কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করলে পরিণতি ভালো হবে না : আজহার

এটিএম আজহারুল ইসলাম। পুরোনো ছবি
এটিএম আজহারুল ইসলাম। পুরোনো ছবি

গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি দলের অবস্থানের প্রতিবাদ এবং গণরায় অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবিতে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য।

শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

আজহারুল ইসলাম বলেন, আজকে আমি সংসদে গিয়েছি জুলাই বিপ্লবের কারণে। আজ আমি এখানে বক্তব্য দিচ্ছি জুলাই বিপ্লবের কারণে। জুলাই বিপ্লব আমাদের নতুন জীবন দান করেছে। সেই জুলাই বিপ্লবকে অস্বীকার করা মানে নতুন জীবনকে অস্বীকার করা। জুলাই বিপ্লব একদলকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে আরেক দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য ছিল না।

তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব ছিল পুরোনো ব্যবস্থাকে ছুড়ে ফেলে নতুন ব্যবস্থা কায়েম করা। জুলাই বিপ্লব ছিল, একদলীয় ব্যক্তির হাতে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত না করে জনগণের ক্ষমতাকে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া। আজকে গণভোটকে অস্বীকার করা মানে শুধু ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অস্বীকার করা নয়; ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অস্বীকার করার মধ্য দিয়ে আবার তারা সেই ফ্যাসিবাদী কায়দায় এক ব্যক্তির কাছে সব ক্ষমতা দিতে চায়। আমরা দীর্ঘ ১৬ বছরে এক ব্যক্তির শাসন দেখেছি। আমাদের হাজার হাজার ভাইকে জীবন দিতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের আন্দোলন কোনো দলের বিরুদ্ধে নয়, আমাদের আন্দোলন সব সময় জনগণের পক্ষে। আমরা সব সময় জনগণের পাশে থাকি। আজকে একজন ব্যক্তির কাছে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার মাধ্যমে যদি আপনারা স্বপ্ন দেখেন আবার জোর করে আপনারা ক্ষমতায় থাকতে পারবেন, তাহলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন। মনে করেন কেয়ারটেকার সরকারের আন্দোলনের কথা। কেয়ারটেকার নাকি পাগল ছাগল ছাড়া কেউ বোঝে না। আপনারা অস্বীকার করলেন, আন্দোলন দমাবার চেষ্টা করলেন, শেষ পর্যন্ত মারলেন- এমনভাবে মারলেন কেয়ারটেকার হলো, আপনারা ক্ষমতায় আসতে পারলেন না।

আজহার বলেন, জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করবেন না। আমাদের রাজপথে আসতে বাধ্য করবেন না। সময় থাকতে যদি দেশকে ভালোভাবে চালাতে চান তাহলে গণভোটের রায়কে মেনে নেন। জনগণ আপনাদেরকে ভালোবাসবে, শ্রদ্ধা করবে। আর যদি অবজ্ঞা করেন সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ার কারণে, তবে তার পরিণতি ভালো হবে না।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, বিএনপির হয়েছে সুবিধাবাদের রোগ। অন্তর্বর্তী সরকারের যে অধ্যাদেশগুলো ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করে সেগুলো বিএনপির কাছে খুব পছন্দনীয় আর যে অধ্যাদেশগুলো জনগণের জন্য ভালো সেগুলো তাদের কাছে অপছন্দনীয়। বিএনপির এখন সুবিধাবাদের রোগ হয়েছে। বিএনপি সারা দেশে না এর পক্ষে ভোট চেয়েছে আর প্রকাশ্যে হ্যাঁ এর পক্ষে বাধ্য হয়ে ভোট চেয়েছে। এ দেশের জনরায়কে যদি হাইকোর্ট দেখান, এ দেশের জনগণ রাজপথে আপনাদেরকে মোকাবিলা করবে। জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান রাখেন। না হলে সংসদে এবং রাজপথে আমরা আপনাদের প্রতিহত করব ইনশাআল্লাহ।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব ড. আহমাদ আব্দুল কাদের, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মোখলেসুর রহমান কাসেমী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. ওমর ফারুক, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম প্রমুখ।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে শুরু হয় রাজধানীর পল্টন, বিজয়নগর মোড়, কাকরাইল অতিক্রম করে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হয়।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চেয়ারম্যানসহ বিএসইসির চার কমিশনারের পদত্যাগ

যুক্তিতর্ক শুনানির আগে অসুস্থ রামিসা হত্যার আসামি স্বপ্না

১০ বছর পর আবারও ফাইনালে মুখোমুখি বাংলাদেশ-ভারত

থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে বেধড়ক মারধর, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার

যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

ঋতুপর্ণার জাদুকরী সেই গোলের নাম কেন ‘অলিম্পিক গোল’?

আর্থিক লেনদেনের জেরে প্রেমিকাকে শ্বাসরোধে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ১১১৮ জন

মহাসড়কে আ.লীগের ঝটিকা মিছিল, গ্রেপ্তার ১২

বিহারের হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৪

১০

এবার জেমস বন্ড সাজে ডোনাল্ড ট্রাম্প

১১

স্ত্রীর গর্ভে ৫ সন্তান, উন্নত চিকিৎসার খরচ জোগাতে পারছেন না দরিদ্র রংমিস্ত্রি

১২

সীমান্তে পুশইন চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

১৩

বজ্রপাতে মা-ছেলের করুণ মৃত্যু

১৪

দিল্লির হোটেলে আগুন : মৃত্যুপথযাত্রী বাবাকে দেখতে এসে পুড়ে মরলেন ৮ স্বজন

১৫

ময়মনসিংহে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু

১৬

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ আজ

১৭

আ.লীগ ও জামায়াত একই জিনিস, আমাদের সতর্ক থাকতে হবে : ইশরাক

১৮

আজও নেই বৃষ্টির সম্ভাবনা

১৯

দেশে ফিরলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

২০
X