

ভয়ভীতি, হুমকিধামকি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ম খা আলমগীরসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির অব বাংলাদেশের (ইইউবি) পক্ষে মামলাটি করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক পরিচালক লুৎফর রহমান।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর ছাড়াও আসামি করা হয়েছে, মহিউদ্দিন খান আলমগীরের সাবেক পিএস ফারজানা আলম, ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির সাবেক ভিসি মকবুল আহমেদ খান, ওয়াসিউজ্জমান লেলিন ( কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি), এম এইচ খান মঞ্জু (বহিস্কৃত বিএনপি নেতা), মশিউর রহমান, ইমরান মিয়া, মেহেদি হাসান, ইমরান, রফিকুল ইসলাম, মনির হোসেন, মুন্সি আব্দুর রহমান, মামুন ডাকুয়া। এছাড়া অজ্ঞাতনামা করে আরো ৩০/৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে অনধিকার প্রবেশ করে বাদি ও সাক্ষীকে নানাভাবে ভয়ভীতি হয়রানি করে আসছে। আসামিরা পরস্পরের যোগসাজসে বাদি ও সাক্ষীগণকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে।
অভিযোগে আরো বলা হয়, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। আসামি ফারজানা আলম ও সাবেক ভিসি মকবুল আহমেদ খান আওয়ামী লীগের দোসর ও মহিউদ্দিন খান আলমগীরের ব্যবসায়ীক পার্টনার। ৪ নম্বর আসামি ওয়াসিউজ্জমান লেলিন কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি, অন্য আসামিরা ভাড়াটে সন্ত্রাসী।
মামলার বাদী লুৎফর রহমান জানান, আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা অমান্য করে বহিরাগত সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (ইইউবি) দখলের চেষ্টা করছেন সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মকবুল আহমেদ খান। ২২ জানুয়ারি দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত ইইউবি ক্যাম্পাসে বহিরাগত একদল সন্ত্রাসী নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে আসামি মকবুল আহমেদ। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান চেয়ারম্যান আহমেদ ফরহাদ খান তানিমের কক্ষের সামনে থাকা নেমপ্লেট খুলে নিয়ে যায় তারা। এতে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গত ২২, ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি টানা তিন দিন এ সংক্রান্ত হামলা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ক্যাম্পাসের সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির আইনজীবী ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান জানান,২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ সিভিল রিট পিটিশন নং ৪০৩৫/২৫ মামলার রায়ে ড. মকবুল আহমেদ খানকে একা ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি দেন হাইকোর্ট। বয়সজনিত কারণে প্রয়োজনে একজন সহযোগী সঙ্গে নিতে পারবেন বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়। তবে দলবল বা বহিরাগত লোকজন নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। নির্দেশনা অমান্য করলে আদালত অবমাননার আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেই রায় উপেক্ষা করেই মকবুল আহমেদ খান বহিরাগত সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ক্যাম্পাস দখলের চেষ্টা করেন। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে তার অনুসারী ও তথাকথিত ‘পেকুয়া বাহিনী’সহ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থান করতে দেখা যায়।
তিনি আরো জানান, ২২ জানুয়ারি, দুপুর ১টা ২২ মিনিটে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম আহমেদ একদল বহিরাগত ব্যক্তিকে নিয়ে ক্যাম্পাসের সামনে উপস্থিত হন। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা রাকিব, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন জয়, মেহেদী হাসান, ইমরান সামির, মেহেরাব হোসেন সৌরভসহ শতাধিক বহিরাগত ব্যক্তি। দুপুর ১টা ৩৯ মিনিটে হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত স্থানীয় সন্ত্রাসী সান্তনু হোসেন রুবেল ওরফে ‘পটেটো রুবেল’ ঘটনাস্থলে এসে মকবুল আহমেদ খানের সঙ্গে যোগ দেন। এরপর তারা একত্রে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়। এতে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে পড়ে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুই দিনের জন্য শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ঘটনার পর দারুস সালাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে জিডি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত।
মন্তব্য করুন