সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৩, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২১ জুন ২০২৩, ০৯:৩৭ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

গোপাল ও রাখাল

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। পুরোনো ছবি
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। পুরোনো ছবি

এ দেশে বামপন্থি আন্দোলনের একজন বিশিষ্ট সংগঠক মোহাম্মদ সুলতান মারা গেছেন অনেক দিন রোগে ভুগে। তার কিন্তু একটা মানসিক রোগও ছিল, যার খবর লেখা থাকত সরকারি গোপন নথিপত্রে। সেটা হচ্ছে তার দেশপ্রেম। দেশ বলতে নিসর্গ বোঝেননি, মানুষ বুঝেছেন। মানুষের মুক্তির আন্দোলনে সর্বান্তকরণে যোগ দিয়েছেন। সেটা কেবল রোগ নয়, অপরাধও ছিল তার। অপরাধ না হলে জেল খাটবেন কেন? রাষ্ট্রের শাসনকর্তারা তাকে চিহ্নিত করেছে অপরাধী বলে আর সমাজ? সমাজও কিছু পিছিয়ে থাকেনি, লাঠিসোটা নিয়ে এগিয়ে এসেছে শাস্তি দেবে বলে। শাস্তি তিনি পেয়ে গেছেন বৈকি, সারা জীবনই কষ্টে কেটেছে। সমাজ মানে কী? সমাজ মানে এ ক্ষেত্রে সমাজে হর্তাকর্তা-বিধাতারা। সেই অধিপতি শ্রেণির সঙ্গে শত্রুতা ছিল তার; সেই শ্রেণিকে তিনি ঘৃণা করতেন, তাই তারা তাকে জব্দ করতে চেয়েছে, পদে পদে।

আরও দুটি অপরাধ করে ফেলেছিলেন মোহাম্মদ সুলতান। তার পেশা ছিল প্রথমে শিক্ষকতা, পরে প্রকাশনা। দুটোই বিপজ্জনক পেশা। সেই অপরাধেও শাস্তি পেয়েছেন তিনি। দারিদ্র্যের হাত থেকে মুক্তি পাননি। তার বন্ধু ও অনুরাগীদের ট্রাস্ট গঠন করতে হয়েছে তার দুর্দশাগ্রস্ত পরিবারকে সাহায্য করার জন্য।

সমাজের চোখে ভালো লোক যারা, আদর্শ পুরুষ, সুসন্তান-সমাজ তাদের মাথায় তুলে রাখে। যত্ন নেয়, সম্মান দেয়। তাদের এরই মধ্যে তৈলাক্ত মাথায় আরও তেল মাখায়। ওদিকে সমাজের কাছে যারা কুসন্তান তারা শাস্তি পায়, নির্যাতন ভোগ করে, অকালে প্রাণ হারায়। কিন্তু কাকে বলে ভালো ছেলে, কাকে মন্দ—তা কি কোথাও স্পষ্ট করে বলা আছে? না, তা নেই। গবেষক সাঈদ-উর রহমান এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার একটি প্রবন্ধে। প্রশ্নটি এসেছে একটি গল্পের আকারে, ‘এক গরীব চাষীর দুই পুত্র ছিল, জবেদ আলী ও আবিদ আলী। চাষী বড় ছেলেকে পাঠশালায় ভর্তি করে দিলো ও যত্ন সহকারে লেখাপড়া শেখাতে লাগলো। জবেদ আলী কালক্রমে উচ্চশিক্ষিত হলো, নাম বদলে রাখলো মিস্টার জাভেদ এবং শেষে বড় চাকরি নিয়ে রাজধানীতে উঠে গেল। অপরদিকে আবিদ আলী বেশী লেখাপড়া করলো না, বাপের সংসারে রয়ে গেল, পাড়া-পড়শীদের খেদমত করে, রোগে-শোকে বৃদ্ধ বয়সে বাপের সেবা করে বৃদ্ধকে শান্তিতে মরতে দিলো।’ গল্প বলে তিনি প্রশ্নটি করেছেন, ‘দুই ভাইয়ের মধ্যে কার গুণ বেশি?’

