

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুপ্রতীক্ষিত নতুন পে স্কেলে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সচিব পর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটি। তবে বেতন ও ভাতা একসঙ্গে কার্যকর হবে, নাকি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে- সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।
নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে সরকার। আগামী আগস্টের প্রথম সপ্তাহে নতুন বেতনকাঠামোর গেজেট প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে পর্যালোচনা কমিটির ষষ্ঠ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বেতন কমিশনের সুপারিশ এবং আগের বেতনকাঠামোর বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
নতুন নিয়মে সব গ্রেডে একই হারে ইনক্রিমেন্ট না দিয়ে ৪টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে উচ্চ গ্রেডের তুলনায় নিম্ন ও মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবেন।
খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মচারীদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট মূল বেতনের ৫ শতাংশ নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথম গ্রেডের ইনক্রিমেন্ট আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আরও দুই থেকে তিনটি সভার পর সুপারিশ চূড়ান্ত করা হবে। এরপর তা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে।
নতুন বেতনকাঠামোয় সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বাড়ানোর পক্ষে নয় পর্যালোচনা কমিটি। নিচের দিকের গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে কমিটির বেশির ভাগ সদস্য মত দিয়েছেন। মূল বেতনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধাও নতুন করে বিন্যাস করা হচ্ছে।
পর্যালোচনা কমিটির সদস্যরা নীতিগতভাবে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে মূল বেতন এবং ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে ভাতা কার্যকরের বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। বিষয়টি মন্ত্রিসভার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
নতুন পে স্কেল কয় ধাপে বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা। আগামী ২৩ বা ৩০ জুলাইয়ের নিয়মিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে অন্য কোনো দিনও বৈঠক হতে পারে।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, নতুন পে স্কেল নিয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। সচিব কমিটি আরও দুই থেকে তিন দিন কারিগরি বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করবে। এরপর চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে বা আগস্টের প্রথম সপ্তাহে সুপারিশ মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে।
মন্ত্রিসভায় নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ধাপসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এরপর প্রস্তাবটি আইনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। ভেটিং শেষে প্রধানমন্ত্রী সারসংক্ষেপ অনুমোদন করলে গেজেট প্রকাশ করা হবে।
পর্যালোচনা কমিটির সভায় অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের প্রায় ১১ বছর ধরে বেতন বাড়েনি। তাই নতুন পে স্কেলে যেন কেউ বঞ্চিত বা ক্ষুব্ধ না হন, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে আরও দুই থেকে ৩টি সভা হতে পারে। প্রতিটি সভায় খুঁটিনাটি বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, বাড়তি বেতন-ভাতা দেওয়ার সঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থের সংশ্লেষ রয়েছে। এর সঙ্গে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টিও জড়িত। তাই নতুন পে স্কেল কয় ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে সচিব কমিটি কোনো মতামত দেবে না। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে মন্ত্রিসভার বৈঠকে।
সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তে সরকার অটল। তবে দেশের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, পে স্কেলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এটি বাস্তবায়ন করা হবে। তবে দেশের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি ও কঠিন সময় বিবেচনায় নিয়ে তা ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হবে।