

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি কৃষি। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, গ্রামীণ কর্মসংস্থান, শিল্পের কাঁচামাল এবং পুষ্টি চাহিদার বড় অংশই আসে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত থেকে। কিন্তু বর্তমান বিশ্ববাস্তবতায় কৃষি এখন শুধু উৎপাদনের বিষয় নয়; এটি খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, নিরাপদ খাদ্য, প্রযুক্তি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
চলতি অর্থবছরে বাজেটে কৃষি খাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫.৯ শতাংশ, যা আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ অনেক দেশের চেয়ে কম। তাই ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে কৃষি খাতের জন্য ১০ শতাংশ বরাদ্দ রাখা জরুরি। কেননা, কৃষকের ঘাম, শ্রম ও সংগ্রামের ওপর দাঁড়িয়ে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা এখন নিশ্চিত হওয়ার পথে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যে কৃষক দেশের মানুষের খাদ্য জোগান দেন, সেই কৃষকই আজ সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তা ও সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাই কৃষি ও কৃষককে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে মূল্যায়ন করা আমাদের জরুরি।
গত কয়েক বছরের বাজেট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকার কৃষি খাতে ভর্তুকি ও সহায়তা অব্যাহত রাখলেও বাস্তব চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ এখনও সীমিত। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বাজেটে কৃষি মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি বরাদ্দ রাখা হয়েছিল, যার বড় অংশ ছিল ভর্তুকি, কৃষিঋণ সহায়তা এবং কৃষিযান্ত্রিকীকরণে। অন্যদিকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে বরাদ্দ ছিল তুলনামূলক কম, যদিও এই দুই খাত বর্তমানে জাতীয় পুষ্টি নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানে বিশাল ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত এবং গ্রামীণ নারীদের প্রায় ৬০ শতাংশ কৃষির সঙ্গে জড়িত।
কৃষি দেশের জিডিপিতে (প্রায় ১২%) উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। শুধু ফসল উৎপাদন নয়, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, দুগ্ধ ও পোল্ট্রি খাতও জাতীয় অর্থনীতির বড় চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। কৃষিজ জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশ আসে মৎস্য খাত থেকে।
বাংলাদেশ বর্তমানে ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বে প্রথম। একইভাবে প্রাণিসম্পদ খাতে ডিম ও মুরগি উৎপাদনে দেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। কিন্তু এসব খাতের সম্ভাবনার তুলনায় বরাদ্দ এখনও অপর্যাপ্ত। বাংলাদেশের কৃষকের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো উৎপাদনের পর ন্যায্যমূল্য না পাওয়া।
প্রায় প্রতি বছরই দেখা যায়- কৃষক ধান, আলু, পেঁয়াজ, টমেটো বা সবজি উৎপাদন করে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচও তুলতে পারেন না। উৎপাদন বেশি হলে বাজারে দাম পড়ে যায়, কিন্তু ভোক্তা পর্যায়ে সেই সুবিধা পৌঁছায় না। মাঝখানে লাভবান হয় মধ্যস্বত্বভোগী চক্র। ফলে কৃষক একদিকে উৎপাদন ব্যায়ের চাপে থাকেন, অন্যদিকে বাজারে ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হন।
বর্তমানে ডিজেল, সেচ, সার, বীজ, শ্রমিক ও কীটনাশকের খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও সেই অনুযায়ী ফসলের মূল্য বাড়েনি। ফলে অনেক কৃষক কৃষি থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। এই পরিস্থিতি দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘমেয়াদে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই বাজেটে কৃষিপণ্যের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কৃষক যাতে কম দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য না হন সেজন্য সরকারি ক্রয় কার্যক্রম আরও বাড়াতে হবে। উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ে আধুনিক সংরক্ষণাগার ও কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষির জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হয়ে উঠেছে। হাওরাঞ্চলে অকাল বন্যা, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা, উত্তরাঞ্চলে খরা ও তাপপ্রবাহ কৃষিকে বিপর্যস্ত করছে।
