

কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে বিস্ফোরণ ঘটানোর অভিযোগে ইউক্রেনকে দায়ী করেছে তেহরান। ইরানের দাবি, ওই হামলায় একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন।
রোববার (২৬ জুলাই) এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, তেহরান এই হামলাকে শত্রুতাপূর্ণ ও অপরাধমূলক বলে আখ্যা দিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইউক্রেন হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং এটি কিয়েভের অযৌক্তিক ও বৈরী নীতির’ই বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে ইরান জানিয়েছে, নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তেহরানের মতে, এ হামলা জাতিসংঘ সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন এবং এর ফলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাসের সঙ্গে ফোনালাপে বিষয়টি উত্থাপন করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আরাগচি কাস্পিয়ান সাগরে জাহাজে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর প্রতিক্রিয়া এবং হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও তাদের সমর্থকদের জবাবদিহির দাবি জানান।
আলজাজিরার তেহরান প্রতিনিধি তোহিদ আসাদির মতে, দক্ষিণ উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলে এ ধরনের হামলা ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, কাস্পিয়ান সাগরে দীর্ঘপাল্লার হামলায় ইউক্রেন গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে এবং সেখানে সামরিক মালামাল বহনকারী জাহাজ ও একটি যুদ্ধজাহাজে আঘাত হানা হয়েছে। তবে ইরান যে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ করেছে, সেটির নাম তিনি উল্লেখ করেননি।
২০২২ সালে রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহের পর থেকেই ইরান ও ইউক্রেনের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ। কিয়েভের দাবি, রাশিয়ার অভিযানে ব্যবহৃত ৪৪ হাজারের বেশি ইরানি নকশার ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে। পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানি ড্রোন মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত সহায়তাও দিচ্ছে ইউক্রেন।