কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের ঘুম হারাম করা কমান্ডার নিহত, জানাল ইরান

আইআরজিসির নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরি। ছবি: সংগৃহীত
আইআরজিসির নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরি। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘুম হারাম করা ইরানের কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরি নিহত হয়েছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরান জানিয়েছে, দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরি নিহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএনএ প্রকাশিত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গুরুতর আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে গত সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেছিলেন, ইসরায়েলি বাহিনীর পরিচালিত একটি ‘নির্ভুল ও প্রাণঘাতী অভিযানে’ তাংসিরি এবং আরও কয়েকজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলে সংবাদমাধ্যম জানায়, ইরানের বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসে একটি হামলায় তাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়। এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা দাবি করেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার সিদ্ধান্তে তাংসিরির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে এক মাসের যুদ্ধের পর স্থল অভিযানের জন্য প্রস্তুত বলে খবর প্রকাশিত হচ্ছে। কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের চেষ্টার আড়ালে ইরানে চূড়ান্ত হামলার জন্য তৈরি হচ্ছে ওয়াশিংটনের বাহিনী। তবে সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের মতে—যুক্তরাষ্ট্র যদি উপসাগর এলাকায় অবস্থিত ইরানের দ্বীপগুলো দখল করতে চায়, তাহলে সে অভিযান খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাদের ভাষ্য, মার্কিন সেনারা সহজে দ্বীপপুঞ্জে নামতে পারলেও পরে তারা ‘গুলি বর্ষণের লক্ষ্যবস্তু’ বা এক ধরনের ফাঁদে আটকে পড়তে পারে। যেখানে সরবরাহ শৃঙ্খল দুর্বল থাকবে এবং লক্ষ্য পরিষ্কার নাও থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো হামলা শুরু হলে প্রথমেই যুক্তরাষ্ট্র ইলেকট্রনিক যুদ্ধ চালাবে। অর্থাৎ রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করার চেষ্টা করা হবে। এরপর শুরু হবে ব্যাপক বিমান হামলা, যার লক্ষ্য হবে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা। এ ধাপগুলোকে ‘প্রস্তুতিমূলক অভিযান’ বলা হয়, যা মূল আক্রমণের আগে চালানো হয়।

ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ এ ধরনের অভিযানের লক্ষ্য হতে পারে। এর মধ্যে খারগ দ্বীপ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখান থেকেই ইরান তার প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি করে। এ ছাড়া আবু মুসা দ্বীপ এবং তার আশপাশের ছোট দ্বীপগুলোও গুরুত্বপূর্ণ, যেগুলো নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে। আরেকটি বড় লক্ষ্য হতে পারে কেশম দ্বীপ, যা আকারে বড় এবং যেখানে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণের জন্য টানেল তৈরি করেছে। এই দ্বীপে প্রায় দেড় লাখ মানুষ বাস করে এবং এটি মূল ভূখণ্ডের খুব কাছাকাছি।

বিশ্লেষকদের মতে, সমুদ্রপথে আক্রমণের চেয়ে আকাশপথে অভিযান চালানোর সম্ভাবনাই বেশি। কারণ ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর শক্ত নিয়ন্ত্রণ রাখে, ফলে বড় জাহাজ নিয়ে সেখানে প্রবেশ করা কঠিন। তাই হেলিকপ্টার ও বিশেষ বিমান ব্যবহার করে সেনা নামানো হতে পারে। যেমন ভি-২২ অসপ্রে, চিনুক বা ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে সেনাদের দ্রুত দ্বীপে নামানো সম্ভব।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঘটনাপ্রবাহ: ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দুধে মজাদার স্বাদ: ঘরোয়া ও ঐতিহ্যবাহী কিছু জনপ্রিয় খাবার

বিশ্বকাপের আগে বর্ষসেরার পুরস্কার জিতলেন ইয়ামাল

নির্বাচনের পরও ভারত দ্বিচারী ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে: সাইফুল হক

জেলেনস্কির বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন পুতিন

সান মারিনো ম্যাচের একাদশে নেই শমিত

ইউএনওর অভিযানে হামলার ঘটনায় ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : জয়সওয়াল

ভারতে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার ক্লার্ক

আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় সুখবর, দলে যোগ দিলেন মেসি

দুই হাজারের বেশি বন্দিকে ক্ষমা করলেন মোজতবা খামেনি

১০

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ‘গোপন অস্ত্র’ হতে পারেন থিয়াগো

১১

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল মিলেমিশে একাকার

১২

ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে ভূখণ্ড ব্যবহারের অভিযোগ, জবাব দিল আজারবাইজান

১৩

৬০০ ফুট পতাকা নিয়ে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের শোভাযাত্রা

১৪

বিয়ের পর জীবনসঙ্গী নিয়ে দীপ্তি চৌধুরীর ফেসবুক পোস্ট

১৫

পদ্মায় বাস ডুবির ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

১৬

আইইউবিএটির সামার ২০২৬ সেমিস্টারের নবীন শিক্ষার্থীদের পরিচিতি পর্ব সম্পন্ন

১৭

বজ্রপাতে বাবা-মেয়ের মৃত্যু

১৮

‘ভাগ্য সংবিধানের হাতে ছেড়ে দিলাম’, ভারতে আসছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা

১৯

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

২০
X