

ভারতীয় বেসামরিক ও সামরিক উড়োজাহাজের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটি (পিএএ) শনিবার (১৮ জুলাই) জারি করা এক নোটিস টু এয়ারমেন (নোটাম)-এ জানিয়েছে, নতুন এই নিষেধাজ্ঞা ২০২৬ সালের ২৩ আগস্ট রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এর আগে জারি করা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ২৪ জুলাই শেষ হওয়ার কথা ছিল। খবর ডনের।
নোটামে বলা হয়েছে, ভারতে নিবন্ধিত অথবা ভারতীয় এয়ারলাইনস ও অপারেটরদের পরিচালিত বা লিজ নেওয়া কোনো উড়োজাহাজ, এমনকি সামরিক বিমানও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না। এই নিষেধাজ্ঞা পাকিস্তানের দুটি ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিয়ন করাচি এবং লাহোর উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
২০২৫ সালের এপ্রিলের শেষ দিক থেকে ভারত ও পাকিস্তান পরস্পরের বিমান চলাচলের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে রেখেছে। ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পেহেলগামে প্রাণঘাতী হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
২৪ এপ্রিল পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব ভারতের একাধিক পদক্ষেপের জবাবে তাৎক্ষণিকভাবে ভারতীয় মালিকানাধীন ও পরিচালিত সব উড়োজাহাজের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করে। এরপর থেকে কয়েক দফায় এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
পেহেলগামের ওই হামলায় পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছিল নয়াদিল্লি, যদিও এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ইসলামাবাদ অভিযোগ অস্বীকার করে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রস্তাব দিয়েছিল।
পেহেলগাম হামলার পর ২০২৫ সালের ৬-৭ মে ভারত পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে উসকানিবিহীন হামলা চালায় বলে অভিযোগ করে ইসলামাবাদ। এর জবাবে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস নামে বড় পরিসরের পালটা সামরিক অভিযান চালায় এবং ভারতের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করে।
পাকিস্তানের দাবি, তারা তিনটি রাফালসহ ভারতের সাতটি যুদ্ধবিমান এবং বহু ড্রোন ভূপাতিত করেছে। প্রায় ৮৭ ঘণ্টা পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১০ মে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে সংঘাতের অবসান হয়।
এর আগে ১৯৯৯ সালের কারগিল সংঘাত এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা সংকটের সময়ও পাকিস্তান আকাশসীমা বন্ধ করেছিল। সে সময়ও ভারতের বিমান চলাচলে বেশি বিঘ্ন ঘটেছিল।