

বর্তমান সময়ে ভিডিও গেম খেলা অনেকেরই প্রিয় অভ্যাস। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। তবে সন্তানদের অতিরিক্ত গেম খেলার অভ্যাস নিয়ে অনেক বাবা-মায়েরই উদ্বেগ থাকে, এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠছে কি না—এই প্রশ্ন ঘিরেই।
এবার এ বিষয়ে নতুন করে আলোকপাত করেছে একটি গবেষণা। গবেষণায় জানানো হয়েছে, প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট সময়ের বেশি ভিডিও গেম খেলা তরুণদের স্বাস্থ্য ও জীবনযাপনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কী বলছে গবেষণা?
বৈজ্ঞানিক জার্নাল Nutrition–এ প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি সপ্তাহে ১০ ঘণ্টার বেশি ভিডিও গেম খেললে তরুণদের খাদ্যাভ্যাস, ঘুম ও শরীরের ওজনের ওপর স্পষ্ট নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
গবেষণাটিতে গড়ে ২০ বছর বয়সী ৩১৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।
গবেষণার সুবিধার্থে অংশগ্রহণকারীদের তিনটি দলে ভাগ করা হয়—
প্রথম দল : সপ্তাহে ০ থেকে ৫ ঘণ্টা ভিডিও গেম খেলে
দ্বিতীয় দল : সপ্তাহে ৫ থেকে ১০ ঘণ্টা
তৃতীয় দল : সপ্তাহে ১০ ঘণ্টার বেশি ভিডিও গেম খেলে
কোথায় তৈরি হচ্ছে পার্থক্য?
গবেষণায় দেখা যায়, প্রথম ও দ্বিতীয় দলের তরুণদের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব প্রায় একই রকম। তবে সপ্তাহে ১০ ঘণ্টার বেশি ভিডিও গেম খেলা তরুণদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যগত অবনতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
গবেষকদের ভাষ্য, ফলাফল স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, অতিরিক্ত সময় ভিডিও গেম খেলা ক্ষতিকর, তবে মাঝারি সময় পর্যন্ত গেম খেললে তেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না।
খাবার, ঘুম ও ওজনে প্রভাব
গবেষণায় আরও বলা হয়, সপ্তাহে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত ভিডিও গেম খেলা তরুণদের খাদ্যাভ্যাস, ঘুম ও শরীরের ওজনের ক্ষেত্রে প্রায় একই ধরনের প্রভাব দেখা যায়। কিন্তু এই সময়সীমা ১০ ঘণ্টা ছাড়ালেই সমস্যা শুরু হয়।
এ ক্ষেত্রে দেখা গেছে—
১. অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি ঝোঁক বাড়ে
২. শরীরের ওজন বৃদ্ধি পায়
৩. প্রতি সপ্তাহে গেম খেলার সময় যত বাড়ে, খাদ্যের মান তত কমতে থাকে
ঘুমের ক্ষেত্রেও উদ্বেগ
গবেষণায় অংশ নেওয়া তিনটি দলের তরুণরাই ঘুমের ঘাটতির কথা জানিয়েছেন। তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দলের মধ্যে ঘুমের সমস্যা সবচেয়ে বেশি প্রকট ছিল।
শেষ কথা
গবেষকদের মতে, মাঝারি মাত্রায় ভিডিও গেম খেলা খুব বেশি ক্ষতিকর নয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে গেম খেলার ফলে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস—যেমন সুষম খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়। তাই বিনোদনের জন্য গেম খেলা দোষের নয়, তবে সময়ের সীমা না মানলে সেটিই হয়ে উঠতে পারে স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি।
সূত্র : জিও নিউজ
মন্তব্য করুন