

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের দুই সাংবাদিকের সদ্য প্রকাশিত একটি বইয়ে দাবি করা হয়েছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালে এক ফোনালাপে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বলেছিলেন, সব ইহুদিই তোমার ওপর বিরক্ত।
সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের লেখা ‘রেজিম চেঞ্জ: ইনসাইড দ্য ইম্পেরিয়াল প্রেসিডেন্সি অব ডোনাল্ড ট্রাম্প’ বইটিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। বইটির একটি অংশে বলা হয়েছে, গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলাকালে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে উত্তপ্ত কথোপকথন হয়েছিল।
সে সময় ইসরায়েলের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য কাতারে যান হামাসের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা। হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে ইসরায়েল হামলা চালায়। তবে হামলায় লক্ষ্যবস্তুতে থাকা শীর্ষ হামাস নেতারা নিহত না হলেও কয়েকজন নিম্নপদস্থ সদস্য এবং একজন কাতারি নিরাপত্তারক্ষী নিহত হন।
এর পরপরই হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যকার আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা অব্যাহত রাখতে অস্বীকৃতি জানায় কাতার।
বইটির দাবি অনুযায়ী, ওই ফোনকলে নেতানিয়াহুর সঙ্গে ছিলেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। সে সময় ট্রাম্প বলেন, সবাই তোমার ওপর বিরক্ত, বিবি। সব ইহুদিই তোমার ওপর বিরক্ত। এমনকি এই কলে থাকা দুই ইহুদিও তোমার ওপর বিরক্ত।
লেখকদের ভাষ্য, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় এই কথোপকথন হয়েছিল। তখন ট্রাম্প গাজা যুদ্ধের অবসান ও অঞ্চলটির পুনর্গঠনের লক্ষ্যে একটি ২০ দফা পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
বইটিতে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে তিনি সরে যেতে পারবেন না।
ট্রাম্প আরও বলেন, সবাই তোমাকে ঘৃণা করে, আর আমি তোমার পাশে দাঁড়িয়েছি। তিনি সতর্ক করে বলেন যে ইসরায়েল এই চুক্তি (গাজা নিয়ে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা) মেনে না নিলে দুই দেশের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটবে।
তবে বইয়ে উত্থাপিত এসব দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত ট্রাম্প, হোয়াইট হাউস কিংবা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।