ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:২১ এএম
আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:২২ এএম
অনলাইন সংস্করণ

যেভাবে নেতা নির্বাচন করতেন মহানবী (সা.)

যেভাবে নেতা নির্বাচন করতেন মহানবী (সা.)
নেতৃত্ব শুধু একটি পদ নয়, এটি একটি ভারী আমানত | ছবি : সংগৃহীত

নেতৃত্ব শুধু একটি পদ নয়, এটি একটি ভারী আমানত। সমাজ, রাষ্ট্র কিংবা যে কোনো সংগঠনের কল্যাণ অনেকাংশে নির্ভর করে সঠিক নেতৃত্বের ওপর। আজ যখন নেতৃত্বের প্রশ্নে নানা বিতর্ক, প্রতিযোগিতা ও বিভ্রান্তি দেখা যায়, তখন মুসলমানদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ হচ্ছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

তিনি কেমন মানুষকে দায়িত্ব দিতেন? কাদের হাতে অর্পণ করতেন রাষ্ট্র, প্রশাসন ও সমাজ পরিচালনার ভার? তাঁর জীবন ও হাদিস আমাদের সামনে স্পষ্ট এক মানদণ্ড তুলে ধরে।

হাদিসে এসেছে, নেতা নির্বাচনে মহানবী (সা.) কেবল যোগ্য ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকেই মনোনীত করতেন। তিনি স্বজনপ্রীতি, পক্ষপাত কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে কাউকে দায়িত্ব দিতেন না। ক্ষমতা বা পদের জন্য যারা লালায়িত হতো, তাদের ব্যাপারেও তিনি সতর্ক ছিলেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,‘আমি এই দায়িত্বপূর্ণ কাজে এমন কোনো ব্যক্তিকে নিয়োগ করব না, যে তা পাওয়ার জন্য প্রার্থী হবে; অথবা এমন কাউকেও নয়, যে তা পাওয়ার জন্য লালায়িত হবে।’ (মুসলিম : ১৮২৪)

এর পেছনে গভীর প্রজ্ঞা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘তুমি নেতৃত্ব চেয়ে নিও না। কেননা, যদি চাওয়ার পর তোমাকে তা দেওয়া হয়, তাহলে তার সকল দায়িত্বভার তোমার ওপরই অর্পিত হবে। আর যদি না চাওয়া সত্ত্বেও তোমাকে তা দেয়া হয়, তাহলে এ ক্ষেত্রে (আল্লাহর পক্ষ থেকে) সহযোগিতা করা হবে।’ (বোখারি: ৭১৪৭ ও মুসলিম : ১৬৫২)

অর্থাৎ নেতৃত্ব চেয়ে নেওয়ার বিষয় নয়; বরং যোগ্যতা ও আস্থার ভিত্তিতে অর্পিত একটি দায়িত্ব। নবীজি (সা.)-এর দৃষ্টিতে নেতৃত্ব ছিল আল্লাহ ও মুসলিম উম্মাহর আমানত। ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও সম্পদ—সবই আমানত, যা আল্লাহভীরু ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিদের হাতে ন্যস্ত থাকতে হবে।

কেউ ইচ্ছামতো তা ব্যবহার বা অপব্যবহার করার অধিকার রাখে না। যাদের হাতে এ আমানত সোপর্দ করা হবে, তারা এর জন্য জবাবদিহির মুখোমুখি হবেন।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দিচ্ছেন, আমানত তার প্রকৃত অধিকারীর কাছে পৌঁছে দিতে।’ (সুরা নিসা : ৫৮)

নবীজি (সা.) আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নেতা হবেন জনগণের সেবক (মিশকাত আল মাসাবিহ : ৩,৯২৫)। তিনি তাঁর সাহাবিদের এমনভাবেই গড়ে তুলেছিলেন, যাতে তারা নিজেদের শাসক নয়, বরং মানুষের খাদেম হিসেবে ভাবেন। ফলে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নিয়োজিত ব্যক্তিরা নিজেদের জনগণের সেবকের ভূমিকায় উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

মহানবী (সা.)-এর এই নীতিমালা আজও মুসলিম সমাজের জন্য দিকনির্দেশনা। নেতৃত্ব মানে ক্ষমতার প্রদর্শন নয়; বরং আমানতের সঠিক হেফাজত, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ। তাঁর শিক্ষা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—যোগ্যতা, তাকওয়া ও জবাবদিহিতার চেতনা ছাড়া প্রকৃত নেতৃত্ব সম্ভব নয়।

কালবেলা/এটিআর
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস পেল এটেক

সম্পদের তথ্য গোপন: সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের ৭ বছরের কারাদণ্ড

স্কুল থেকে অপহৃত ৭ বছরের শিশু পুলিশের অভিযানে উদ্ধার

ফ্রি খাদ্য কর্মসূচির বাজেট ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি কমাল ইন্দোনেশিয়া

কান কামড়ে জখমের মামলার আসামি বিএনপি নেতার প্রকাশ্যে সমাবেশ

‘বিএনপিকে একচুল ছাড় নয়’, ফেসবুকে কেন বললেন রনি

ইরানের শান্তি আলোচনার আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন যুক্তরাষ্ট্রের

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৪৬

কনটেন্ট ক্রিয়েটর বনি আমিনের ওপর হামলা

‘৩০ শতাংশ না দিলে প্রকল্প নয়’—ঘুড়কা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

১০

সন্দেহজনক কার্গো জাহাজ জব্দ করল দক্ষিণ কোরিয়া

১১

গাজীপুরে হাজীর মাজার বস্তিতে পুলিশের অভিযান

১২

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু

১৩

ময়মনসিংহে প্রতারক হরিদাস চন্দ্রের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

১৪

ভিডিও বিতর্কে গাজী নজরুলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ জামায়াত এমপি এনামুলের

১৫

অভিজ্ঞতা ছাড়াই ১০০ জনকে নিয়োগ দেবে প্রাণ গ্রুপ, আবেদন শেষ ৩১ জুলাই

১৬

‘তাদের উচ্ছ্বাস আমার পুরো দিনটাকে আনন্দময় করে তুলল’

১৭

ফের পিছিয়ে উত্তর কোরিয়ার কাতারে বাংলাদেশের পাসপোর্ট

১৮

৩০০ তরুণ-তরুণীকে চাকরি দেবে বেসরকারি সংস্থা, বেতন ১৮ হাজার

১৯

ফ্রান্সে দাবানলে পুড়েছে ৬ হাজার একরের বেশি এলাকা

২০
X