কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্পকে হতাশ করে নতুন ঘোষণা আরব দেশগুলোর

জিসিসির বৈঠকে আরব দেশগুলোর নেতারা। ছবি : সংগৃহীত
জিসিসির বৈঠকে আরব দেশগুলোর নেতারা। ছবি : সংগৃহীত

ইরানে চলমান ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আগ্রাসনের জবাবে প্রতিশোধমূলক হামলার অংশ হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোতেও আক্রমণ করছে তেহরান। আরব দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকায় সেগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে বরাবরই বলে আসছে ইরান। তবে এতে বেশ বিরক্ত ও ক্ষিপ্ত আরব দেশগুলো।

তারা বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) বৈঠক ডেকেছিল। এই সভার দিকে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের কড়া নজর থাকলেও জিসিসির সিদ্ধান্ত জানার পর তারা হতাশ হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বার বার বলে আসছেন যে, ইরানের হামলার জবাব দেবে আরব দেশগুলো। এমনকি তিনি এ-ও বলেছেন যে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান নিজেই ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়ে যেতে চান। তিনিও এই যুদ্ধের অংশ। তাকে যোদ্ধা হিসেবেও অভিহিত করেন ট্রাম্প।

এ কারণে জিসিসির বৈঠকের দিকে তাকিয়ে ছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তবে পাল্টা হামলার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় আশাহত হয়েছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। একই সঙ্গে আরব দেশগুলো কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানোয় আরও বিপাকে পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

জিসিসির বৈঠকে বেশ কিছু বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের যুদ্ধ আলোচনার মাধ্যমে ও কূটনৈতিক উপায়ে শেষ করতে হবে।

বৈঠক শেষে জিসিসির মহাসচিব আল-বুদাইওয়ি বলেছেন, জিসিসিভুক্ত দেশগুলো স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না বা ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না।

তেহরান এসব হামলা বন্ধ করবে এই আশায় জিসিসি দেশগুলো কখনোই ইরানি হামলার জবাব বা প্রতিশোধ নেয়নি।

জিসিসি দেশগুলো গত কয়েক বছর ধরে এই অঞ্চলের উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করে যাচ্ছে।

গত বছরের জুনে যখন ইসরাইল ইরানকে আক্রমণ করেছিল, তখন জিসিসি দেশগুলো বৈঠক করে সেই হামলার নিন্দা জানিয়েছিল এবং কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছিল।

ইরানি হামলা বন্ধে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়ে জিসিসি মহাসচিব বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার কারণে একটি অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

সৌদি আরব ও কুয়েতের প্রধান তেল শোধনাগারগুলো ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি একটি আন্তর্জাতিক দায়িত্ব; আজ যা হুমকি, তা ভবিষ্যতে আরও প্রকট হবে, তাই তেলের সরবরাহ শৃঙ্খল রক্ষা করা জরুরি।

তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর মূল বার্তা হলো হামলা বন্ধের জন্য একটি কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করা। বিশ্বজুড়ে আমাদের অংশীদারদের প্রতি আমাদের প্রধান বার্তা হলো ইরানকে একটি ঐক্যবদ্ধ আন্তর্জাতিক বার্তা দেওয়া, যাতে তারা জিসিসি দেশগুলোর ওপর তাদের হামলা অবিলম্বে এবং নিঃশর্তভাবে বন্ধ করে।

তিনি আরও বলেন, জিসিসির লক্ষ্য ইরানকে ধ্বংস করা নয়, বরং দেশটির সঙ্গে একটি সুসম্পর্ক গড়ে তোলা। পারস্য উপসাগরীয় পরিস্থিতির অবনতি এমন একটি সতর্কতা হবে যা এই অঞ্চলের সীমানা ছাড়িয়ে যাবে।

সূত্র : আল জাজিরা

কালবেলা/আইএইচ
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে দাবি / এমপি নজরুলের নির্দেশে হামলা হয়েছিল ড্রাইভারের ওপর

বিশ্ববাজারে দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চে স্বর্ণের দাম

এলডিসি উত্তরণে প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর সুপারিশ ইকোসকের

৪৮ ঘণ্টায় বিক্রি ১৫ কোটি টাকার টিকিট

জামায়াত এমপির ভিডিওকাণ্ড: তদন্ত দাবি তাসনিম জারার

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ

ইউক্রেনের সেনাবাহিনীতে রদবদল করলেন জেলেনস্কি

রাজধানীতে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, প্রধান আসামি রিমান্ডে

১৭ দিন ধরে নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী, দিশাহারা বাবা-মা

১০

আসিয়ানের পক্ষে রাশিয়ার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করলেন লাভরভ

১১

ব্রাহ্মণপাড়ায় বেহাল সড়কে সীমাহীন দুর্ভোগ

১২

সন্ধ্যার মধ্যে যেসব অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস

১৩

তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই  

১৪

দেশের বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি কত

১৫

পরস্পরকে দুর্বল করছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, তামাশা দেখছে ইসরায়েল

১৬

ডিআর কঙ্গোতে দ্রুত ছড়াচ্ছে ইবোলা, নিয়ন্ত্রণ না করলে ব্যাপক প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা

১৭

ভাড়া বাসা থেকে রাজমিস্ত্রির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

১৮

সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি কমছে

১৯

সরিষাবাড়ী পৌরসভায় তীব্র পানি সংকট, বিপর্যস্ত জনজীবন

২০
X