

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার মানচিত্র প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। প্রথমবারের মতো দেশটির ভেতরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার মাত্রচিত্র প্রকাশ করেছে তারা।
রোববার (১৯ এপ্রিল) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রকাশিত এই মানচিত্রে দেখা গেছে, দক্ষিণ লেবাননের বহু গ্রাম এখন ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যদিও এসব এলাকার বেশিরভাগই পরিত্যক্ত। হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে সেনাবাহিনী।
রয়টার্স জানিয়েছে, এ বিষয়ে লেবাননের সরকারি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এমনকি হিজবুল্লাহও এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে। কয়েক দশকের মধ্যে প্রথম সরাসরি আলোচনার পর এই চুক্তি হয়েছে। এর লক্ষ্য ছিল বৃহত্তর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার পথ তৈরি করা। তবে এই ব্যবস্থার মধ্যেও ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের ভেতরে তাদের অবস্থান বজায় রেখেছে।
প্রকাশিত মানচিত্রে দেখা গেছে, দেশটির পূর্ব থেকে পশ্চিমে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। সীমান্ত থেকে ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার ভেতরে লেবাননের ভূখণ্ডে ঢুকে গেছে তারা। ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা এখানে একটি তথাকথিত ‘বাফার জোন’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে।
ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, উত্তর ইসরায়েলের শহরগুলোকে হিজবুল্লাহর হামলা থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে তারা এই এলাকায় লেবাননের গ্রামগুলো ধ্বংস করেছে। এর আগে তারা সিরিয়া ও গাজাতেও একই ধরনের বাফার জোন তৈরি করেছে।
এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে ফ্রন্টলাইনে একসঙ্গে পাঁচটি ডিভিশন ও নৌবাহিনীর সদস্যরা কাজ করছে। হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ধ্বংস এবং উত্তর ইসরায়েলের জনগণের ওপর সরাসরি হুমকি প্রতিরোধ করতে তাদের কাযক্রম অব্যাহত রয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, এসব এলাকারর বাসিন্দারা তাদের বাড়িতে ফিরতে পারবেন কিনা এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কোনো মন্তব্য করেনি।
লেবাননের একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, কিছু গ্রামে সাধারণ মানুষ প্রবেশ করতে পারলেও, ওই নির্ধারিত লাইনের দক্ষিণে অধিকাংশ এলাকায় এখনো ইসরায়েলি বাহিনী প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, সীমান্তবর্তী যেসব ঘরবাড়ি হিজবুল্লাহ ব্যবহার করেছে, সেগুলো ধ্বংস করা হবে। আমাদের সৈন্যদের জন্য হুমকি হতে পারে এমন যেকোনো স্থাপনা এবং বিস্ফোরক পুঁতে রাখা হতে পারে এমন যেকোনো রাস্তা দ্রুত ধ্বংস করতে হবে।