

যুক্তরাষ্ট্রে নিজের স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে প্রায় নয় মাস পর এক ভারতীয় প্রকৌশলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ভারতে থাকা এক নারীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে গোপন সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি ওই নারীকে স্ত্রীর মরদেহের ছবিও পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, ৩০ বছর বয়সী অভিনাশ নার্নে গত বছরের অক্টোবর মাসে তার স্ত্রী রাজিথা সাব্বিনেনিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন তিনি।
স্ত্রীকে হত্যার পর অভিনাশ পুলিশে ফোন করে জানান, তার স্ত্রী বাথরুমে আটকা পড়েছেন এবং দরজা খুলছেন না। পরে পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে রাজিথাকে মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাবি করেছিলেন, তিনি কিছু কাজের জন্য বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন। প্রায় ৪০ মিনিট পর ফিরে এসে দেখেন, তার স্ত্রী বাথরুমে আটকা রয়েছেন। তবে তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ওই সময় নার্নে ছাড়া অন্য কেউ বাসায় প্রবেশ করেনি।
পরদিন কিং কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয় জানায়, রাজিথার মৃত্যু দুর্ঘটনা নয়; বরং তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
তদন্তে আরও জানা যায়, ভারতে থাকা এক নারীর সঙ্গে বহু বছর ধরে গোপন সম্পর্ক ছিল অভিনাশ নার্নের। ওই সম্পর্ক চলাকালেই ২০২৫ সালের ৫ জুন পারিবারিকভাবে রাজিথা সাব্বিনেনির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এমনকি তার প্রেমিকাও ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। বিয়ের পরও ওই নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছিলেন নার্নে।
পুলিশের মতে, হত্যাকাণ্ডের দিন তিনি অন্তত চারবার ওই নারীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এমনকি অভিনাশ যখন পুলিশকে জানান তিনি বাথরুমের দরজা খোলার চেষ্টা করছেন, তখনো তাদের মধ্যে ফোনে কথা হয়েছিল। এমনকি তিনি তার স্ত্রীর মরদেহের একটি ছবিও ওই নারীকে পাঠিয়েছিলেন।
তদন্তে রাজিথার পাঠানো কয়েকটি বার্তাও উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে তিনি অভিনাশকে একাধিকবার অভিযোগ করেছিলেন, তার বানানো স্মুদির স্বাদ ‘ওষুধ’ ও ‘কাশির সিরাপের’ মতো।
গত ৫ জুলাই অভিনাশ নার্নের বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। বর্তমানে তিনি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার জামিনে কারাগারে রয়েছেন।