

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, মার্চ মাসে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে এখন পর্যন্ত তিনি ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করেননি। পডকাস্টার জাভাদ মোগুইয়ের সঙ্গে এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, যুদ্ধের শুরুতে ইসরায়েল যে নিরাপত্তা দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল, সেই দুর্বলতা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। খবর সিএনএনের।
সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি বলেছিলেন, আপনি কি কখনো এমন কোনো বৈঠকে অংশ নিয়েছেন, যেখানে যে কোনো মুহূর্তে বোমা হামলার আশঙ্কা ছিল?
আরাগচির দাবি, ফেব্রুয়ারিতে তেহরানে চালানো মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা, যাতে সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি এবং তার পরিবারের বহু সদস্য নিহত হন, তা একটি নিরাপত্তা দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে পরিচালিত হয়েছিল। তিনি বলেন, সেই নিরাপত্তা দুর্বলতা এখনো বিদ্যমান।
সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির মৃত্যুর খবর জানার পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল এ প্রসঙ্গে আরাগচি বলেন, প্রথম দিন থেকেই পরিকল্পনা ছিল, যদি সর্বোচ্চ নেতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, তাহলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হবে। তিনি জানান, এরপরই তিনি আঞ্চলিক দেশগুলোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালাব। বুঝে নিন, এই পদক্ষেপ কেবল আমেরিকার বিরুদ্ধেই হবে।
নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে আরাগচি বলেন, সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত আমি ব্যক্তিগতভাবে মোজতবার সঙ্গে দেখা করিনি। খুব অল্পসংখ্যক মানুষই তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পেয়েছেন।
সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে তিনি দাবি করেন, ২০২৫ সালের জুন এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যবর্তী আট মাসে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এমনভাবে পরিবর্তন করেছে, যাতে যত ক্ষেপণাস্ত্রই নিক্ষেপ করা হোক না কেন, তাদের মজুত শেষ হয়ে না যায়।
যুদ্ধ চলাকালে নিজের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আরাগচি বলেন, তিনি এবং উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভবন ছেড়ে যাননি। প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা তারা গাড়িতে করে রাজধানী তেহরান ঘুরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতেন। তিনি বলেন, আমি আমার মোবাইল ফোন এক মুহূর্তের জন্যও দূরে রাখতে পারিনি।
ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আরাগচি বলেন, যদি আমাদের পূর্ণাঙ্গ সামরিক বিজয় অর্জনের সক্ষমতা না থাকে, তাহলে আলোচনায় বসতেই হবে। তবে আলোচনা তখনই হওয়া উচিত, যখন সামরিক ক্ষেত্রে আপনার অবস্থান শক্তিশালী থাকবে।