কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০২:২১ এএম
আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:২৭ এএম
অনলাইন সংস্করণ

দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন সাবেক আইজিপি মামুন

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমা চেয়েছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১-এর সাক্ষীর ডায়াসে দাঁড়িয়ে অশ্রুসজল চোখে গণহত্যার শিকার প্রত্যেক পরিবার, আহত ব্যক্তিবর্গ, দেশবাসী ও ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা চান তিনি। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য তিনি ক্ষমা চান।

মামুনের জবানবন্দি রেকর্ড করেন ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে ৩৬ নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন সাবেক এই পুলিশপ্রধান।

জবানবন্দিতে আইজিপি মামুন বলেন, আমি ৩৬ বছর পুলিশে চাকরি করেছি। পুলিশের চাকরি খুবই ‘ট্রিকি’ চাকরি। সবসময় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে। কিন্তু চাকরি জীবনে আমার বিরুদ্ধে কখনো কোনো অভিযোগ আসেনি। আমি যথেষ্ট মানবিকতা ও সচেতনতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। তবে চাকরি জীবনের শেষ পর্যায়ে এত বড় গণহত্যা আমার দায়িত্বে থাকতে সংঘটিত হয়েছে। এর দায় আমি স্বীকার করছি। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নির্দেশে এই গণহত্যা সংঘটিত হয়।

তিনি বলেন, গণহত্যার শিকার প্রত্যেক পরিবার, আহত ব্যক্তিবর্গ, দেশবাসী ও ট্রাইব্যুনালের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমাকে দয়া করে ক্ষমা করবেন। এ সময় তিনি আবেগপ্রবণ ও অশ্রুসজল হয়ে পড়েন।

সাবেক এই আইজিপি বলেন, আমার এই সত্য ও পূর্ণ বর্ণনার মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন হলে আল্লাহ যদি আমাকে আরও হায়াত দান করেন বাকি জীবনটা কিছুটা হলেও অপরাধবোধ থেকে মুক্তি পাব।

রাজসাক্ষী আরও বলেন, বৈষম্যরিবোধী আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে সরকারের আদেশে ছাত্র-জনতার ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করে আহত-নিহত করায় পুলিশপ্রধান হিসেবে আমি লজ্জিত-অনুতপ্ত ও ক্ষমাপ্রার্থী। যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড হয়েছে এজন্য অপরাধবোধ ও বিবেকের তাড়নায় আমি রাজসাক্ষী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

ট্রাইব্যুনালে আজ প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যরা।

এদিকে ১১তম দিনের মতো মঙ্গলবার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। তবে জেরার জন্য বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা / আজকের চুক্তি মোজতবা খামেনির কাছে ট্রাম্পের আত্মসমর্পণ

ঘরে ঢুকে নৃশংসভাবে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, নেপথ্যে কী?

নবম পে-স্কেলে সুখবর: দ্বিগুণ হচ্ছে পেনশন, বাড়ছে বিভিন্ন ভাতা

রামিসা হত্যা মামলা / মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২ আসামির জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করলেন হাইকোর্ট

বেদে পল্লীতে এসি-সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে মাদক ব্যবসায়ীর রাজকীয় জীবনযাপন

উদ্বোধনী ম্যাচে ড্র, ব্রাজিলের জন্য বড় অশনি সংকেত!

কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার

প্রাথমিকের পরীক্ষায় ফি নির্ধারণ

নোয়াখালীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিল ছাত্রলীগ

নেইমারের সেই জার্সি পরেই মাঠে ছিলেন সাকিব

১০

নলকূপ বসাতে গিয়ে ২ শ্রমিকের মৃত্যু

১১

মমেক হাসপাতালে হাম ও হাম উপসর্গে শিশু মৃত্যু বেড়ে ৫১

১২

সীমান্তে বিজিবির গুলিতে ভারতীয় চোরাকারবারি আহত

১৩

একাই লড়েছেন ভিনিসিয়ুস / মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের অধিকাংশই ছিলেন নিষ্প্রভ

১৪

স্বর্ণ ও রুপার আজকের বাজারদর

১৫

কেনেডি সেন্টার থেকে সরানো হলো ট্রাম্পের নাম

১৬

৩৬ বছরের আক্ষেপ মোচন / বিশ্বমঞ্চে জয়ের হাসি ফিরল স্কটল্যান্ডের মুখে

১৭

জাবির বাসে নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্থা, ছাত্র বহিষ্কার

১৮

প্রথম স্ত্রীর ‘বাড়িতে যাতায়াত’ নিয়ে বিরোধে প্রাণ দিলেন দ্বিতীয় স্ত্রী

১৯

হরমুজের কাছে ১৪১টি জাহাজ ঘুরিয়ে দিয়েছে সেন্টকম

২০
X