কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৬ এএম
আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩১ এএম
অনলাইন সংস্করণ

নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খেলে বার্ধক্যেও ভালো থাকবে স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা: গবেষণা

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিন মাত্র নয় ঘণ্টার মধ্যে খাবার ও হালকা নাশতা খাওয়া এবং ঘুমানোর অন্তত চার ঘণ্টা আগে খাবার গ্রহণ বন্ধ রাখলে বার্ধক্যে স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা হ্রাসের ঝুঁকি কমতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় আক্রান্ত বয়স্ক নারীদের ওপর পরিচালিত একটি প্রাথমিক (পাইলট) গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে খাবার খেয়েছেন, তাদের মানসিক দক্ষতার কিছু ক্ষেত্রে উন্নতির ইঙ্গিত মিলেছে। অন্যদিকে যারা দীর্ঘ সময়জুড়ে খাবার গ্রহণ করেছেন, তাদের তুলনায় এই উন্নতি বেশি ছিল।

গবেষকরা বলছেন, গবেষণাটি ছোট পরিসরে হওয়ায় এটিকে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাবে না। তবে বড় পরিসরের গবেষণায় একই ফল পাওয়া গেলে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাবার খাওয়া এবং রাতে দেরি করে না খাওয়া মানুষের জ্ঞানীয় সক্ষমতা (কগনিটিভ অ্যাবিলিটি) রক্ষায় কার্যকর হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিজ্ঞানী অধ্যাপক সু শ্যাপস বলেন, শুধু ওজন কমালেও বার্ধক্যে জ্ঞানীয় অবনতি ধীর হতে পারে। তবে যারা প্রতিদিন আট থেকে নয় ঘণ্টার মধ্যে খাবার খান এবং ঘুমানোর চার ঘণ্টা আগে খাওয়া বন্ধ করেন, তারা অতিরিক্ত উপকার পেতে পারেন।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে মৃত্যুর প্রধান কারণ ডিমেনশিয়া। বিশ্বব্যাপী এটি মৃত্যুর সপ্তম প্রধান কারণ। প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এ রোগে। বয়স ও বংশগতির মতো কিছু ঝুঁকি এড়ানো না গেলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি প্রতিরোধ বা বিলম্বিত করা সম্ভব। মধ্যবয়সে স্থূলতা থাকলে পরবর্তী জীবনে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়।

এই গবেষণায় ৫০ থেকে ৭৯ বছর বয়সী অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় আক্রান্ত ৪৭ নারীকে ছয় মাস ধরে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা থেকে ৫০০ ক্যালরি কমাতে বলা হয়।

এর মধ্যে ২৬ জনকে প্রতিদিন মাত্র নয় ঘণ্টার মধ্যে খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে খাবার গ্রহণ করেন। অন্যদিকে বাকি অংশগ্রহণকারীরা প্রায় ১২ ঘণ্টাজুড়ে খাবার খেয়েছেন।

ছয় মাস শেষে উভয় দলেরই গড়ে প্রায় ৭ কেজি (১৫ পাউন্ড) ওজন কমে। তবে জ্ঞানীয় সক্ষমতা যাচাইয়ের পরীক্ষায় দেখা যায়, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে খাবার খাওয়া ব্যক্তিরা স্থানিক পরিকল্পনা (স্পেশিয়াল প্ল্যানিং) ও সমস্যা সমাধানের পরীক্ষায় তুলনামূলক ভালো ফল করেছেন।

এছাড়া স্মৃতিশক্তি ও শেখার দক্ষতার পরীক্ষায়ও তারা তুলনামূলক কম ভুল করেছেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে একসঙ্গে একাধিক কাজ করা (মাল্টিটাস্কিং) এবং প্রতিক্রিয়া জানানোর গতির পরীক্ষায় দুই দলের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য দেখা যায়নি।

অধ্যাপক সু শ্যাপস এসব পরিবর্তনকে ‘মধ্যম মাত্রার’ বলে উল্লেখ করলেও তার মতে, সময় নির্ধারণ করে খাবার খাওয়ার অভ্যাস মানুষের দৈনন্দিন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য মনে রাখতে সাহায্য করতে পারে এবং স্মৃতি, মনোযোগ ও সমস্যা সমাধানের সঙ্গে সম্পর্কিত ভুল কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষণার ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত নিউট্রিশন ২০২৬ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা আমেরিকান সোসাইটি ফর নিউট্রিশন-এর বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন।