কার গুণ বেশি? কে ভালো? মন্দ কে? কাকে বলব আদর্শ? কার গলায় পরিয়ে দেব ফুলের মালা, কার গলায় কাঁটার? না, না, শহরের জাভেদ ওরফে জবেদ নয়, গ্রামের আবিদ আলী। আবিদ আলীই আদর্শ। সেই প্রাতঃস্মরণীয়। বালক-বালিকারা, তোমরা সবাই গ্রামের আবিদ আলী হবে, শহরের জবেদ আলী না হয়ে। বলব সবাই এ কথা। মুখে মুখে বলব, কিন্তু গোপনে গোপনে? সেখানে কে আমাদের বীর? কে নায়ক? কোনো সন্দেহ আছে কি যে, সেখানে স্থির হয়ে বসে আছে অস্থির মিস্টার জাভেদ, যে শহরে থাকে, কেবল শহরে থাকে না। মিস্টার অ্যালে সেজে বিদেশ যায়। পার হয় পগার, তার ছেলেমেয়েরা লাফ দেয় নানা মাপের। জাভেদ ছাড়া আছে কে?

অনেক আগে, সেই ঊনবিংশ শতাব্দীতে, যখন নাকি তথাকথিত রেনেসাঁস আসে কলকাতায়, তখন বিদ্যাসাগর তার ‘বর্ণপরিচয়ে’র একেবারে প্রথমভাগেই বালক-বালিকাদের শুনিয়েছিলেন একজন গোপাল ও একজন রাখালের কথা। বলেছিলেন, ‘গোপাল বড় সুবোধ। তার বাপ-মা যখন যা বলেন, তাই করে। যা পায় তাই খায়, যা পায় তাই পরে, ভালো পরিব বলিয়া উৎপাত করে না।’ রাখাল প্রায় উল্টো। ‘গোপাল ছোট যেমন সুবোধ রাখাল তেমন নয়। সে বাপ-মায়ের কথা শোনে না, যা খুশি তাই করে, ভাই-ভগিনীগুলোর সহিত ঝগড়া ও মারামারি করে।’ ফল কী দাঁড়ায়? ফল দাঁড়ায় এই যে, ‘গোপালকে যে দেখে, সেই ভালোবাসে। সব বালকেরই গোপালের মতো হওয়া উচিত।’ আর রাখালের কী অবস্থা? তার অবস্থা ভারী কাহিল। ‘রাখালকে কেউ ভালোবাসে না। কোনো বালকেরই রাখালের মতো হওয়া উচিত নয়।’

তাই কি? গোপালকে কি সবাই ভালোবাসে আর রাখালকে সবাই ঘৃণা করে? গোপাল যদি গরিব হয়, আর রাখাল ধনী, তাহলে? তাই তো হয় এবং হবে। নিয়ম সেটাই। এমনকি সেকালেও এমন কোনো রামরাজত্ব প্রতিষ্ঠিত ছিল না এই অঞ্চলে যে, শান্তশিষ্ট লেজবিশিষ্ট হলেই ধনী হবে লোকে আর ষণ্ডা-পাণ্ডা-গুণ্ডা হলেই গরিব হবে। বরং এটা নির্ভয়ে বলা যায় যে, দুর্বৃত্তরা সেকালেও ভালো করেছে আর গোপালরাই রাখাল হয়েছে, আপন আপন ভালো মনুষ্যত্বকে, নিজের ভালোমানুষিকে নিজে পাহারা দিয়েছে। বেয়েছে তরী মরা খালে। সামাজিক প্রভাব-প্রতিপত্তি টাকাওয়ালারাই নিয়ে নিয়েছে লুটপাট করে। আর একালে তো কথাই নেই, একালে ভালোমানুষি মানেই এক ধরনের অভিশাপ, নিজের জন্য যেমন-তেমন, পরিবারের জন্য আরও বেশি। তাহলে ওই যে বললেন বিদ্যাসাগর, সবারই গোপালের মতো হওয়া উচিত, কোনো বালকেরই রাখালের মতো হওয়া উচিত নয়—এ উপদেশের জোরটা কোথায়?

