

জাতিসংঘ ও নিরাপত্তা পরিষদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে কাতারের ভূখণ্ডে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে কাতার সরকার। চিঠিতে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে ক্ষয়ক্ষতির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে দোহা। খবর আল জাজিরার।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রেরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ৭ই জুলাই হরমুজ প্রণালির কাছে একটি কাতারি ট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করে ইরান। এরপর ১২ই এবং ১৭ই জুলাই দেশটির বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তারা।
কাতারের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ১২ই জুলাইয়ের হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর তার ধ্বংসাবশেষ আবাসিক এলাকায় গিয়ে পড়ে। এতে এক শিশুসহ তিনজন আহত হন।
এসব হামলার মাধ্যমে ইরান আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব লঙ্ঘন করেছে। এ কারণে ক্ষতিপূরণ দাবি করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকারও সংরক্ষণ করবে বলে জানিয়েছে কাতার।
বিবৃতিতে কাতারি ভূখণ্ডে ইরানের আগ্রাসন দেশটির জাতীয় সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার জন্য প্রত্যক্ষ হুমকি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাই হামলার কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানকে আর্থিকভাবে দায়ী করা উচিত বলে মনে করছে কাতার।
কাতার জানিয়েছে, নিজেদের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং নাগরিকদের জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে তারা দ্বিধা করবে না।
অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়াই হরমুজ প্রণালির নির্দিষ্ট রুট ব্যবহার করা বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের লঙ্ঘন। দেশটির অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র এবং কয়েকটি মিত্র দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে ওই রুট ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছে, যাতে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।