

নিদ্রাহীনতা এখন কেবল ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, বরং শহুরে জীবনে এটি এক নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। কর্মব্যস্ততা, মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা কিংবা অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে অনেকেই রাতে ঘুমাতে পারেন না। ঘুম না এলে শরীর যেমন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তেমনি মনেও ভর করে অস্থিরতা। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর নানা ব্যাখ্যা থাকলেও ইসলাম ঘুমের বিষয়টিকে দেখেছে আরও গভীর ও আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকে।
মহান আল্লাহ মানুষের বিশ্রাম ও প্রশান্তির জন্য রাত ও ঘুমকে বিশেষ নেয়ামত হিসেবে দান করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আর আমি তোমাদের নিদ্রাকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী, রাত্রিকে করেছি আবরণ’। (সুরা নাবা : ৯-১০)
তাই অনিদ্রার মতো সমস্যায় কেবল ওষুধ বা কৌশল নয়, বরং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে নবীজি (সা.)-এর শেখানো দোয়া ও আমলের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন আলেমরা। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেই অনিদ্রায় আক্রান্ত সাহাবিকে যে দোয়া শিখিয়েছেন, তা আজও মুসলমানদের জন্য এক অনন্য পথনির্দেশনা। ঘুম না এলে যে দোয়াটি পড়তে বলেছেন নবীজি (সা.), কালবেলার পাঠকদের জন্য সেটিই তুলে ধরা হলো—
বুরায়দা (রা.) বর্ণনা করেন, খালিদ ইবনে ওয়ালিদ আল-মাখজুমি (রা.) রাসুল (সা.)-এর কাছে অভিযোগ করেন, হে আল্লাহর রাসুল! অনিদ্রা রোগের কারণে আমি ঘুমাতে পারি না। তখন রাসুল (সা.) বললেন, যখন তোমরা শয্যাগ্রহণ করবে তখন বলবে, اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَمَا أَظَلَّتْ وَرَبَّ الأَرَضِينَ وَمَا أَقَلَّتْ وَرَبَّ الشَّيَاطِينِ وَمَا أَضَلَّتْ كُنْ لِي جَارًا مِنْ شَرِّ خَلْقِكَ كُلِّهِمْ جَمِيعًا أَنْ يَفْرُطَ عَلَىَّ أَحَدٌ مِنْهُمْ أَوْ أَنْ يَبْغِيَ عَلَىَّ عَزَّ جَارُكَ وَجَلَّ ثَنَاؤُكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ
বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা রাব্বাস সামাওয়াতিস সাবয়ি ওয়া মা আজাল্লাত, ওয়া রাব্বাল আরদিনা ওয়া মা আকাল্লাত; ওয়া রাব্বাশ শায়াত্বিনি ওয়া মা আদাল্লাত; কুন লি জারাম-মিন শাররি খালক্বিকা কুল্লিহিম জামিআ— আইঁ ইয়াফরুত্বা আলাইয়্যা আহাদুম মিনহুম আও আইঁ ইয়াবগিয়া আলাইয়্যা, আজ্জা জারুকা ওয়া জাল্লা ছানাউকা, ওয়ালা ইলাহা গাইরুকা, ওয়ালা ইলাহা ইল্লা আংতা।
অর্থ : হে আল্লাহ, সপ্ত আকাশ এবং যা কিছুর ওপর তা ছায়া দেয় সেসব কিছুর রব! জমিনগুলো এবং যা কিছু তা বহন করছে সে সব কিছুর প্রতিপালক! শয়তান ও যাদের সে গুমরাহ করে তাদের প্রতিপালক! তোমার সব সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে তুমি আমার আশ্রয় হও, এদের কেউ যেন আমার ওপর কর্তৃত্ব চালাতে (বা বাড়াবাড়ি করতে) বা বিরুদ্ধাচরণ করতে না পারে। হে সম্মানিত, তোমার আশ্রয়প্রার্থী, সুমহান তোমার প্রশংসা, তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তুমি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। (আল কালিমুত তাইয়্যিব : ৪৭/৩৩, তিরমিজি : ৩৫২৩)
মন্তব্য করুন