

সকাল থেকে বিকেল—কাটে ব্যাংকের ফাইলে, গ্রাহকের সেবায়। পেশায় জনতা ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। কিন্তু অফিসের সময়টুকু ফুরোলেই আশরাফ ব্যাকুল হয়ে ওঠেন পুরোদস্তুর একজন গল্পকার ও নির্মাতা। ব্যাংকের যান্ত্রিক জীবনের ফাঁকে তিনি খুঁজে ফেরেন সমাজের না বলা গল্প, আর সেই দায়বদ্ধতা থেকেই নিয়মিত নাটক নির্মাণ করে চলেছেন এই গুণী মানুষটি।
শৈশব থেকেই সংস্কৃতিচর্চার প্রতি ছিল প্রবল টান। কলেজজীবনে বন্ধু মিল্টন আহমেদের হাত ধরে ‘অন্বেষণ নাট্যগোষ্ঠী’তে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে মঞ্চনাটকে তার হাতেখড়ি। সেখানে নাটকের ভাষা ও দর্শন শিখতে শিখতেই একসময় উপলব্ধি করেন, টেলিভিশন নাটকে গল্প ও ভাবনার জায়গায় বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে। সেই শূন্যতা পূরণ করতেই কলম হাতে নেন, বসেন পরিচালকের আসনে।
তার নির্মিত প্রথম নাটক ‘জোসনার বিয়ে’। এরপর একে একে নির্মাণ করেন ‘বড় মেয়ে’, ‘সুখের সংসার’, ‘দুই বোন’ এবং ব্যাপক আলোচিত নাটক ‘কোহিনুর চেয়ারম্যান’।
তারকা নয়, গল্পই মূখ্য মিডিয়ার প্রচলিত স্রোতের বিপরীতে হাঁটতে পছন্দ করেন আশরাফ ব্যাকুল। তার নাটকে সস্তা রোমান্স বা তথাকথিত ‘হিরো-হিরোইন’ কালচারের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় পরিবার, দায়িত্ববোধ ও সামাজিক টানাপড়েন।
ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি অকপটে বলেন, ‘এখানে গল্পের চেয়ে জুটি বা তথাকথিত হিরো-হিরোইন ধারণাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। অথচ প্রকৃত অর্থে গল্প যিনি বহন করেন, তিনিই হিরো—সে নারী হোক বা পুরুষ।’
নতুন বছরে নতুন চমক ২০২৬ সালের শুরুতেই দর্শকদের জন্য একগুচ্ছ নতুন কাজ নিয়ে আসছেন আশরাফ ব্যাকুল। ইউটিউবে মুক্তির অপেক্ষায় আছে ‘মা মনি’, ‘ফুলশয্যা’ এবং দর্শকপ্রিয় নাটকের সিক্যুয়েল ‘কোহিনুর চেয়ারম্যান-২’।
নির্মাতা জানান, ‘মা মনি’ নাটকে একজন সিঙ্গেল মাদারের জীবনসংগ্রাম এবং অসুস্থ সন্তানকে বাঁচানোর লড়াই তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে ‘কোহিনুর চেয়ারম্যান-২’-এ সমসাময়িক রাজনীতির ভিড়ে জনকল্যাণমূলক রাজনীতির আদর্শকে ফোকাস করা হয়েছে।
ব্যাংকের চার দেয়ালের গণ্ডি পেরিয়ে আশরাফ ব্যাকুল প্রমাণ করে চলেছেন—জাঁকজমক বা গ্ল্যামার নয়, শেষ পর্যন্ত একটি ভালো গল্পই দর্শককে ধরে রাখে। দর্শকদের প্রতি তার আহ্বান, ‘ভালো গল্পের নাটক বেশি করে দেখুন, তবেই নির্মাতারা মানসম্মত কাজ করতে উৎসাহ পাবেন।’
মন্তব্য করুন