কিন্তু তখনকার দিনে তবু যা হোক, গোপাল ও রাখাল দুই পরিবারের সন্তান হলেও একসঙ্গে বিলক্ষণ থাকতে পারত, ওঠাবসা চলত, হয়তো বন্ধুত্বও থাকত। আজ কী অবস্থা? আজকের জবেদ আলী ও আবিদ আলী আপন মায়ের পেটের ভাই হয়েও থাকে দুই ভিন্ন জগতে। একেবারেই ভিন্ন। পরস্পরের মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত বন্ধ। এমনকি শত্রুতাও এক ধরনের সম্পর্ক বটে, এ দুই সহোদর ভাইয়ের মধ্যে শত্রুতার সম্পর্কটিও নেই, সব সম্পর্ক শুকিয়ে শুকনো ডালটার মতো পড়ে গেছে মাটিতে, দুপুরের কোনো বাতাসে।

অবশ্য সংজ্ঞা নিয়ে গোলযোগটা থাকছেই। যেমন, গোপাল যে একজন আদর্শ মানুষ এ তো মনে হয় স্বয়ং বিদ্যাসাগরই বিশ্বাস করতেন না। রবীন্দ্রনাথ মোটেই বাড়িয়ে বলেননি যখন ‘চারিত্রপূজায়’ বলেছেন তিনি, ‘বিদ্যাসাগর তাঁহার বর্ণপরিচয় প্রথম ভাগে গোপাল নামক একটি সুবোধ ছেলের দৃষ্টান্ত দিয়াছেন, তাহাকে বাপ-মায়ে যাহা বলে সে তাহাই করে। কিন্তু ঈশ্বরচন্দ্র নিজে যখন সেই গোপালের বয়সী ছিলেন তখন গোপালের অপেক্ষা কোনো কোনো অংশে রাখালের সঙ্গেই তাঁহার অধিকতর সাদৃশ্য দেখা যাইতো। পিতার কথা পালন করা দূরে থাক, পিতা যাহা বলিতেন তিনি তাহার ঠিক উল্টো করিয়া বসিতেন।’ ভাগ্যিস করতেন, নইলে তিনি একজন লেপাপোছা গরিব ভালোমানুষটি হতেন হয়তো, কিন্তু বিদ্যাসাগর হতেন না, বিদ্রোহী হতেন না, হতেন না অকুতোভয়। বস্তুত দেশ যদি অসংখ্য গোপালে ছেয়ে যেত, সবাই যদি স্বল্পে সন্তুষ্ট মায়ের আঁচলের-নিচে প্রতিপালিত ভদ্রলোকটি হতো, তাহলে দুরাচার রাখালদের ভারি সুবিধা হতো। লুণ্ঠনটা আরও অবাধ হতো তাদের। ‘রেখেছো বাঙালী করে, মানুষ করো নি’—রবীন্দ্রনাথের এ বক্তব্য যদি গোপালদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না হয়, তবে প্রযোজ্য হবে কার ক্ষেত্রে, শুনি? গোপালরাই আসলে রাখালদের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক। সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বন্ধু। সাপের তো ভারি সুবিধা পথিকের হাতে যদি লাঠি না থাকে, কুকুর তো ভারি বেয়াদব হয়ে উঠবে যদি মুগুর না দেখে!

ওই যে চাষির ভালো ছেলে আবিদ, তার ভক্ত হওয়া সেও কিছু সহজ কাজ নয়—সত্য কথা বলতে গেলে। আবিদ আলী নিজে ভালো, তাই বলে কি জগৎও ভালো? তার ব্যক্তিগত ভালোত্বে আমার কী লাভ? হিংস্র সমাজ কি সেই ভালোত্ব দেখে হিংসা যাবে ভুলে? জানা দরকার, আবিদ আলীর রাজনীতিটা কী। একাত্তর সালে সে কোন দিকে ছিল—মুক্তিযুদ্ধের দিকে নাকি শান্তি কমিটির দিকে? এখন কোন রাজনীতি করে সে, সমাজকে টিকিয়ে রাখার, নাকি সমাজবিপ্লবের? নাকি সে ধুৎ ধুৎ করে বলে যে, সে একেবারেই নিরপেক্ষ, রাজনীতিতে নেই, দলাদলিতে নেই, অর্থাৎ কি না, প্রতিবাদ করে না অন্যায়ের বিরুদ্ধে? এ খুবই জরুরি প্রশ্ন। নিজের সেবা দিয়ে, আত্মত্যাগ দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে আবিদ আলী যদি এই ঘৃণ্য (যদিও রুগণ) সমাজকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করে, তবে তো বলতেই হবে মানি না, তাকে আমরা মানি না। মানব না। সমাজসেবক অনেক দেখেছি, সমাজসেবক আজ আর প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন সমাজবিপ্লবীর।

