রকি আহমেদ
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ০২:১৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
জবানবন্দিতে দোষ স্বীকার

রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যা ও নিজের পালিয়ে যাওয়ার বর্ণনায় যা জানালেন সোহেল

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ, নির্মমভাবে হত্যা ও নিজের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা আদালতে স্বীকার করেছেন মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটির যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষ আসামির এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি উপস্থাপন করে। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া এই জবানবন্দিতে সোহেল রানার সেই নৃশংসতার পুরো চিত্র উঠে এসেছে।

আজ বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এই যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু প্রথমবারের মতো আসামির জবানবন্দিটি প্রকাশ্যে পড়ে শোনান।

আদালতে দোষ স্বীকার করে সোহেল রানা তার জবানবন্দিতে বলেন, ‘আমার নাম সোহেল রানা। ওই বাসার তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকি। এ বাসার তিন তলায় তিনটি ফ্ল্যাটে তিনজন থাকে। সকালে তারা কাজে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। আমি নিয়মিত নেশা করি।’

ঘটনার বিবরণ দিয়ে সোহেল আরও বলেন, ‘পাশের বাসার ৮ বছরের শিশু রামিসা তাদের বাসার বাইরে এলে তাকে ডাক দিই। সে এলে তাকে বাথরুমে জোরপূর্বক নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করি। এরপর সে চিৎকার করলে মুখ চেপে ধরি। মুখে ওড়না বেঁধে আমি তাকে ধর্ষণ করি। এরপর সে অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে মৃত ভেবে রুম থেকে ছুরি আনি। লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে তার মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন করি। পরে হাত কেটে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করি। এ সময় শিশুটির মা খোঁজাখুঁজি করতে করতে দরজার বাইরে জুতা দেখে ডাকাডাকি শুরু করে। এতে আমি ভয় পেয়ে যাই। পরে সেলাইরেঞ্জ দিয়ে জানালার গ্রিল কেটে বাইরে পালিয়ে যাই।’

বর্তমানে আদালতে আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি চলছে। এর আগে শুনানি শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে আদালতে অসুস্থতা অনুভব করেন সোহেল রানার স্ত্রী ও মামলার অন্যতম আসামি স্বপ্না আক্তার। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়।

এর আগে গত মঙ্গলবার রামিসার বাবা, মা, বোন, স্বজন, প্রতিবেশী প্রত্যক্ষদর্শী ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই ফ্ল্যাটটিতে বসবাসকারী সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আদালতের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেছিল সোহেল।

কালবেলা/এমজে
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৫০তম বিসিএস / লিখিত পরীক্ষার ছয় হাজার ১৬৫ জন উত্তীর্ণ

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের সঙ্গে কমেছে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম

বিশ্বকাপ শেষ, ইউরো-কোপা আমেরিকা কবে কখন?

ভারত সরকারের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ককরোচ জনতা পার্টি

কমনওয়েলথ গেমস উপলক্ষে ‘গ্লাসগো’ এখন উৎসবের নগরী

পদ্মা ব্যাংকের ১৪১ পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত

গিফটি ফার্মা কাপ ২০২৬ / এক মঞ্চে দেশের ১২টি শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কোম্পানি 

‘গ্রামে চিকিৎসার অভাবে আর কোনো প্রাণ ঝরবে না’

রাস্তার ইট চুরির মামলায় কারাগারে ৪ জন

বিশ্বকাপে ‘পাতানো ম্যাচ’ নিয়ে ফিফার প্রতিবেদন প্রকাশ

১০

ফিলিস্তিনি বন্দি রাখা কারাগারের চারপাশে কুমিরের পরিখা খনন শুরু করেছে ইসরায়েল

১১

৫ বছরে ছানিজনিত অন্ধত্ব নির্মূলের ঘোষণা স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

১২

বিশ্ববাজারে কমলো স্বর্ণের দাম

১৩

ইকনকে লাখ টাকা দিল কৃষি ব্যাংক, সঙ্গে মাসব্যাপী ছুটি

১৪

১৮ হাজার মাখলুকাত বলা কি সঠিক? জানালেন ইসলামি স্কলার

১৫

বি-১ বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

১৬

গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের খবর জানিয়ে সিইসি-স্পিকারকে জামায়াতের চিঠি

১৭

বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ল বিরল ‘প্যারটফিশ’

১৮

বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার এখন কে

১৯

স্কুলছাত্রী ঝুমা হত্যায় আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১৯ কার্যদিবসে বিচার শেষ

২০
X