

দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহত্তর সিউল অঞ্চলের ২২টি ভোটকেন্দ্রে ব্যালটপত্রের ঘাটতি এবং ভোটগ্রহণে ব্যাপক বিলম্বের ঘটনার দায় নিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান রো তে-আক। একই সঙ্গে পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছেন কমিশনের মহাসচিব হুন চুল-হুনও।
শুক্রবার (৫ জুন) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে রো তে-আক বলেন, জনগণের মূল্যবান ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। এমন ঘটনা কখনো ঘটার কথা ছিল না। এর কোনো অজুহাত হতে পারে না।
তিনি বলেন, পুরো ঘটনার দায় অনুভব করছি। তাই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলাম।
বুধবার ভোটগ্রহণের সময় সিউল ও ইনচনের কয়েকটি এলাকায় ব্যালটপত্র সংকট দেখা দেয়। ফলে কিছু ভোটারকে ভোট দিতে হয়েছে এক্সিট পোলের ফলাফল প্রকাশের পর। একই কারণে কয়েকটি নির্বাচনী এলাকার ভোট গণনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বিলম্বিত হয়।
২০২২ সালের মে মাস থেকে নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা রো তে-আক জানান, ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণের জন্য বাইরের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার বিষয়ে পার্লামেন্টারি তদন্তে নির্বাচন কমিশন পূর্ণ সহযোগিতা করবে। এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের কী ধরনের দায় রয়েছে তা নির্ধারণে যে প্রক্রিয়া হবে, তাতে আমরা আন্তরিকভাবে অংশ নেব। তদন্তে দায় প্রমাণিত হলে তা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না।
এদিকে সিউলের জামসিল এলাকার একটি ভোটকেন্দ্র ঘিরে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হলে ভোট গণনা আরও বিলম্বিত হয়। বিক্ষোভকারীরা ব্যালট বাক্স সরিয়ে নিতে বাধা দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিলে শুক্রবার ভোট গণনা পুনরায় শুরু হয়। ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর সিউল সিটি কাউন্সিলের একটি আসনের ফলাফল বদলে যায়। শুরুতে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত আসনটি পিপল পাওয়ার পার্টির প্রার্থী জিতে নেন।
একই কারণে সিউলের মেয়র ও সে-হুনের বিজয়ও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হতে দেরি হয়েছে। ভোট গণনা বিলম্বিত হওয়ায় তিনি শুক্রবার বিকেলে তার প্রতিদ্বন্দ্বী চং ওয়ন-ওর বিরুদ্ধে এক দশমিক এক পাঁচ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন।
সূত্র : দ্য কোরিয়া হেরাল্ড