

দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অর্থনীতি ও তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ২০২৬-২০৩১ মেয়াদের বাজেটে ফ্রিল্যান্সার ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য ‘অভূতপূর্ব সুযোগ-সুবিধার’ প্রস্তাব করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) নতুন বাজেটে ফ্রিল্যান্সিং থেকে অর্জিত সব ধরনের আয়কে করমুক্ত ঘোষণা করার পাশাপাশি এ খাতের সেবার ওপর থেকে ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হবে বলে জানা গেছে।
কর অব্যাহতি ও পরিধি বিস্তার : এতদিন শুধুমাত্র আইটি (IT) ফ্রিল্যান্সিংয়ের ওপর কর অব্যাহতি সুবিধা বিদ্যমান ছিল। তবে নতুন বাজেটে এই সুবিধা সম্প্রসারিত করে সব প্রকার ফ্রিল্যান্সিং আয়কে করমুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে। এই পদক্ষেপের ফলে ফ্রিল্যান্সাররা তাদের কষ্টার্জিত আয় বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে আনতে আরও উৎসাহিত হবেন বলে মনে করছে সরকার।
কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য সুযোগ : ফ্রিল্যান্সারদের পাশাপাশি তরুণদের উদ্ভাবনী কাজে উৎসাহ দিতে সব ধরনের কন্টেন্ট ক্রিয়েশন হতে আয়কেও করমুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মূলত দেশের লাখ লাখ তরুণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সৃজনশীল কাজ করে যে আয় করছেন, তাকে ডিজিটাল অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে সরকার।
ভ্যাট অব্যাহতি : ফ্রিল্যান্সার ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের প্রদেয় সেবার ওপর বর্তমানে ১৫ শতাংশ ভ্যাট (VAT) প্রযোজ্য। প্রস্তাবিত বাজেটে এই ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণরূপে অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলা হবে বাজেটে। এছাড়া স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও ২০৩৫ সাল পর্যন্ত স্থানীয় পর্যায়ে ভ্যাট এবং স্থাপনা ভাড়ার ওপর ভ্যাট মওকুফ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
লক্ষ্য ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ : সরকার একটি বৈশ্বিক মানের ক্রিয়েটিভ ইকোনমি বা সৃজনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায়। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তরুণদের ডিজিটাল মেধা ও মননকে কাজে লাগাতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রে টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাবও দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং খাত বিশ্ববাজারে আরও প্রতিযোগিতাসক্ষম হয়ে উঠবে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।