

২০২৬ বিশ্বকাপ মিশন শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে বড় জয় দিয়ে নিজেদের আত্মবিশ্বাস ঝালিয়ে নিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে আইসল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। ইনজুরি কাটিয়ে এই ম্যাচ দিয়েই মাঠে ফিরেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। আর ফেরার ম্যাচেই গোল করে দলের জয় উদযাপনের পাশাপাশি অনন্য এক রেকর্ড নিজের নামে করে নিয়েছেন এই মহাতারকা।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে এই জয় আর্জেন্টাইন শিবিরে দারুণ স্বস্তি জোগাচ্ছে। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম ‘টিওয়াইসি স্পোর্টস’-এর সঙ্গে আলাপকালে বিশ্বকাপ ধরে রাখার ব্যাপারে নিজের রোমাঞ্চ ও প্রত্যয়ের কথা জানান মেসি।
তিনি ভক্তদের আশ্বস্ত করে বলেন, ট্রফি জয়ের ক্ষুধা এই দলের একটুও কমেনি। এলএম টেন বলেন, ‘শুরু থেকেই ম্যাচটি উপভোগ করছিলাম। মাঠে নামার জন্য আমি ব্যাকুল ছিলাম, যদিও এখানে আসার পর থেকেই একটু অস্বস্তি (ইনজুরি) বোধ করছিলাম। তবে প্রতি মুহূর্ত উপভোগ করছি এবং বরাবরের মতোই আমি রোমাঞ্চিত। মাঠে নেমে খুব ভালো লেগেছে। খেলার ভেতর যে ভয়টা কাজ করছিল, সেটা কাটিয়ে মুক্তভাবে খেলতে পারাটা জরুরি ছিল। অভিষেক ম্যাচের আগে সবাইকে পুরোপুরি ফিট ও প্রস্তুত করার জন্য আমাদের হাতে এখনও এক সপ্তাহ সময় আছে।’ আর্জেন্টিনার আবারও বিশ্বসেরা হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে অধিনায়ক দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘বরাবরের মতোই, যেকোনো টুর্নামেন্ট, বিশেষ করে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে আমরা ভীষণ রোমাঞ্চিত থাকি। আমি আগেও বলেছি, এই দলটা কাউকেই হতাশ করবে না। তারা বছরের পর বছর ধরে যেকোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যেকোনো মঞ্চে লড়াই করে সেটা প্রমাণ করেছে। তাদের জেতার ইচ্ছা ও তাড়না আগের মতোই আছে। এটি একটি জয়ী দল, যারা সবসময় আরও বেশি কিছু অর্জন করতে চায়। আমরা বরাবরের মতো ধাপে ধাপে এগোব, তবে আমাদের ইচ্ছা, উদ্দীপনা ও নিজেদের ক্ষমতার ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে।’
ভক্তদের উদ্দেশে আবেগঘন এক বার্তায় মেসি বলেন, ‘এই দলটা বর্তমান সময়ে যা কিছু পাচ্ছে, তার সবটুকুরই যোগ্য। আমরা আগের মতোই আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, যাতে মানুষ নিশ্চিত থাকতে পারে যে আমরা আমাদের সবটুকু উজাড় করে দেব। আমি জাতীয় দলে থাকার সময় আমরা সবসময় এটাই করে এসেছি। কখনো ভাগ্য সহায় হয়, কখনো হয় না; তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা ইতিবাচক ফল পেয়েছি। কাজটা কঠিন, দিন দিন আরও কঠিন হচ্ছে, তবে আমরা এতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি এবং দেশের মানুষকেও অভ্যস্ত করেছি। আমরা আবারও সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করার চেষ্টা করব। সেটা শেষ পর্যন্ত হবে কি হবে না, তা ফুটবলই বলে দেবে। তবে এটুকু নিশ্চিত থাকুন, আমাদের হারানো যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই ভীষণ কঠিন হবে। কারণ, আমরা খুবই প্রতিযোগিতাপূর্ণ একটি দল।’
যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামার অবার্ন ইউনিভার্সিটির জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে মেসি খেলার ৬৯তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন। মাঠে নামার মাত্র ১১৯ সেকেন্ডের মাথায় পেনাল্টি থেকে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে দলের হয়ে স্কোরশিটে নাম তোলেন তিনি।
ম্যাচ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই নিজের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ম্যাচের কিছু ছবি শেয়ার করেন মেসি। সেখানে বিশ্বকাপের জন্য একটি আশাবাদী বার্তা দিয়ে ক্যাপশনে লেখেন, ‘চলো এগিয়ে যাই, আগের চেয়েও বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে।’
আলাবামার এই গোলটি ছিল আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির ১১৭তম গোল। আর এই গোলের মাধ্যমেই আলবিসেলেস্তেদের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ডটি নিজের করে নিলেন তিনি। ৩৮ বছর ১১ মাস ১৮ দিন বয়সে গোল করে মেসি ভেঙে দিয়েছেন অ্যাঞ্জেল লাব্রুনার রেকর্ড। এর আগে ১৯৫৭ সালে রকা কাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৩৮ বছর ৯ মাস ১০ দিন বয়সে গোল করে রেকর্ডটি গড়েছিলেন লাব্রুনা (যিনি ‘এল ফিও’ নামে পরিচিত ছিলেন)। দীর্ঘ ৬৯ বছর পর লাব্রুনার সেই কীর্তি ভেঙে নতুন ইতিহাস লিখলেন লিওনেল মেসি।