলিয়ে ভারী হয়ে ওঠে চারদিকের বাতাস। শেষবারের মতো প্রিয়জনদের দেখতে ভিড় জমান কয়েক হাজার মানুষ। বাদ আসর জানাজা শেষে চোখের জ্বলে বিদায় জানানো হয় তাদের।

নিহতরা হলেন, বাহাদুরপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি সুলতানা, তাদের নয় বছরের শিশু পুত্র পারভেজ রহমান এবং তিন বছরের কন্যা সাদিয়া আক্তার। যে ঘরে ছিল হাসি, খেলাধুলা আর স্বপ্ন। সেই ঘর এখন নিস্তব্ধ, শূন্য।

গত সোমবার (২০ এপ্রিল) মধ্যরাতে ঘটে যায় এই পাশবিক হত্যাকাণ্ড। সম্পতি নিয়ে হাবিবুর রহমানের ভাগনা শাহিন, সবুজসহ কয়েকজন তাদের খুন করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। আপনজনের হাতেই নিজ ঘরে গলা কেটে হত্যার শিকার হয় দম্পতি ও তাদের নিষ্পাপ দুই সন্তান। এমন নৃশংসতায় হতবাক স্থানীয়রা। মানুষের মনে প্রশ্ন, কীভাবে এতটা নিষ্ঠুর হতে পারে মানুষ।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল বলেন, সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড। নিহত হাবিবুর রহমানের ভগ্নিপতি শহিদুল ইসলাম এবং ভাগনে শাহিন ও সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে ক্ষোভ থেকেই এই নির্মম সিদ্ধান্ত নেয় তারা।

এই ঘটনার পর শুধু একটি পরিবার নয়, যেন পুরো সমাজই আহত হয়েছে। যে সম্পর্কগুলো হওয়ার কথা ছিল ভালোবাসা আর বিশ্বাসের। সেখানেই জন্ম নিয়েছে হিংসা আর রক্তপাত। ছোট্ট দুই শিশুর নিষ্পাপ মুখ এখনো ভাসছে সবার চোখে, তাদের অকাল বিদায় যেন কেউ মেনে নিতে পারছে না।

নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানায়, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যুক্তরাষ্ট্রের বি-৫২ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৮

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা হলেও ইরানে শান্তি নিয়ে সংশয় কাটেনি

মহাখালী-তেজগাঁও সড়ক অবরোধ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ দলে ফিরলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার

আলুবোখারা চাষে বদলে যাচ্ছে পাহাড়ের কৃষি চিত্র

কাবা শরিফে পরানো হলো স্বর্ণখচিত নতুন গিলাফ 

আজকে স্বর্ণের বাজারদর

পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ / সিলেটে ট্রাফিক সপ্তাহ আসে-যায়, যানজট পরিস্থিতির পরিবর্তন হয় না

বিশ্বকাপ নায়ক থেকে রাতারাতি সোশ্যাল মিডিয়া তারকা কেপ ভার্দে গোলরক্ষক 

সাংবাদিক আবদুল হাই সিদ্দিকের বাবার মৃত্যুবার্ষিকী আজ

১০

সেই ওমরাহযাত্রীর মৃত্যু, মরদেহ পাঠানোর ব্যবস্থা করলেন ধর্মমন্ত্রী

১১

প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ভেষজ উদ্ভিদ সাদা মটমটিয়া

১২

সমতায় শেষ ইরান-নিউজিল্যান্ডের দুর্দান্ত লড়াই

১৩

আজকের নামাজের সময়সূচি

১৪

আমগাছে উঠে অনলাইনে হাজিরা দিলেন প্রধান শিক্ষক

১৫

পারদ গলল ইরান-যুক্তরাষ্টের, হিম হচ্ছেন নেতানিয়াহু?

১৬

এলাকাবাসীর সহযোগিতায় একের পর এক পুশইনচেষ্টা প্রতিহত বিজিবির

১৭

পিরোজপুরে মায়ের হাতে ছেলে খুন

১৮

দক্ষিণ লেবাননে ৩০ সেনা সদস্য হারাল ইসরায়েল

১৯

দুপুরে কাজ নিষিদ্ধ করল সৌদি সরকার

২০
X