

চট্টগ্রামকে দেশের প্রধান লজিস্টিক্যাল হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বড় ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন বন্দর নির্মাণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আসছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রাম সফরে গিয়ে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে, সকালে বিমানবন্দরে পৌঁছলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ফুল দিয়ে অর্থমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি। এখানে সমুদ্রবন্দর রয়েছে, পাশাপাশি ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকারের পরিকল্পনায় চট্টগ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে, যার ওপর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবও পড়েছে। প্রথমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা হবে, এরপর সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বিনিয়োগ ও উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের মেয়াদের তৃতীয় ও চতুর্থ বছরে অর্থনীতিতে সমৃদ্ধির ধারা আরও দৃশ্যমান হবে। দেশের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, এবারের বাজেট দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে। যে অঞ্চলের যে ধরনের সক্ষমতা রয়েছে, তা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামকে ঘিরে সরকারের পরিকল্পনার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, কর্ণফুলী নদীর ওপারে ৬০০ একর জমিতে একটি ফ্রি জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে একাধিক বন্দর নির্মাণ, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কার্গো ও যাত্রী পরিবহনের আঞ্চলিক হাবে উন্নীত করা এবং একটি চাইনিজ ইকোনমিক জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লাকসাম অংশের উন্নয়নের মাধ্যমে ট্রেনে যাতায়াতের সময় প্রায় দুই ঘণ্টা কমিয়ে আনার পরিকল্পনাও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক করিডর একটি শক্তিশালী লজিস্টিক্যাল হাবে পরিণত হবে এবং দেশের বন্দরগুলোর সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
মাতারবাড়িকেও ঘিরে বড় ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই পুরো অঞ্চলকে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।