অন্যদিকে যাই যদি, যদি বলি আজকের তরুণরা সব বিপথগামী (যা আমরা হামেশাই বলছি), তাহলে তো এই জরুরি প্রশ্নের জবাব দিতে হবে যে, কোনটা পথ, কোনটাইবা বিপথ। তারা কি বিপথগামী যারা ছিনতাই করে? নিশ্চয়ই। কিন্তু যারা টাকা করেছে এবং করছে, তারা প্রায় সবাই কি ছিনতাইকারী নয়—কোনো না কোনোভাবে? বিপথগামিতার না হলে টাকা এলো কোত্থেকে, কোন পুঁজি বিনিয়োগ করে? বলা যাবে, একটা লক্ষণ মেয়েদের পেছনে লাগা। তা বটে, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা বখাটেপনার একটি প্রমাণ বটে। কিন্তু আজকের বাংলাদেশে নারী নির্যাতন কি অনেক পুরুষের প্রধান আমোদ, বিলাস, এমনকি কৌতুক নয়? মেয়েরাও মেয়েদের ওপর নিপীড়ন চালায়। কোনো কোনো গৃহপরিচারিকা বেগম সাহেবার হাতে মার খেয়ে মারা গেছে, অনেকে মরেনি, আধমরা হয়ে জীবন ও মৃত্যুর মধ্যবর্তী গলিতে বসবাস করছে। এমনকি মেয়েদের যারা খুব মর্যাদা দেয়, গয়না দেয়, শাড়ি দেয়, পুতুল বানায় খেলার, তারাও কি নির্যাতন করছে না মেয়েদের ওপর, প্রকারান্তরে? অত্যাধুনিক যুবক যখন বিয়ে করার জন্য নিজের কাছাকাছি বয়স ও শিক্ষাদীক্ষার মেয়ে না খুঁজে অল্পবয়স্ক পাত্রীর জন্য সম্পদ ও প্রতিষ্ঠার জাল ফেলে তখন বুঝতে কি কষ্ট হয় যে, মেয়েদের বিদ্যা ও বুদ্ধির মর্যাদা পেতে এখনো অনেক বাকি আছে?

বিপথগামীরা মদ খায়। কিন্তু মদ খাওয়া তো শুনছি এখন বীরত্বের নিদর্শন। ঢাকার সেই রকম একটি ক্লাবে, একদা যেখানে কুকুর ও বাঙালিদের প্রবেশাধিকার ছিল না বলে শোনা যায়, সেই ক্লাবে মাঝেমধ্যে উঁকিঝুঁকি দিয়ে থাকেন এ ধরনের কিছু মুরুব্বি কিছিমের একজন সেদিন বলছিলেন, এক রাতে একেকজন সেখানে মদের যা বিল দেন, সে নাকি আমি কল্পনাই করতে পারব না। তা এটা আর এমন কী বড় কথা হলো, আমি তো চা পাতার যা দাম বেড়েছে তাতে চা ছেড়ে দেব কি না ভাবছি, আমাকে আপনি কী হোটেল দেখাবেন, বলুন। এ বাঙালের বহু হাইকোর্ট দেখা আছে।

রাখালরাই কর্তা এখন সমাজের। সমাজে গোপালদের পাত্তাই নেই, অথচ অহরহ বলছি, গোপাল চাই, আমরা গোপাল হব। এটা ভান এক ধরনের। অভিনয় এক প্রকারের। মঞ্চে অভিনয় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রয়েছে, সেই ব্রিটিশের আমল থেকেই; কিন্তু সমাজে অভিনয় নিয়ন্ত্রণ করে সাধ্য কার। প্রত্যেকেই প্রকাশ্যে বলে গোপাল হব, অথচ প্রত্যেকেই গোপনে চেষ্টা করে রাখাল হওয়ার। বলে জাভেদ খারাপ, আবিদ ভালো, অথচ জাভেদ না হতে পারলে মরে যায় মরমে।