এখন গবেষকরা খতিয়ে দেখতে চান, আমরা কী খাই তার পাশাপাশি কখন খাই, সেটিও কেন গুরুত্বপূর্ণ। তাদের ধারণা, শরীরের জৈবিক ঘড়ি (সার্কাডিয়ান রিদম), বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) এবং প্রদাহের (ইনফ্ল্যামেশন) পারস্পরিক সম্পর্ক এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশে মানুষ সাধারণত প্রায় ১৪ ঘণ্টাজুড়ে খাবার খায়। ফলে রাতে খাবার ছাড়া সময় থাকে মাত্র ১০ ঘণ্টা। তবে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, রাতের উপবাসের সময় বাড়ালে স্বাস্থ্যের নানা উপকার পাওয়া যায়।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনা গবেষণায় দেখা গেছে, সন্ধ্যা ৭টার আগে রাতের খাবার শেষ করলে শরীরের ওজন, বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই), কোমরের মাপ, রক্তচাপ এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সূচকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়।

গবেষণায় অংশ নেওয়া কিংস কলেজ লন্ডনের পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ওয়েন্ডি হল বলেন, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে খাবার গ্রহণ মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।

তিনি বলেন, মধ্যবয়সী ও অতিরিক্ত ওজনের বয়স্ক ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষায় সময় নির্ধারণ করে খাবার খাওয়া একটি সম্ভাবনাময় পদ্ধতি। এটি শুধু ওজন নিয়ন্ত্রণেই সহায়তা করে না, বরং রাতে ভারী খাবার এড়িয়ে চললে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, রক্তনালির কার্যকারিতা এবং প্রদাহের মাত্রাও উন্নত হতে পারে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এ গবেষণার ফল এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের। গবেষণাটি সমীক্ষিত (পিয়ার-রিভিউড) বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত হওয়ার পরই বোঝা যাবে, পর্যবেক্ষণ করা উন্নতিগুলো চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

কালবেলা/ওয়াইএ/এমএসকেএম
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এফআইসিসিআই এফডিআই সম্মেলনে বিসিএসআইআরের সঙ্গে যৌথ উদ্ভাবন তুলে ধরল নেসলে বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়াজুড়ে মোবাইলে বেজে উঠল নতুন জাতীয় জরুরি সতর্কবার্তা

দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে ক্লাসরুমে ওয়াসিফা, ভালোবাসায় বরণ করল বন্ধুরা

ইরানে হামলা বন্ধের ‘আসল কারণ’ জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

দেশের বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম

পাহাড়িয়াপাড়ার মাটির স্কুল, কাদা পেরিয়ে স্বপ্নের পাঠশালা

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের মামলা / হাসিনা-বেনজীর-আজিজসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

এসএমসিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন করতে পারবেন নতুনরাও

চট্টগ্রামে শুরু হচ্ছে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার কাজ, লাখো কর্মসংস্থানের আশা

রাইড শেয়ারিংয়ে বাড়তি ভাড়ার খড়্গ, প্রতিকারে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর

১০

যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে গুলিতে নিহত ২, আহত ৫

১১

আলফাডাঙ্গায় রোটারি ক্লাব অব ঢাকা লুমিনাসের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

১২

কালবেলায় সংবাদ প্রকাশ / শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো নীলার

১৩

এক বছর পর আবার চালু ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট

১৪

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হতাহতের সংখ্যা জানাল পেন্টাগন

১৫

ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে প্রাণ গেল সাবেক ছাত্রদল নেতার

১৬

কমার পর আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ

১৭

ঢালাইয়ের পরই সেতুর পাটাতনে ধস, তদন্তে ২ কমিটি

১৮

বিকেলে পর্দা নামছে নতুন কুঁড়ির প্রথম আসরের, পুরস্কার দেবেন প্রধানমন্ত্রী

১৯

বক-পানকৌড়ির কলতানে সন্ধ্যা নামে যে গ্রামে

২০
X