কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
অনলাইন সংস্করণ

আরও এক ঐতিহাসিক মসজিদকে মন্দির ঘোষণা করল ভারত

ভোজশালা কমপ্লেক্স। ছবি: সংগৃহীত
ভোজশালা কমপ্লেক্স। ছবি: সংগৃহীত

আরও এক ঐতিহাসিক মসজিদকে মন্দির ঘোষণা করেছে ভারত। দেশটির একটি উচ্চ আদালত ভোজশালা কমপ্লেক্সকে ঘিরে এ রায় দিয়েছেন। বহুদিন ধরে যৌথ ধর্মীয় গুরুত্ব বহনকারী এই স্থাপনাকে কেন্দ্র করে আদালতের সিদ্ধান্তে কামাল মৌলা মসজিদকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি হিন্দু মন্দির হিসেবে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।

সম্প্রতি আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালত ওই স্থানে মুসলিমদের নামাজ আদায় নিষিদ্ধ করেছে। এর মাধ্যমে শত শত বছর ধরে চলে আসা একটি ধর্মীয় প্রথার অবসান ঘটেছে। এই ঘটনাকে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোকে ঘিরে ভারতে চলমান আইনি ও ধর্মীয় উত্তেজনার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই রায়ের ফলে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় তাদের ঐতিহ্যবাহী উপাসনাস্থলে প্রবেশাধিকার হারানোর মুখে পড়েছে।

ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ধার শহরে অবস্থিত কামাল মৌলা মসজিদ বহু দশক ধরে ৭৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ রফিকের কাছে যেন দ্বিতীয় বাড়ির মতো ছিল। গত ৫০ বছর ধরে রফিক এই মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার আগে তার দাদা হাফিজ নজিরউদ্দিনও এখানে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। এই ধারাবাহিকতা ভারত ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা পাওয়ারও আগে শুরু হয়েছিল।

কিন্তু বর্তমানে প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে সংরক্ষিত ভোজশালা কমপ্লেক্সের এই মসজিদ রফিক ও ধার এলাকার অন্য মুসলমানদের জন্য নিষিদ্ধ হয়ে গেছে।

মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে করা এক আবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ওই স্থানে মসজিদের আগে একটি মন্দির ছিল। সেই মামলার শুনানি শেষে শুক্রবার আদালত রায় দেন যে, মধ্যযুগীয় এই স্থাপনাটি মূলত এক হিন্দু দেবীর উদ্দেশ্যে নিবেদিত মন্দির।

গত রোববার ১৩ থেকে ১৪ শতকের এই স্থাপনাটি গেরুয়া পতাকায় ছেয়ে ফেলা হয়। গেরুয়া পতাকা কট্টর হিন্দুত্ববাদী আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। এ সময় তরুণদের অনেককে ধর্মীয় সুরে নাচতে এবং মোবাইলে সেই দৃশ্য ধারণ করতে দেখা যায়। কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে স্থানীয় কর্মীরা সেখানে দেবীর একটি অস্থায়ী মূর্তি স্থাপন করেন এবং বিপুল সংখ্যক হিন্দু উপাসক সেখানে জড়ো হন।

ধার শহরের এই কামাল মৌলা মসজিদ একা নয়। ভারতের বিভিন্ন স্থানে কট্টর হিন্দুত্ববাদী কর্মীরা একই ধরনের দাবি তুলে আসছেন। তাদের দাবি, বহু মসজিদ পূর্ববর্তী হিন্দু মন্দিরের ওপর নির্মিত হয়েছিল। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর এসব দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সিলেট জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি গোপিকা শ্যাম, সেক্রেটারি দীপক দাস 

প্রধানমন্ত্রী / তরুণদের সম্ভাবনাকে অগ্রগতির চালিকাশক্তিতে পরিণত করা অন্যতম লক্ষ্য

২১তম বিসিএস প্রশাসনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সম্মিলন

‘ভালো চর্বি শরীরের শত্রু নয়, অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবারই বড় ঝুঁকি’

ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন আজ

বন্যায় বিপর্যস্ত চট্টগ্রামে এবার ব্যাংকে ডাকাতির গুজব

সেই মেরিনোই যখন লা রোজাদের ত্রাতা

স্থগিত নয় সিলেট শিক্ষাবোর্ডের শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা

শেষ মুহূর্তের গোলে বিদায় নিল বেলজিয়াম, সেমিফাইনালে স্পেন

ইরান আমাকে হত্যা করলে, নজিরবিহীন ‘বোমা হামলা’ হবে: ট্রাম্প

১০

রূপগঞ্জের ৩৪ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সংসদ ভবন পরিদর্শন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ

১১

র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দা প্রধানকে ধন্যবাদ জানিয়ে পরীমনির পোস্ট

১২

সমতায় থেকে বিরতিতে গেল বেলজিয়াম-স্পেন

১৩

এবার নোরা ফাতেহির ফেক ভিডিও ভাইরাল

১৪

সেমির লড়াইয়ে মাঠে নামল স্পেন-বেলজিয়াম

১৫

বিতর্কের পর বিশ্বকাপে ভিএআরে বড় পরিবর্তন আনল ফিফা

১৬

বাঁশখালীর বন্যার্ত মানুষের পাশে ঢাবি ছাত্রদল নেতা নাছির উদ্দিন শাওন

১৭

‘শুধু হিন্দুরাই বৃত্তি পেয়েছে’ দাবিতে ভুল তথ্য ভাইরাল

১৮

কক্সবাজারে ২০০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি ৬ লাখ মানুষ

১৯

টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে হাতিয়ার ৮০ গ্রাম, পানিবন্দী ৫০ হাজার মানুষ

২০
X