কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি : সংগৃহীত
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি : সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার দায়িত্ব পালনকালে, বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সহযোগিতার জন্য সেনাবাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ প্রদানকালে তিনি এ ধন্যবাদ জানান।

সেনাবাহিনীকে উদ্দেশ্য করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী এক উত্তাল সময়ে দেশকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সৈন্যরা যে ধৈর্য, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন, তার জন্য দেশবাসীর পক্ষ থেকে আমি তাদের প্রত্যেককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, ‘যখনই কোনো সংকটময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তখনই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব আমাদের আহ্বানে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দিয়েছেন এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এই পারস্পরিক দায়িত্ববোধ ও সংযমই দেশকে অস্থিরতার পথ থেকে স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হয়েছে।’

বিগত স্বৈরশাসনামলের কথা তুলে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, স্বৈরাচারের ১৬ বছরে এদেশের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা যে ভয়াবহ নিপীড়ন, মামলা-হামলা, গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। এটি আমাদের জাতির জন্য এক গভীর ও বেদনাদায়ক শিক্ষা। এই অভিজ্ঞতা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়-যাতে ভবিষ্যতে আর কখনো কোনো জালেম মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত না হয়, শত শত আয়নাঘর সৃষ্টি না হয়, বিচারবহির্ভূত হত্যা ফিরে না আসে। সেজন্য কেবল রাজনৈতিক অঙ্গীকারই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মৌলিক ও গভীর সংস্কার। এই উপলব্ধি থেকেই অন্তর্বর্তী সরকার তার সংস্কার কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।

তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৬ বছরের নিপীড়ন ও জুলাইয়ের রক্তাক্ত স্মৃতি এখনো আমাদের মাঝে তাজা হয়ে আছে। যারা ভয়াবহ নিপীড়ন ও নির্যাতন চালিয়েছে তাদের বিচার করা এবং যেন আর কেউ এ ধরনের দুঃশাসন কায়েম করতে না পারে সেটা নিশ্চিত করা আমাদের গুরুদায়িত্ব।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিচার একটা চলমান প্রক্রিয়া। একাধিক ট্রাইবুনাল বর্তমানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যেই একাধিক মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফ্যাসিবাদের সময়ে দেশে যে গুমের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল সেই ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচারও শুরু হয়েছে। বেশকিছু মামলার বিচারিক কার্যক্রম এখন শেষের পথে। আমরা আশা করছি, আগামী দিনগুলোতেও বিচারিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছতার সঙ্গে এগিয়ে যাবে।

জুলাই সনদের গুরুত্ব সম্পর্কে বোঝাতে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন জুলাই সনদ, যার ভিত্তিতে গণভোটে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত দিয়েছে দেশের মানুষ। জুলাই সনদের বাস্তবায়ন হলে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথগুলো চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। আশা করব এটা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়ন হবে।

অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ছোটবড় ভালোমন্দ অনেক কথা ভুলে গেলেও জুলাই সনদের কথা জাতি কখনো ভুলবে না।

জুলাই সনদে রচনা এবং গণভোটে পাশ করানোর জন্য সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, অধিকার রক্ষা প্রতিষ্ঠান যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে তাদের সবাইকে অভিনন্দন জানান প্রধান উপদেষ্টা।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ভূমিমন্ত্রীর

কাপ্তাই সড়ক অবরোধ, উত্তেজনা

বিশ্বকাপে নামার আগেই ইংলিশ ফুটবলারদের বুট চুরি

ধর্ষণের অভিযোগের পর সেই শিবির নেতা বহিষ্কার

ইরাক-ইরান সীমান্তে ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল মায়সান

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাশে বসিয়ে গাড়ি চালালেন প্রধানমন্ত্রী

দিনেদুপুরে যুবদল নেতা মাসুদকে গুলি করে হত্যা

বাজেট ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব : চিটাগাং চেম্বার সভাপতি

শুধু ১৪০ নয়, ২২০ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে : তথ্যমন্ত্রী

আপত্তিকর ভিডিও, নারী প্যানেল চেয়ারম্যানকে অব্যাহতি

১০

নাঈমকে হেনস্থা, প্রতিবাদে সরব সতীর্থরা

১১

ধর্ষণ মামলায় শিবিরের সেই কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার

১২

ক্যানসারের ওষুধের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াল ভারত

১৩

আনসার-ভিডিপিতে জাপানিজ ভাষা শিক্ষার সুযোগ

১৪

বড় বিভ্রাটের কবলে ফেসবুক, কী ঘটেছিল সেই এক ঘণ্টায়

১৫

নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, যুবদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

১৬

ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ৬১

১৭

ফ্রান্স ও স্লোভাকিয়া সফরে গেলেন মোদি

১৮

শহরের মতো হয়ে গেছে গ্রাম, বদলে যাচ্ছে নগরের সংজ্ঞা

১৯

গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’র অগ্রণী ভূমিকা

২০
X