রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বিশ্ববেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:০৪ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

প্রেসিডেন্টের হিম্মতে কি নেপালে রাজতন্ত্র ফিরে আসা ঠেকেছে

নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাওদেল। ছবি: সংগৃহীত
নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাওদেল। ছবি: সংগৃহীত

নেপালে গত ৯ সেপ্টেম্বর রাতে বেশ সাহস দেখিয়েছেন নেপালের প্রেসিডেন্ট। সেদিন রাতে নানা রকম গুজব শুরু হয়। রাজতন্ত্র ফিরে আসতে পারে—এরকম একটা জল্পনাও শোনা যাচ্ছিল। গুজবগুলো ছড়াচ্ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাওদেল পদত্যাগ করেছেন বলে ব্রেকিং নিউজ চালিয়ে দিয়েছিল ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

কাঠমান্ডুর সিনিয়র সাংবাদিক কিশোর নেপাল বলছিলেন, মঙ্গলবার যখন কাঠমান্ডুর সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তখন মনে হচ্ছিল যে নেপাল বোধহয় আবারও রাজতন্ত্রের দিকে এগোচ্ছে। তার দাবি, সেদিন সেনাপ্রধান প্রেসিডেন্ট পাওদেলকে পদত্যাগ করতে বলেছিলেন। তবে অন্য কয়েকজন আবার বলছেন যে, সেনাপ্রধান ও প্রেসিডেন্ট যৌথভাবেই পরিস্থিতি সামলে নিয়েছিলেন।

কিশোর নেপালের কথায়, কাঠমান্ডুর রাজকীয় প্রাসাদ নারায়ণহিতিতে জ্ঞানেন্দ্রর ফিরে আসার কথা শোনা যাচ্ছিল। প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্রকে সেনাবাহিনী ইস্তফা দিতে বলেছিল, কিন্তু তিনি সেদিন বেশ বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছিলেন।

সেনাপ্রধান প্রেসিডেন্টকে বলেন যে, আপনি পদত্যাগ করুন, বাকিটা আমরা সামলে নেব। তখন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি পদত্যাগ করব না। আপনি বরং আমাকে খুন করে জেন জির আন্দোলনকারীদের ওপর হত্যার দায় চাপিয়ে দিন। এর পর আপনি যা করার করবেন।

প্রেসিডেন্ট এবং সেনাপ্রধানের মধ্যে এই কথোপকথন কীভাবে জানতে পারলেন? বিবিসিকে এর জবাবে কিশোর নেপাল বলেন, আমি এই খবরের সূত্রটা বলব না; কিন্তু এটুকু বলতে পারি যে, প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলিও কিন্তু সেনাপ্রধানের কথামতোই ইস্তফা দিয়েছিলেন আর ঠিক একইরকম চাপ ছিল প্রেসিডেন্টের ওপরও। যদি প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করতেন, তাহলে নেপালে সেনা শাসন বা রাজতন্ত্রের দিকে ঘুরে যেত। প্রেসিডেন্ট সত্যিই সাহস দেখিয়েছেন।

অন্যদিকে কিশোর নেপালের ভাষ্যের সঙ্গে একমত নন নেপালের সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল বিনোজ বস্নেত। তিনি বলেন, আমার মতে সেনাপ্রধান আর প্রেসিডেন্ট একযোগে একটা সমাধানের পথ খুঁজে বের করেছেন। সিনিয়র সাংবাদিক কনক মণি দীক্ষিত বিবিসিকে বলেন, গণতন্ত্রের প্রতিটি স্তম্ভই জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে; কিন্তু রাজকীয় প্রাসাদ নারায়ণহিতিতে কেউ হাত পর্যন্ত দেয়নি। জ্ঞানেন্দ্রর বাসভবনও সুরক্ষিত থেকেছে। এই পরিস্থিতিতে রাজতন্ত্র নিয়ে মনে তো একটা আশঙ্কা তৈরি হচ্ছেই। তবে আমিও মনে করি, এক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ পরিস্থিতিতে দুটি বিকল্প ছিল—প্রেসিডেন্টকে হয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে একমত হতে হতো অথবা সেনাবাহিনীকে প্রেসিডেন্টের মতামত মেনে নিতে হতো। নেপালের পরিচিত রাজনৈতিক বিশ্লেষক সি কে লালও আন্দোলনের পর প্রেসিডেন্টের ভূমিকার প্রশংসা করছিলেন।

