কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:০৮ এএম
অনলাইন সংস্করণ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। ছবি: সংগৃহীত
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। ছবি: সংগৃহীত

আজ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। অমর একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষ্যে মাতৃভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হলো আজ। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য রাজধানীসহ সারাদেশে নেয়া হয়েছে ব্যাপক কর্মসূচি।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়। একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এরপর ১২টা ৪০ মিনিট থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা ও সাধারণ মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

একুশের ভোরে আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও কুরআনখানির আয়োজন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়ে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

দিবসটি উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ রাজধানীর নিরাপত্তায় মোতায়েন রয়েছে ডিএমপির ১৫ হাজার সদস্য। আর, পুলিশের পাশাপাশি সারাদেশে নিরাপত্তায় কাজ করবে র‍্যাবও।

এদিকে ১৯৫২ সালের এইদিনে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর তৎকালীন পুলিশ নির্মমভাবে গুলিবর্ষণ করে। এতে কয়েকজন ছাত্র শহীদ হন। তাদের মধ্যে সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর, জব্বার অন্যতম। তাই দিনটিকে শহীদ দিবস বলা হয়ে থাকে।

তৎকালীন পূর্ব বাংলার রাজধানী ঢাকায় ১৯৪৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে প্রথম ভাষা-বিক্ষোভ শুরু হয়। ১৯৪৮ সালের মার্চে এ নিয়ে সীমিত পর্যায়ে আন্দোলন হয় এবং ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি এর চরম প্রকাশ ঘটে। ওইদিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাজপথে বেরিয়ে এলে পুলিশ তাদের ওপর নির্বিকারে গুলি চালায়। এতে কিছু ছাত্র শহীদ হন। এ ঘটনায় নানা নির্যাতন সত্ত্বেও ছাত্রদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরা প্রতিবাদ জানাতে পরের দিন ২২ ফেব্রুয়ারি পুনরায় রাজপথে নেমে আসেন।

তারা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে শহীদদের জন্য অনুষ্ঠিত গায়েবি জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। ভাষা শহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি এক রাতের মধ্যে মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে গড়ে ওঠে একটি স্মৃতিস্তম্ভ, যা সরকার ২৬ ফেব্রুয়ারি গুঁড়িয়ে দেয়। একুশে ফেব্রুয়ারির এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলন আরও বেগবান হয়।

১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করলে ৭ মে অনুষ্ঠিত গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বাংলাকে পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সংবিধানে পরিবর্তন আনা হয় ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি। ১৯৮৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে ‘বাংলা ভাষা প্রচলন বিল’ পাস হয়। যা কার্যকর করা হয় ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ থেকে।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারিকে সারাবিশ্বে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

কালবেলা/এলএইচ
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে ট্রাম্পের অনুমোদন

জাতিসংঘের মহাসচিব পদে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে দেখতে চান ট্রাম্প

জ্বালানি তেল সংকটের গুজবে রাজশাহীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড়

প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি বাদামি রঙের ডানার প্রজাপতি ‘খৈরি’ 

সাত লাখ কৃষকের ৬০৫ কোটি টাকা ঋণ মওকুফ

সুষম খাদ্যাভ্যাস ও জাঙ্ক ফুড পরিহার শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অপরিহার্য

ইরানকে রাশিয়া ও চীন বিভিন্নভাবে সহায়তা করছে, দাবি পিট হেগসেথের

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডে ১৮৫ পদে নিয়োগ, আবেদন শুরু আজ

টিভিতে আজকের যত খেলা

মিনিবাস-ট্রাকের সংঘর্ষে প্রাণ গেল যুবকের

১০

চায়ের গ্লাসে ইস্তাম্বুলের গল্প: প্রতিটি চুমুকে মিশে আছে অটোমান ঐতিহ্য

১১

স্বর্ণের আজকের বাজারদর

১২

জর্ডানে হামলায় নিখোঁজ মার্কিন সেনা নিহত বলে ধারণা পেন্টাগনের

১৩

ইতিহাসের এই দিনে স্মরণীয় ঘটনা

১৪

২২ জুলাই / আজকের নামাজের সময়সূচি

১৫

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়ে উঠতে পারেন জোসেফ আউন: ট্রাম্প

১৬

এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না: ইসি সচিব

১৭

ইরানে টানা ১১তম রাতে হামলা করল যুক্তরাষ্ট্র

১৮

কুকুরের কামড়ে আহত বিচারক, এক বছরে শতাধিক আক্রান্ত

১৯

‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ পরিস্থিতির অবসান চান মোজতবা খামেনি

২০
X