শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:২১ এএম
আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:২২ এএম
অনলাইন সংস্করণ

যেভাবে নেতা নির্বাচন করতেন মহানবী (সা.)

যেভাবে নেতা নির্বাচন করতেন মহানবী (সা.)
নেতৃত্ব শুধু একটি পদ নয়, এটি একটি ভারী আমানত | ছবি : সংগৃহীত

নেতৃত্ব শুধু একটি পদ নয়, এটি একটি ভারী আমানত। সমাজ, রাষ্ট্র কিংবা যে কোনো সংগঠনের কল্যাণ অনেকাংশে নির্ভর করে সঠিক নেতৃত্বের ওপর। আজ যখন নেতৃত্বের প্রশ্নে নানা বিতর্ক, প্রতিযোগিতা ও বিভ্রান্তি দেখা যায়, তখন মুসলমানদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ হচ্ছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

তিনি কেমন মানুষকে দায়িত্ব দিতেন? কাদের হাতে অর্পণ করতেন রাষ্ট্র, প্রশাসন ও সমাজ পরিচালনার ভার? তাঁর জীবন ও হাদিস আমাদের সামনে স্পষ্ট এক মানদণ্ড তুলে ধরে।

হাদিসে এসেছে, নেতা নির্বাচনে মহানবী (সা.) কেবল যোগ্য ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকেই মনোনীত করতেন। তিনি স্বজনপ্রীতি, পক্ষপাত কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে কাউকে দায়িত্ব দিতেন না। ক্ষমতা বা পদের জন্য যারা লালায়িত হতো, তাদের ব্যাপারেও তিনি সতর্ক ছিলেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,‘আমি এই দায়িত্বপূর্ণ কাজে এমন কোনো ব্যক্তিকে নিয়োগ করব না, যে তা পাওয়ার জন্য প্রার্থী হবে; অথবা এমন কাউকেও নয়, যে তা পাওয়ার জন্য লালায়িত হবে।’ (মুসলিম : ১৮২৪)

এর পেছনে গভীর প্রজ্ঞা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘তুমি নেতৃত্ব চেয়ে নিও না। কেননা, যদি চাওয়ার পর তোমাকে তা দেওয়া হয়, তাহলে তার সকল দায়িত্বভার তোমার ওপরই অর্পিত হবে। আর যদি না চাওয়া সত্ত্বেও তোমাকে তা দেয়া হয়, তাহলে এ ক্ষেত্রে (আল্লাহর পক্ষ থেকে) সহযোগিতা করা হবে।’ (বোখারি: ৭১৪৭ ও মুসলিম : ১৬৫২)

অর্থাৎ নেতৃত্ব চেয়ে নেওয়ার বিষয় নয়; বরং যোগ্যতা ও আস্থার ভিত্তিতে অর্পিত একটি দায়িত্ব। নবীজি (সা.)-এর দৃষ্টিতে নেতৃত্ব ছিল আল্লাহ ও মুসলিম উম্মাহর আমানত। ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও সম্পদ—সবই আমানত, যা আল্লাহভীরু ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিদের হাতে ন্যস্ত থাকতে হবে।

কেউ ইচ্ছামতো তা ব্যবহার বা অপব্যবহার করার অধিকার রাখে না। যাদের হাতে এ আমানত সোপর্দ করা হবে, তারা এর জন্য জবাবদিহির মুখোমুখি হবেন।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দিচ্ছেন, আমানত তার প্রকৃত অধিকারীর কাছে পৌঁছে দিতে।’ (সুরা নিসা : ৫৮)

নবীজি (সা.) আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নেতা হবেন জনগণের সেবক (মিশকাত আল মাসাবিহ : ৩,৯২৫)। তিনি তাঁর সাহাবিদের এমনভাবেই গড়ে তুলেছিলেন, যাতে তারা নিজেদের শাসক নয়, বরং মানুষের খাদেম হিসেবে ভাবেন। ফলে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নিয়োজিত ব্যক্তিরা নিজেদের জনগণের সেবকের ভূমিকায় উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

মহানবী (সা.)-এর এই নীতিমালা আজও মুসলিম সমাজের জন্য দিকনির্দেশনা। নেতৃত্ব মানে ক্ষমতার প্রদর্শন নয়; বরং আমানতের সঠিক হেফাজত, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ। তাঁর শিক্ষা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—যোগ্যতা, তাকওয়া ও জবাবদিহিতার চেতনা ছাড়া প্রকৃত নেতৃত্ব সম্ভব নয়।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তথ্য পেয়ে চুক্তি ও ঋণপত্র বাতিল, ফেরত যাচ্ছে ‘এমটি মেমেই’

ছবি প্রকাশ করলেন রাশেদ খান / সরকার পতনের পর আ. লীগ নেতাদের সঙ্গে কয়েক ধাপে মিটিং হান্নান মাসউদের

বজ্রপাতে সারা দেশে প্রাণ গেল ১২ জনের

অবিলম্বে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম কমানোর দাবি এনসিপির

দাবি এমপি শওকতুলের / শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান নোবেল পাওয়ার যোগ্য

আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন অভিনেতা আলভীর মা

কোটি টাকার ইয়াবাসহ কোস্টগার্ডের হাতে ৪ জন আটক

২২ বলের ফিফটিতে দিলারার রেকর্ড

বিশ্বকাপের আগে ব্যালন ডি’অর জয়ের তালিকায় এগিয়ে যারা

‘জনগণ ভাবছে সরকার ভোট নয়, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে নির্বাচিত’

১০

নজরদারিতে আইভী রহমান, বাড়ির সামনে বসানো হলো সিসিটিভি

১১

প্রশ্ন গোলাম পরওয়ারের / এখনই ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিচ্ছে, ৫ বছরে কী হবে

১২

গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

১৩

সামরিক পরাজয়ের পর শত্রুরা গুপ্ত যুদ্ধে নেমেছে : মোজতবা খামেনি

১৪

২ দায়িত্ব একসঙ্গে পালনের নজির আছে, জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

১৫

এক দলে দুই পতাকা! / ইরাকের জার্সিতে বিশ্বকাপ মাতাবেন ‘রাষ্ট্রহীন’ ৪ ফুটবলার!

১৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে নারীসহ ৬ জনের মৃত্যু

১৭

স্ত্রীকে হত্যার পর রক্তাক্ত মরদেহ কাঁধে হাসপাতালে স্বামী

১৮

তীব্র গরম কবে কমবে, জানাল আবহাওয়া অফিস

১৯

আফগানিস্তান সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন কোহলি!

২০
X