

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসরের মাসব্যাপী আয়োজনে প্রায় অর্ধেক সময় পেরিয়েছে। সেইসঙ্গে প্রাণ ফিরেছে মেলায়। বিশেষ করে আবহাওয়ার বৈরিতা না থাকলে লোকসমাগমে ছুটির দিনগুলোতে পা ফেলার জায়গা থাকছে না মেলা প্রাঙ্গণে। ব্যবসায়ীরা জানান, কাঠের ফার্নিচারের চাহিদা বেড়েছে ব্যাপক। মেলায় আসা ক্রেতা-দর্শনার্থীরা ফার্নিচারের স্টলগুলো ঘুরে ঘুরে দেখছেন। পছন্দের ফার্নিচার অর্ডার করছেন।
গতকাল শনিবার সরেজমিন দেখা যায়, মেলায় কাঠের ফার্নিচারের প্যাভিলিয়নগুলোর জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে চায়না এক্সিবিশন সেন্টারের ভেতর। সারি করে পাশাপাশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কাঠের ফার্নিচারের প্যাভিলিয়নগুলো হওয়ায় কোনো ঝক্কি-ঝামেলা ছাড়াই পছন্দের পণ্য বা আসবাব কিনতে পারছেন ক্রেতারা।
পুরান ঢাকার বংশাল থেকে আসা আকলিমা বেগম নামে এক ক্রেতা বলেন, প্রতি বছরই মেলায় ব্র্যান্ড ফার্নিচার কোম্পানিগুলো আধুনিক ও গতানুগতিক ধারার বাইরে ডিজাইন বা নকশার পণ্য নিয়ে আসে। সেসব নতুন নকশার পণ্য দেখতে এসেছেন। পছন্দের সঙ্গে দাম মিলে গেলে কিনে ফেলবেন।
নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকার বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে ঘর সাজানোর জন্য এক সেট সোফা কিনব ভাবছিলাম। হাতিল, আক্তার, নাদিয়াসহ কয়েকটি প্যাভিলিয়ন ঘুরে দেখেছি। কিন্তু দামের সঙ্গে বনিবনা হচ্ছে না, বলে কিনতে পারিনি।’
আক্তার ফার্নিচারের এবিপি সেলস সাগর রায় বলেন, ‘বেড, ন্যাচারাল মার্বেলের ডাইনিং টেবিলসহ বেশকিছু এক্সক্লুসিভ পণ্য এসেছে। সেগুলো মেলার শোরুম ছাড়া বাজারের কোনো শোরুমে এখনো ডিসপ্লে করা হয়নি। ক্রেতাদের আকর্ষণের জন্য বেশকিছু পণ্যে ছাড়াসহ নানা অফার রাখা হয়েছে।’
নাদিয়া ফার্নিচারের ডেপুটি ম্যানেজার সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মেলায় নিয়ে আসা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পণ্যই একেবারে নতুন ও বাহারি নকশার হয়। সিজনিং করা অরজিন কাঠের পণ্য নিয়ে এসেছি। যাতে ক্রেতা দর্শনার্থীরা সামর্থ্যের মধ্যে পণ্য ক্রয় করতে পারেন।’
হাতিল ফার্নিচারের সিনিয়র অফিসার রাইসুল ইসলাম জানান, এবার মেলায় হাতিল ফার্নিচার কোম্পানি বেশকিছু আসবাব নিয়ে এসেছে একেবারে নতুন। রিসাইক্লিং চেয়ার, ডাইনিং টেবিল, বেড, সোফাসহ বেশ কয়েকটি পণ্য। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতে তাদের পছন্দমতো কিনতে পারে, সেভাবে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া কিউটস ফার্নিচার, জেএমজি ফার্নিচার, ব্রাদার্স ফার্নিচারসহ বেশ কয়েকটি ফার্নিচার কোম্পানি তাদের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছে।
এ বিষয়ে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ইপিবির সচিব ও বাণিজ্য মেলার পরিচালক তরফদার সোহেল রহমান বলেন, শনিবার ছুটির দিনে বেশ ভালো লোকজন এসেছেন। ব্যবসায়ী ও ক্রেতা-দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।
মন্তব্য করুন