

ইথিওপিয়া দ্রুত নগরায়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শহরে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। একইসঙ্গে বাড়ছে কাজের চাহিদাও। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় নেওয়া একটি নগর উন্নয়ন কর্মসূচি দেশটিতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্বব্যাংক-সমর্থিত ইথিওপিয়া আরবান ইনস্টিটিউশনাল অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (ইউআইআইডিপি) মাধ্যমে দেশের ১১৭টি শহরে উন্নয়ন কাজ করা হয়। এই কর্মসূচির ফলে ১১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে উপকৃত হয়েছে প্রায় ৬৬ লাখ শহরবাসী।
ইথিওপিয়ার শহরাঞ্চলের জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ২০১২ সালে শহরে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ছিল দেড় কোটির মতো। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩৪ সালের মধ্যে এই সংখ্যা বেড়ে ৪ কোটি ২০ লাখের বেশি হবে। এই জনসংখ্যার জন্য কর্মসংস্থান ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বাস্তবতায় ইউআইআইডিপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশ্বব্যাংক, ইথিওপিয়া সরকার ও ফরাসি উন্নয়ন সংস্থার সহায়তায় প্রকল্পটিতে ৮৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ বিনিয়োগ করা হয়। লক্ষ্য ছিল শহরের অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
প্রকল্পটির একটি বড় দিক ছিল স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা। প্রশিক্ষণ ও আধুনিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শহরগুলোর আয় বাড়ানো হয়। এতে করে স্থানীয় সরকারগুলো নিজেদের উন্নয়ন নিজেরাই পরিকল্পনা করতে পারছে।
এর ফলে অনেক শহরের রাজস্ব দ্রুত বেড়েছে। এই অর্থ ব্যবহার করে নতুন রাস্তা, সেবা ও কাজের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে শহরগুলোর আর্থিক স্বনির্ভরতা বেড়েছে।
নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোও ছিল এ প্রকল্পের একটি লক্ষ্য। জনপরামর্শ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের যুক্ত করা হয়। এর ফলে শহর প্রশাসনে নারী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপকের সংখ্যা বেড়েছে।
অবকাঠামো উন্নয়নই এ কর্মসূচির প্রধান কাজ ছিল। ২০১৮-২৪ সালের মধ্যে ২ হাজার ৭০০ কিলোমিটারের বেশি সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়। পাশাপাশি ২ হাজার ৭০০ হেক্টর পরিকল্পিত জমি উন্নয়ন করা হয়।
এই কাজগুলোর মাধ্যমে ৯ লাখের বেশি অস্থায়ী এবং ২ লাখের বেশি স্থায়ী চাকরি তৈরি হয়েছে। এসব চাকরির প্রায় অর্ধেকই পেয়েছেন নারীরা।
উন্নত সড়ক ও নগর সুবিধার কারণে ছোট ও মাঝারি ব্যবসা সহজে গড়ে উঠছে। শহরগুলো বিনিয়োগের জন্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। এতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়ছে।
করোনা মহামারি ও বিভিন্ন অঞ্চলের সংঘাতের মধ্যেও প্রকল্পটির কাজ বন্ধ হয়নি। নমনীয় পরিকল্পনা ও তদারকির মাধ্যমে উন্নয়ন কাজ চালু রাখা সম্ভব হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইথিওপিয়ার এই অভিজ্ঞতা অন্যান্য দেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন কর্মসংস্থানের বড় উৎস হতে পারে। এতে শহরের উন্নয়ন হয় এবং মানুষ সরাসরি উপকৃত হয়।
মন্তব্য করুন