

বর্তমান যুগে ডিজিটাল লেনদেনের ব্যাপক প্রসারের ফলে ক্রিপ্টোকারেন্সি একটি বহুল আলোচিত বিষয়। তবে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে কোনো কিছু কেনা বা লেনদেন করা বৈধ কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ইসলামি চিন্তাবিদ এবং পাকিস্তানের ফেডারেল শরিয়ত আদালতের সাবেক বিচারপতি মুফতি মুহাম্মদ তকি উসমানী একটি গুরুত্বপূর্ণ ফতোয়া প্রদান করেছেন । ফতোয়াটিতে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ক্রিপ্টোকারেন্সি দিয়ে পণ্য কেনাকাটা করা ইসলামি শরিয়াহর দৃষ্টিতে বৈধ বা জায়েজ নয়।
করাচির জামিয়া দারুল উলুমের দারুল ইফতা থেকে গত ১০ জুন এই ফতোয়াটি জারি করা হয়। মুফতি তকি উসমানী ছাড়াও আরও পাঁচজন প্রথিতযশা আলেম এই ফতোয়ায় স্বাক্ষর করেছেন।
ফতোয়ার মূল ভাষ্য অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞদের নিবিড় গবেষণায় দেখা গেছে যে ক্রিপ্টোকারেন্সি শরিয়াহর সংজ্ঞায় ‘মাল’ বা সম্পদ হিসেবে গণ্য হওয়ার যোগ্যতা রাখে না। শরিয়াহর দৃষ্টিতে এটি কোনো প্রকৃত সম্পদ নয়, বরং অ্যাকাউন্টে জমা থাকা কিছু কাল্পনিক সংখ্যার রেকর্ড মাত্র, তা সে USDT হোক বা অন্য কোনো ক্রিপ্টো টোকেন।
লেনদেনের বৈধতা ও মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা
যেহেতু ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পদ হিসেবে স্বীকৃত নয়, তাই এর মাধ্যমে সম্পাদিত কোনো লেনদেন শরিয়াহ মোতাবেক পূর্ণতা পায় না। ফতোয়াটিতে এর দুটি সুনির্দিষ্ট উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে:
মুফতি তকি উসমানীর এই ফতোয়াটি মূলত ক্রিপ্টোকারেন্সির আইনি ও শরয়ি অসারতার দিকে আঙুল তুলেছে। ফতোয়াটিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যা সম্পদ হিসেবে স্বীকৃত নয়, তা দিয়ে লেনদেন করলে মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয় না। ফলে মুসলিম উম্মাহর জন্য এ ধরনের অনিশ্চিত এবং কাল্পনিক মুদ্রার মাধ্যমে কেনাকাটা থেকে বিরত থাকা জরুরি বলে মনে করছেন এই প্রখ্যাত ফকিহ।
তথ্যসূত্র: ডন