৮ আর ৯ সেপ্টেম্বরের আন্দোলনের একটি অংশের নেতৃত্ব দিয়েছেন রাকশা বম। নেপালের সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেল ৯ সেপ্টেম্বর রাতে জেন জির যে প্রতিনিধিদের আলোচনার জন্য ডেকেছিলেন, তাদের মধ্যে ছিলেন রাকশা বমও। বিবিসিকে তিনি বলেন, সেনাপ্রধানের সঙ্গে দেখা করার জন্য জেন জি-র ১০ প্রতিনিধিকে ডাকা হয়েছিল, যাদের মধ্যে আমিও ছিলাম। আমি সেখানে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছিলাম আপনার সঙ্গে আলোচনা করব না, কারণ আমরা বেসামরিক সরকার গড়তে চাই। তাই প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করব আমরা। সেনাপ্রধান বলেন যে, আপনারা নিজেদের দাবি আমাকে বলুন, আমিই প্রেসিডেন্টের কাছে সেগুলো পৌঁছে দেব।

রাকশা বম বলেন, প্রেসিডেন্ট যদি বিচক্ষণতা আর সাহস না দেখাতেন তাহলে নেপাল হয় সামরিক শাসন অথবা রাজতন্ত্রের হাতে চলে যেতে পারত। নেপালের পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সঙ্গে জড়িত ইন্দিরা অধিকারীর সঙ্গে জেন জি-র ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল আর তিনি আন্দোলনকারীদের পরামর্শও দিচ্ছিলেন। তিনিও স্বীকার করছিলেন যে, প্রেসিডেন্ট বিচক্ষণতা দেখিয়েছেন, না হলে নিয়ন্ত্রণ হাতের বাইরে চলে যেত।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাজনীতিতেই থাকতে চাই, চাকরি নয় : ছাত্রদল নেতার আবেগঘন স্ট্যাটাস

কালবেলায় সংবাদ প্রকাশ / জিম্মায় নেওয়া চুরির মালামাল থানায় ফেরত দিলেন কর্মকর্তা

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের সভা অনুষ্ঠিত

সকাল ৯টার মধ্যে ১৮ জেলায় ঝড়ের আভাস

পদ্মায় ডুবে যাওয়া সেই বাসের চালকসহ গ্রেপ্তার ৩ জনের জামিন

৩৫.৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড / সিলেটে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে নাহিদ ইসলামের বৈঠক

মধ্যরাতে দেশে পৌঁছাবে লেবাননে নিহত ২ বাংলাদেশির মরদেহ

শেষ মুহূর্তে বড় ধাক্কা, আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারের বিশ্বকাপ শেষ

বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল ৩ অটোরিকশা যাত্রীর

১০

রোগীকে আটকে ইনজেকশন পুশের টাকা দাবি, নার্সকে শোকজ  

১১

গৃহকর্মী থেকে মন্ত্রী : কলিতা মাঝির উত্থানের গল্প

১২

নিউমার্কেট এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করল চসিক

১৩

এসএসসি পরীক্ষার্থীকে বলাৎকার, আ.লীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

১৪

তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর

১৫

ব্রাজিলের সামনে এবার মিসর

১৬

আগামী পাঁচ দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া, জানাল অধিদপ্তর

১৭

ফ্ল্যাটে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ, শরীরে আঘাতের চিহ্ন

১৮

সিলেটের কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে : সিসিক প্রশাসক

১৯

আসছে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ, দিনে-দুপুরে নেমে আসবে অন্ধকার

২০
X