

ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জাফার কায়েমপানাহ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ইরানি জনগণ ও দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিরোধের মনোভাবকে বিন্দুমাত্র দুর্বল করতে পারবে না। তিনি জানান, হরমোজগান প্রদেশের শহীদ মিরজাই টানেলে মার্কিন হামলার পর মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যেই সেটি পুনরায় যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। খবর ইরনার।
রোববার (১৯ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কায়েমপানাহ বলেন, বান্দার আব্বাস-হাজিয়াবাদ সড়কের শহীদ মিরজাই টানেলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার উদ্দেশ্য ছিল হরমোজগান প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করা। তবে দ্রুত মেরামত শেষে মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যেই টানেলটি পুনরায় চালু করা হয়।
তিনি বলেন, শত্রুপক্ষের এ ধরনের হামলা ইরানি জনগণ কিংবা দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিরোধের শক্তিকে সামান্যতমও দুর্বল করতে পারেনি।
দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর সমস্যা পর্যালোচনা ও সমাধানের লক্ষ্যে রোববার দুপুরে হরমোজগান সফরে যান কায়েমপানাহ। শহীদ মিরজাই টানেল পরিদর্শনের সময় তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের নির্দেশে একটি প্রতিনিধি দল হরমোজগানে এসেছে, যাতে দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধান করা যায়।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেবেছিল টানেলে হামলা চালিয়ে হরমোজগানের যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে দেওয়া যাবে। কিন্তু তারা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে যে ইরানের জনগণ দৃঢ়ভাবে নিজেদের অবস্থানে অটল রয়েছে।
কায়েমপানাহ বলেন, আমাদের শ্রমিক ও কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কাজ শুরু করেন এবং মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যেই শহীদ মিরজাই টানেল পুনরায় যান চলাচলের জন্য খুলে দেন।
তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের অর্থনীতিতে আঘাত হানা। কিন্তু ইরানি জনগণের দৃঢ় সংকল্পের কারণে সেই লক্ষ্য সফল হবে না।
এদিকে খুজেস্তান প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ শুর নদীর ওপর ক্ষতিগ্রস্ত একটি সেতু পরিদর্শনকালে কায়েমপানাহ জানান, সেতুতে হামলার পরপরই একটি বিকল্প সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে এবং বর্তমানে ওই পথ দিয়ে স্বাভাবিকভাবে যান চলাচল করছে।