কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৭:৩৯ পিএম
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১১:১০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশকে পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে : বিএসপিপি

বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের (বিএসপিপি) লোগো। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের (বিএসপিপি) লোগো। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের (বিএসপিপি) আহ্বায়ক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন ও সদস্য সচিব সাংবাদিক কাদের গনি চৌধুরী ঢাকা কোর্টে আইজীবীদের শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় পুলিশি হামলায় অর্ধশতাধিক আইনজীবী আহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, বিচারালয়ে আইনজীবীদের ওপর এমন ন্যক্কারজনক হামলা সভ্য সমাজে কল্পনাও করা যায় না।

আজ মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।

পেশাজীবী নেতৃদ্বয় আইনজীবীদের শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় হামলাকারি পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

বিবৃতিতে বিএসপিপি নেতৃদ্বয় বলেন, ব্যর্থ সরকারের পদত্যাগ, বিএনপি চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী, মাদার অব ডেমোক্রেসি,দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে প্রেরণ, এবং স্বঘোষিত `শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ’ বিচারপতিদের পদত্যাগের দাবিতে বিজ্ঞ আইনজীবীরা আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সামনে জড়ো হন।এরপর সরকার বিরোধী আইনজীবীদের মোর্চা ইউনাইটেড ল’ইয়ার্স ফোরামের (ইউএলএফ) উদ্যোগে পদযাত্রা শুরু হয়। ঢাকা বার ভবন থেকে আইনজীবীদের পদযাত্রা প্রধান সড়কে প্রবেশ করলে সরকারের লেলিয়ে দেয়া পুলিশ সদস্যরা আইনজীবীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। নারী আইনজীবীরাও পুলিশের লাঠিপেটা থেকে রেহাই পায়নি।

পেশাজীবীদের এই দুই নেতা বলেন, সরকার দেশ থেকে আইনের শাসন নির্বাসনে দিয়ে মগের মুল্লুক কায়েম করেছে। দেশকে পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে। পুলিশের দায়িত্ব হচ্ছে মানুষকে নিরাপত্তা দেয়া। অথচ পুলিশের হাতেই এখন মানুষের জীবন অনিরাপদ। রাষ্ট্রীয় এ বাহিনীকে ফ্যাসিস্ট সরকার দলীয় ঠেঙ্গারে বাহিনীতে পরিণত করেছে। আমরা জানি পুলিশ বাহিনীর মূল দর্শন ‘দুষ্টের দমন শিষ্টের লালন’। এই মূলমন্ত্র নিয়েই পৃথিবীতে পুলিশ বাহিনী সৃষ্টি করা হয়েছে, যার সদস্যরা কেবল জনসাধারণের কল্যাণে নিবেদিত থাকবে। অথচ আমরা এখন দেখছি পুরো উল্টো চিত্র। পুলিশের সামনেই সরকারি দলের অস্ত্রধারীরা ঘুরে বেড়ায় পুলিশ তাদের ধরে না। আর বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের বিনা কারণে ধরে এনে হত্যা করছে। শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশে গুলি করে বুক ঝাঁঝরা করে দিচ্ছে। আইনজীবীরাও রেহাই পাচ্ছে না। দেশে অব্যাহত গুম,খুনের সঙ্গেও আজ রাষ্ট্রীয় এবাহিনী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