কাঠমিস্ত্রি আবদুল কাসেমের ছেলে আবদুর রউফ রেড ক্রসের পিয়নের কাজ করে যদি পাস করে এমএ চাকরি পায় অধ্যাপনার এবং দায়িত্ব পায় প্রিসাইডিং অফিসারের তবে আমরা উৎফুল্ল হতে পারি বটে, কিন্তু সে যখন মারা যায় গুলি খেয়ে, তখন কী বলব? গুলি সব আবদুর রউফের বিধিলিপি এত বড় মিথ্যা কথা আমরা বলব না; কিন্তু সব আবদুর রউফই যে লাঠিপেটা খায় দারিদ্র্যের হাতে, সে যে মরতে মরতে বাঁচে এবং বাঁচতে বাঁচতে মরে, একি আমরা অস্বীকার করতে পারব। গোপাল বলেই আবদুর রউফ ঝরে পড়ল, রাখাল হলে পয়সা করত। গ্রামে থাকত না, থাকলেও চেয়ারম্যান হতো।

বলতে এই পরিস্থিতিতে মোহাম্মদ সুলতানের আমরা প্রশংসা করতে পারি বটে, পারি নিরাপস ছিলেন, কখনো হতাশ হননি, কখনো বিপথে যাননি, কিন্তু আমরা কি কেউ চাইব আমাদের কোনো সন্তান মোহাম্মদ সুলতান হোক, জেল খাটুক, দরিদ্র থাকুক এবং অসুস্থ হয়ে অকালে মারা যাক? মোহাম্মদ সুলতান ট্রাস্ট উদ্যোগ নিয়েছে তার স্মৃতি রক্ষার। এর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। কেননা সমাজে যে ধরনের পরিবর্তন এলে সমাজ তাকে মর্যাদা দিতে পারত, আপনার গৌরব ও অর্জনের মধ্যে তার স্মৃতিকে ধরে রাখতে পারত, সেই পরিবর্তন আজও আসেনি। মোহাম্মদ সুলতান একজন যোদ্ধা ছিলেন, যুদ্ধে তিনি শহীদ হয়েছেন; সমষ্টিগতভাবে আমরা তো এখনো সেই শক্তি অর্জন করিনি যে, তাকে মর্যাদা দেব। অথচ মোহাম্মদ সুলতানরা ছাড়া আমাদের ভরসাইবা কী?

লেখক : ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নুরের খোঁজ নিলেন ড. মঈন খান

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ

মনখালী এখন ‘কক্সবাজারের সুইজারল্যান্ড’

স্বপ্নধরার ‘প্লট ফার্মিং’ পেল ম্যাড স্টারস-এর গ্র্যান্ড প্রিক্স 

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে শেষ হলো ১০ দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনী

জানা গেল লাল টি-শার্ট পরা সেই যুবকের পরিচয়

আসছে রাহাত-রুবাইয়াতের ‘তুমি আমার প্রেম পিয়াসা’

লাল টি-শার্ট পরা যুবক ডিবির কেউ নয় : ডিএমপির ডিবিপ্রধান 

জম্মু-কাশ্মীরে ১১ জনের মৃত্যু

রিউমর স্ক্যানার / নুরকে নয়, অন্য কাউকে পেটাচ্ছিলেন লাল টি-শার্ট পরা ব্যক্তি 

১০

আইনি বিপাকে অঙ্কুশ,আদালতে হাজিরার নির্দেশ

১১

গুগলের নতুন এআই মোড ব্যবহার করবেন যেভাবে

১২

অস্ট্রেলিয়ার রাজ্য দলের কাছে ইনিংস ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ

১৩

ঘরের সামনে পড়েছিল ছাত্রলীগ নেতার রক্তাক্ত মরদেহ

১৪

নুর ইস্যুতে ভুয়া অডিও নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কঠোর বার্তা

১৫

সপ্তাহে দুদিন ছুটিসহ পপুলার ফার্মায় চাকরির সুযোগ

১৬

নুরের খোঁজ নিলেন প্রধান উপদেষ্টা

১৭

লাল টি-শার্ট পরা যুবককে নিয়ে পোস্ট রাশেদ খানের

১৮

‘স্যার, নাটক আর কত’, আসিফ নজরুলকে নীলা ইসরাফিল

১৯

ভারত সফরে যাচ্ছেন পুতিন

২০
X