নদীভাঙন রোধের মাধ্যমে বাগেরহাট জেলার সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিইডি)। এজন্য ‘বাগেরহাট জেলার পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৭৭ কোটি টাকা। প্রকল্পটি এরই মধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের ১৪তম একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। এটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৭৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত।
প্রকল্প প্রস্তাবের নথি থেকে জানা গেছে, বাগেরহাট জেলার সদর, চিতলমারী, মোল্লাহাট, ফকিরহাট, কচুয়া, রামপাল মোংলা, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। প্রকল্পের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, নদীর তীর সংরক্ষণমূলক কাজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদীভাঙন রোধ, বন্যার হাত থেকে স্থানীয়দের রক্ষা এবং নদীর নাব্য স্বাভাবিক রাখতে নদী ড্রেজিং করা হবে।
এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় ফরিদপুর জেলার মধুখালী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার ৮ প্রবল নদীভাঙন কবলিত স্থানে বিদ্যমান সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, বিদ্যালয়, হাট-বাজার, রাস্তা, ব্রিজ, ফসলি ও বাসযোগ্য জমি, কমিউনিটি ক্লিনিক, ধর্মীয় উপাসনালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীভাঙন থেকে রক্ষা করা হবে। এতে আনুমানিক ২ হাজার ৭৭২ কোটি টাকার সম্পত্তি রক্ষা করা সম্ভব হবে বলেও প্রকল্পের উদ্দেশ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে, সাড়ে ৭ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ এবং ৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার চর অপসারণের জন্য ড্রেজিং করা।
এডিপির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রকল্পটি বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় গ্রামীণ সড়ককে দুর্যোগ সহনীয় দুই লেন সড়কে উন্নীতকরণ, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন, সেতু নির্মাণ বা পুনর্বাসন, ইউনিয়ন সড়কের ইন্টারসেকশন নিরাপদকরণ, গ্রোথ সেন্টার উন্নয়ন, বাজার উন্নয়নের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি), টেকসই কৃষির প্রসার, অভিঘাতসহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই শিল্পায়নের কথা উল্লেখ রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং এসডিজির লক্ষ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় এরই মধ্যে নির্মিত সড়কসহ আলোচ্য প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বাগেরহাট জেলার ৯৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ উপজেলা সড়ক, ৯১ শতাংশ ইউনিয়ন সড়ক এবং ৩৪ শতাংশ গ্রামীণ সড়ক পাকাকরণ সম্পন্ন হবে। ফলে নিরবচ্ছিন্ন সড়ক নেটওয়ার্ক স্থাপিত হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এসব এলাকার সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে কৃষি ও অকৃষি পণ্য পরিবহন খরচ কমার পাশাপাশি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এসব কারণে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রস্তাবিত ‘বাগেরহাট জেলার পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
মন্তব্য করুন