কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
আপডেট : ০৮ জুন ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
হামে শিশু মৃত্যু

ড. ইউনূসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে এমপির মামলার আবেদন খারিজ

বাম থেকে মজিবুর রহমান ইকবাল, ড. মুহাম্মদ ইউনূস, নূর জাহান বেগম, মো. সাইদুর রহমান, অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান ও অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর। গ্রাফিক্স : কালবেলা
বাম থেকে মজিবুর রহমান ইকবাল, ড. মুহাম্মদ ইউনূস, নূর জাহান বেগম, মো. সাইদুর রহমান, অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান ও অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর। গ্রাফিক্স : কালবেলা

হামে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামের ভ্যাকসিন যথাসময়ে আমদানি না করার অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৮ জুন) সকালে ঢাকা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জসিতা ইসলামের আদালতে এ মামলার আবেদন করেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান ইকবাল। শুনানি শেষে আদালত আদেশের জনৌর অপেক্ষমাণ রাখেন। পরে মামলাটি গ্রহণ করার কোনো উপাদান না থাকায় তা খারিজ করার আদেশ দেন আদালত। সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম কালবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় আরও যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তারা হলেন— স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. সাইদুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা উচ্চশিক্ষিত ও নোবেল বিজয়ী হলেও তার দায়িত্বে চরম অবহেলা ও উদ্দেশ্যমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে এ দেশের শত শত শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার শিশুর জীবন বিপন্ন হয়েছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনা হত্যাকাণ্ডের শামিল।

মামলার অন্যান্য আসামিরা তৎকালীন সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দায়িত্বে অবহেলা করে এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে হামের ভ্যাকসিন যথাসময়ে আমদানি না করে শাস্তিযোগ্য ও অমানবিক অপরাধ করেছেন। এতে রাষ্ট্রের নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা এবং তাদের মৌলিক অধিকার হরণের মতো ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই শিশুদের বিভিন্ন সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সরকারিভাবে টিকা দেওয়া হয়। এর মধ্যে হাম-রুবেলা টিকা অন্যতম। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত এই টিকা প্রদানের ফলে বিশ্বব্যাপী হাম ও রুবেলায় মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।

অভিযোগে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার শুরু থেকেই ইউনিসেফের মাধ্যমে হাম-রুবেলাসহ বিভিন্ন টিকা আমদানি করে আসছিল। কিন্তু ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ইউনিসেফের মাধ্যমে হাম-রুবেলা টিকা আমদানি বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেই প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় টিকা সংকট তৈরি হয়।

আবেদনে দাবি করা হয়, ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স ২০ মে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে জানান, হাম-রুবেলা টিকার সম্ভাব্য সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। এছাড়া টিকা আমদানির বিদ্যমান ব্যবস্থা বন্ধ না করার অনুরোধও জানানো হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিক বৈঠকেও সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্টরা তা আমলে নেননি বলে অভিযোগ করা হয়।

এর ফলে দেশে বিপুল-সংখ্যক শিশু নির্ধারিত সময়ে হাম-রুবেলা টিকা থেকে বঞ্চিত হয় এবং হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। আবেদনে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৫ হাজার ৭০৮ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। সরকারি হিসাবে এ সময় প্রায় ৬১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

আবেদনে আরও বলা হয়, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের বাইরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও বহু শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, যাদের একটি বড় অংশ সরকারি পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এতে আক্রান্ত শিশুদের পরিবারকে চিকিৎসার জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে এবং রাষ্ট্রকেও বিপুল ব্যয় বহন করতে হয়েছে।

আবেদনে কয়েকজন শিশুর মৃত্যুর উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়, টিকা সংকট ও হামের প্রাদুর্ভাবের কারণে এসব মৃত্যু ঘটেছে। অভিযোগকারীর দাবি, সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলা, ভুল সিদ্ধান্ত এবং কু-উদ্দেশ্যপূর্ণ কর্মকাণ্ডের কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে লাখো শিশুর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং রাষ্ট্র ও জনগণ ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, পরবর্তীকালে বর্তমান সরকার জরুরি ভিত্তিতে টিকা সরবরাহের ব্যবস্থা নিলেও সময়মতো টিকা না পাওয়ার কারণে যে ক্ষতি হয়েছে, তার দায় সংশ্লিষ্টরা এড়াতে পারেন না। তাই শিশুদের জীবন বিপন্ন হওয়ার ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আবেদন জানানো হয়।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘ঘুষ’ গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল, বাগমারার সেই পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

বিশ্বকাপ শুরুর ৩ দিন আগে ইংল্যান্ডের বেস ক্যাম্পের কাছে গোলাগুলি

চিফ হুইপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তার সাক্ষাৎ

আবারও নিখোঁজ অভিনেত্রী হিমির নানা

ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করল ইরান

কোন জেলায় কবে মিলবে এইচএসসির প্রবেশপত্র, জানাল শিক্ষা বোর্ড

২০২৭ সালের হজের রোডম্যাপ প্রকাশ

পুশ-ইন আতঙ্কে ডিমলার সীমান্তে মাইকিং, পাহারায় বিজিবি-এলাকাবাসী

তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি ইসরায়েলের

কবর খুঁড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে প্রাণ গেল ২ জনের

১০

ইসরায়েলের রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের

১১

ভাইরাল অডিওর জেরে পদ হারালেন বিএনপি নেত্রী

১২

শেষ মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে দলে ৩ পরিবর্তন

১৩

উত্তেজনা চরমে, ইসরায়েল-ইরানে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে

১৪

চরমোনাই পীর / বাজেটের অর্থ বাস্তবায়নে অপচয় করার অধিকার জনগণ কাউকে দেয়নি

১৫

গ্রাহকদের জন্য জরুরি বার্তা / প্রিপেইড মিটার রিচার্জের পর আসছে ২২০ ডিজিটের টোকেন?

১৬

সুন্দরবনে মালবাহী জাহাজে বনদস্যুদের হামলা, লুটপাট ও গুলি

১৭

কোরআনে চুমু দিয়ে যাত্রা শুরু, মেক্সিকোতে ইরান পেল উষ্ণ অভ্যর্থনা

১৮

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তাহের গ্রেপ্তার

১৯

লক্ষ্মীপুরে ‘চন্দ্রগঞ্জ’ উপজেলা গঠনের গেজেট প্রকাশ

২০
X