প্রতি বছর হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষকের জীবন ও জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। অথচ কৃষি বীমা ব্যবস্থা এখনও কার্যকরভাবে চালু হয়নি। এই বাস্তবতায় আগামী বাজেটে ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার বা জলবায়ু সহনশীল কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। খরাসহনশীল ও লবণসহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবন, পানি সংরক্ষণ প্রযুক্তি, আধুনিক সেচব্যবস্থা এবং কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে হাওর ও উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য আলাদা কৃষি সহায়তা কর্মসূচি নেওয়া প্রয়োজন।
মৎস্য খাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। লাখ লাখ মানুষ মাছচাষ, আহরণ ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু বর্তমানে মাছের খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, পানিদূষণ, রোগব্যাধি এবং আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে এই খাত চাপে রয়েছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র মৎস্যচাষিরা উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছেন না।
মৎস্য খাতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ বাড়াতে হবে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বায়োফ্লক (Biofloc) এবং রাস (RAS) প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম জায়গায় অধিক মাছ উৎপাদন করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও এসব প্রযুক্তি সম্প্রসারণে ভর্তুকি ও সহজ ঋণ দিতে হবে। প্রয়োজন আধুনিক হ্যাচারি, রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষাগার এবং নিরাপদ মাছ উৎপাদনে গবেষণা সহায়তা। একই সঙ্গে জেলেদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণ করতে হবে।
প্রাণিসম্পদ খাত বর্তমানে দেশের পুষ্টি নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। দুধ, ডিম ও মাংস উৎপাদনে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। কিন্তু এই খাতও এখন নানা সংকটে আক্রান্ত। ফিড-এর উচ্চমূল্য, বার্ড ফ্লো ও অন্যান্য রোগ, পর্যাপ্ত ভ্যাকসিনের অভাব এবং খামারিদের ঋণ সংকট এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোগ বালাই ও অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রশিক্ষণও এ খাতের জন্য জরুরি। অনেক ক্ষুদ্র খামারি খাদ্যের উচ্চমূল্যের কারণে খামার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে বাজারে ডিম ও মাংসের দামও অস্থির হয়ে পড়ছে।
এই বাস্তবতায় প্রাণীর খাবারে সাবসিডি, ভ্যাকসিন গবেষণা সেন্টার, আধুনিক ভেটেরনারি হাসপাতাল এবং প্রাণিসম্পদ গবেষণায় বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিরাপদ দুধ ও মাংস নিশ্চিত করতে খামার মনিটরিং সিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
নিরাপদ খাদ্য এখন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। বাজারে শাকসবজি, ফল, মাছ ও মাংসে অতিরিক্ত কীটনাশক, অ্যান্টিবায়োটিক ও রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, খাদ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসার, কিডনি রোগ, লিভারের সমস্যা এবং হরমোনজনিত জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই বাজেটে টক্সিন বা বালাইনাশকের অবশিষ্টাংশ নির্ণায়ক পরীক্ষাগার, মাইক্রোবায়োলজির আধুনিক ল্যাব, নিরাপদ খাদ্যের আধুনিক মনিটরিং সিস্টেম এবং নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক গবেষণায় বড় বরাদ্দ দিতে হবে।
উন্নত জাত ও প্রযুক্তিকে আরও সহজলভ্য করতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে। এছাড়া জৈব কৃষি ও উত্তম কৃষি পরিচর্চা (GAP) কে সম্প্রসারণ করতে হবে। এসব বিষয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ বাড়াতে হবে, যাতে তারা সঠিক মাত্রায় কীটনাশক ও রাসায়নিক/ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন।
কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এখন সময়ের দাবি
বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষিত তরুণদের একটি অংশ কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে আসছেন। আধুনিক কৃষি, এগ্রো-প্রসেসিং, ডেইরি ফার্ম, আধুনিক মৎস চাষ, জিআইএস, ড্রোন প্রযুক্তি, প্রিসিসন এগ্রিকালচার ও কৃষির ইকমার্স তাদের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কিন্তু পুঁজি ও প্রযুক্তিগত সহায়তার অভাবে অনেক তরুণ উদ্যোক্তা মাঝপথে থেমে যাচ্ছেন। তাই আগামী বাজেটে যুব কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করতে হবে। সুদমুক্ত বা স্বল্পসুদে কৃষিঋণ, ডিজিটাল কৃষি প্রশিক্ষণ এবং কৃষি-প্রযুক্তি স্টার্টআপ সহায়তা বাড়াতে হবে। তরুণদের কৃষিমুখী করতে না পারলে ভবিষ্যতে কৃষিতে শ্রম ও উদ্ভাবনের সংকট আরও বাড়বে।
দেশে কৃষি শ্রমিক সংকট বাড়ছে। ফলে কৃষিযান্ত্রিকীকরণ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বর্তমানে কমভাইন্ড হারভেষ্টার, রাইস ট্রান্সপ্লেন্টার, ড্রোন স্প্রে এবং আধুনিক সেচ প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। কিন্তু এসব প্রযুক্তি অনেক কৃষকের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। তাই কৃষিযন্ত্রে ভর্তুকি বৃদ্ধি, স্থানীয়ভাবে কৃষিযন্ত্র উৎপাদনে সহায়তা এবং প্রযুক্তি ভিত্তিক কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। গবেষণা ও প্রযুক্তিভিত্তিক কৃষি ছাড়া ভবিষ্যতের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি।
বাংলাদেশে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ ফল, সবজি, মাছ ও দুধ সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) এর তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় পোষ্ট-হারভেস্ট লস এখনও বড় সমস্যা। এগ্রো-প্রসেসিং শিল্প গড়ে তুলতে পারলে কৃষকের লাভ বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্বের উন্নত দেশগুলো কৃষিকে শুধু খাদ্য উৎপাদনের খাত হিসেবে দেখে না; তারা কৃষিকে প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক শিল্পে রূপান্তর করেছে। নেদারল্যান্ডস স্বল্প জমিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষিতে বিশ্বসেরা অবস্থান তৈরি করেছে। ইসরায়েল পানি সংকট মোকাবিলায় আধুনিক সেচ প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছে। ভারত দুগ্ধ বিপ্লব ও কৃষি ভর্তুকির মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে। বাংলাদেশকেও সেই পথেই এগোতে হবে।
শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, রপ্তানি প্রক্রিয়াকে সহজ করে সারাবিশ্বে আমাদের সব কৃষি পণ্যকে ছড়িয়ে দিতে হবে। আমাদের দেশীয় নানান সবজি, আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল, আনারস ইত্যাদির জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখতে হবে যাতে সহজেই এ পণ্যগুলিকে দেশের বাইরে পাঠানো যায়। এছাড়া কৃষি বর্জ্যব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিয়ে আলাদা বাজেট রাখতে হবে যাতে এ বিষয়ে উন্নত দেশগুলোর মতো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। এ ক্ষেত্রে শহর ও গ্রামকে আলাদা করে প্রকল্প তৈরি করতে পারলে পরিবেশ দূষণ কমবে, জৈব সার ও বায়োগ্যাস উৎপাদনে সহায়তা হবে এবং টেকসই কৃষি নিশ্চিত হবে।
বাংলাদেশের কৃষি শুধু খাদ্য উৎপাদনের খাত নয়; এটি দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, পুষ্টি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার মূল ভিত্তি। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। এই তিনটি খাতই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই আগামী বাজেটে এই খাতগুলোকে সমন্বিতভাবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না; সেই বরাদ্দ যেন সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেও কঠোর নজর দিতে হবে। কৃষক বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, কৃষি বাঁচলে দেশ এগিয়ে যাবে-এই বাস্তবতা নতুন করে উপলব্ধি করার সময় এসেছে। আগামী বাজেট হতে হবে এমন একটি বাজেট, যেখানে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত আধুনিক হবে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হবে এবং তরুণরা কৃষিকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে দেখতে উৎসাহিত হবে।
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে কৃষিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার বিকল্প নেই। কারণ কৃষিতে বিনিয়োগ মানে শুধু খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো নয়; এটি একটি নিরাপদ, পুষ্টিসমৃদ্ধ, আত্মনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করা। জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার সে পথেই হাঁটবেন বলে আশা করি।
লেখক: অধ্যাপক, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
ই-মেইল: [email protected]