গাজায় আগ্রাসন আরও বাড়িয়েছে ইসরায়েল। স্থল ও আকাশপথে হামলা চালাচ্ছে নির্বিচারে। গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের বর্বরতায় নিহত হয়েছেন ১৩৫ ফিলিস্তিনি। তাদের মধ্যে শুধু ত্রাণ নিতে গিয়ে হত্যার শিকার হয়েছেন ৮৭ জন। উপত্যকাজুড়ে আহত হয়েছেন আরও ৭৭১ জন।
বোমা-গুলির পাশাপাশি অনাহারেও মারা যাচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা। অভুক্ত শিশুরা খাবারের অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরছে। ইসরায়েলি অবরোধে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজন মারা গেছেন। এ নিয়ে অনাহার ও পুষ্টিহীনতাজনিত কারণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৯৩ জন।
গাজা উপত্যকায় এই সাম্প্রতিক আগ্রাসন বাড়ানোর সূত্রপাত— ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পুরো গাজা দখলের পরিকল্পনা থেকে।
ইসরায়েল গাজার অধিকাংশ অংশকে সামরিক এলাকা ঘোষণা করে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক সরিয়ে এনে সীমিত কিছু জায়গায় গাদাগাদি করে রেখেছে। ফলে এ উপত্যকার প্রায় ৮৬ শতাংশই এখন ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে।
তবে অবশিষ্ট যেসব এলাকায় এখনো সামরিক অভিযান হয়নি, সেখানেও সেনা অভিযান চালালে ফিলিস্তিনিদের জীবন আরও হুমকির মুখে পড়বে।
সম্প্রতি নেতানিয়াহুর গাজা পুরোপুরি দখলের যে পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়েছে, তা নিয়ে মঙ্গলবার বিবিসি জানিয়েছে, ইসরায়িলি প্রধানমন্ত্রী দেশটির নিরাপত্তা ক্যাবিনেটের বৈঠকে গাজা পুরোপুরি দখলের প্রস্তাব দিতে যাচ্ছেন। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে স্থানীয় সাংবাদিকরা বলেন, ‘নির্ধারিত হয়ে গেছে—আমরা গাজা পুরোপুরি দখল করব এবং হামাসকে পরাজিত করব।’ বিষয়টি ব্যাপক উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যসহ সারাবিশ্বে। জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব মিরোস্লাভ জেনকা নিরাপত্তা পরিষদকে বলেছেন যে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পুরো গাজা দখলের পরিকল্পনা ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’। ইউরোপিয়ান কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট টেরেজা রিবেরাও এই পরিকল্পনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য উসকানি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ উপেক্ষা করে গাজা উপত্যকায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। গতকাল গাজায় প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রধান কার্যালয়েও হামলা হয়েছে। এদিন জাতিসংঘ পরিচালিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও অভিযান চালায় দখলদার বাহিনী। এর মধ্যে গাজার স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো ভেঙে পড়েছে। এখন দিন দিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, গাজায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের প্রবেশে অনুমতি জটিলতায় সেখানে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। এখন সেখানে ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের পরিমাণও কমিয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে সেখানে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে।
আর এসবের কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে যে, গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য ইসরায়েল এমনভাবে এগোচ্ছে। এখন এ পরিকল্পনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও প্রচ্ছন্ন অনুমোদন পেয়ে গেছেন নেতানিয়াহু।
সাংবাদিকরা জানতে চান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গাজা পুরোপুরি দখলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না—এমন খবর নিয়ে তার কী মত। জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি এখন গাজার মানুষের ‘খাবারের ব্যবস্থা’ নিয়ে বেশি মনোযোগী।
ট্রাম্প বলেন, ‘বাকিটা নিয়ে আমি কিছু বলতে পারি না। এটা মূলত ইসরায়েলের বিষয়।’
মন্তব্য করুন