দেশকে পুরোপুরি পুলিশী রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে উল্লেখ করে পেশাজীবী নেতৃদ্বয় বলেন, ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রে শাসক দল তার শাসন কাজ পুলিশ বাহিনীর ওপর নির্ভর করে ইচ্ছামতো স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব নিয়ে পরিচালনা করে।এ ধরনের রাষ্ট্রে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশে বাধা দেয়া, ভিন্ন মতাদর্শের রাজনীতি সীমিত এবং সিক্রেট পুলিশ দ্বারা বিরোধী রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বাংলাদেশ আজ এর ব্যতিক্রম নয়। জার্মানির হিটলার, চিলির ফ্যাসিস্ট অগাস্টো পিনোচেটের মতো আজ শেখ হাসিনা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য পুলিশ ও র‍্যাবকে ব্যবহার করে এক ভয়ঙ্কর ও বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি করেছে। হিটলার জার্মানির জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যে নাজি পুলিশ গঠন করেছিল, তাদের আচরণ ছিল ভয়ংকর। কেউ তার কৃতকর্ম সম্পর্কে টুঁ শব্দটি উচ্চারণ করতে পারত না। বাংলাদেশেও আজ একই কায়দায় পুলিশী নির্যাতন চলছে। ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা পুলিশি রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত ছিল। তখন দেশটির জনগণ ছিল পুরোপুরি অবরুদ্ধ।সরকারের বিরুদ্ধে তাদের কথা বলা দূরে থাক, স্বাভাবিকভাবে চলাচলও করতে পারত না। তাদের অধিকার বলে কিছু ছিল না। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা ছিল দূরাশা মাত্র। যারাই সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলত, তাদের গণহারে গ্রেফতার করে জেলে ঢুকানো হতো। এসবই করা হতো পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করে। যা এখন বাংলাদেশে অহরহ হচ্ছে। চিলিতে ফ্যাসিস্ট অগাস্টো পিনোচেট-এর শাসনামলে রাজনৈতিক আন্দোলন করার কথা কেউ চিন্তাও করতে পারত না। ঠারেঠুরে যে কথা বলবে তারও কোনো সুযোগ ছিল না, বাংলাদেশ সরকার এখন সে পন্থা অবলম্বন করছে। লেখলে জেল,সমালোচনা করলে জেল, সভা-সমাবেশে বাধা,মিছিলে গুলি করে হত্যা, রাতের আঁধারে গুম-ক্রসফায়ার, ফরমায়েশি সাজা, গায়েবি মামলা,দিনের ভোট আগের রাতে সম্পন্ন করে ক্ষমতা দখল, অন্যায়ের প্রতিবাদ মানেই চৌদ্দ শিখের ভাত। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার এখন হিটলার, অগাষ্টোকেও হার মানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান সরকারের অন্যায়, অবিচার ‍ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে পারছে না। দেশের কোথাও রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে দেয়া হচ্ছে না। কেউ প্রতিবাদ করলে হামলা, মামলা ও গুমের স্বীকার হতে হচ্ছে। আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে দেশে এক ভয়ঙ্কর পরিবেশ বিরাজ করছে। সরকার দেশের মানুষের বাক স্বাধীনতা রোধ করে দেশে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে।সুশাসনের পরিবর্তে আজ দানবীয় শাসন চলছে। দেশের মানুষ আজ এমন শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চায়। জনগণের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে আমরাও ব্যর্থ সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কেরানীগঞ্জে সপ্তাহব্যাপী অভিযানে চোর-ছিনতাইকারীসহ গ্রেপ্তার ৭৪১

জামায়াত নেতাকে হত্যার পর মরদেহ পোড়ানোর চেষ্টা, কারণ জানাল পুলিশ

ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার 

জিআই সনদ পেল মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড়

পিছিয়ে পড়া চা শ্রমিকদের ব্যাপারে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী

আর্জেন্টিনার সমর্থককে এআই দিয়ে ব্রাজিলের জার্সি পরানোয় থানায় অভিযোগ

আইডিআরএর প্রথম নারী চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন

একই পরিবারে যুবদল, এনসিপি ও যুবলীগের তিন নেতা

আইডা অ্যাওয়ার্ডসে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের গৌরব শুভ্র ও রিমন

টেক্সটাইল খাতে বৈশ্বিক কমপ্লায়েন্স ও টেকসই উৎপাদনে দক্ষতা বাড়াতে বিইউবিটিতে সেমিনার

১০

নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে গুলি, গ্রেপ্তার অর্ধশতাধিক

১১

মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন দিন, সংসদে প্ল্যাকার্ড তুললেন এমপি

১২

ভারতে যাচ্ছে রাজ রিপার প্রথম সিনেমা 'ময়না'

১৩

বিকেএসপিতে ক্রীড়া চিকিৎসা ও পুনর্বাসন বিষয়ক ৩ দিনব্যাপী সেমিনার শুরু

১৪

মহররমের চাঁদ দেখা গেছে, জানা গেল আশুরা কবে

১৫

রাজশাহীর কালাই রুটিতে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত

১৬

রাশিয়া-ইউক্রেনকে শান্তিচুক্তির আহ্বান ট্রাম্পের

১৭

জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হলেন আফরোজা আব্বাস

১৮

নির্বাচনী ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মমতা ব্যানার্জী

১৯

ভারতীয় টমেটো আমদানির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ

২০
X