

ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাতভর রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বোমা হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি জানান, শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে রাশিয়া ১২০টির বেশি ড্রোন এবং ১২টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে অর্ধেকই ছিল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। খবর ফ্রান্স ২৪-এর।
দেশটির রাজধানী কিয়েভেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে।
এদিন ভোরে কিয়েভে পরপর দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। প্রথম বিস্ফোরণের কয়েক মিনিট পরই বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজতে শুরু করে।
জেলেনস্কি বলেন, ‘বিমান হামলার সতর্কতা জারির আগেই বেসামরিক অবকাঠামোতে আঘাত হানা হয়েছে।’ তার মতে, হামলায় কিয়েভে আবাসিক ভবন, অফিস এবং একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া দেশটির অন্যান্য অঞ্চলেও উদ্ধার অভিযান চলছে।
এছাড়া ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় সুমি শহরে বোমা হামলায় চারজন নিহত হন। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলীয় ওডেসা শহরে পৃথক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও দুইজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর ওলেগ কিপার।
জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বন্ধু দেশগুলোর প্রতি আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উৎপাদনের লাইসেন্স কার্যকরের অনুরোধ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা উৎপাদনের অনুমতি দেওয়ার ঘোষণা দেন। তবে জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখনো কিছু কারিগরি বিষয় চূড়ান্ত করা বাকি।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর উপদেষ্টা সেরহি স্টেরনেঙ্কোর দাবি, বিমান হামলার সতর্কতা বাজার আগেই ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এ থেকে ধারণা করা হয় রাশিয়া এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। তার ভাষায়, ‘এসব হামলার কোনো সামরিক কারণ নেই। এটি কেবল সন্ত্রাসের উদ্দেশ্যে চালানো হামলা।’
তবে ইউক্রেনের বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়া। দেশটির দাবি, তারা কিয়েভের সামরিক-শিল্প স্থাপনা এবং ওডেসার সমুদ্রবন্দর অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে।
এর আগে শুক্রবার দক্ষিণ রাশিয়ার কয়েকটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছিল ইউক্রেন।