বিশ্ববেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
প্রিন্ট সংস্করণ

ইউরোপজুড়ে গুপ্তচর নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে রাশিয়া

দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন
ছবি : কালবেলা গ্রাফিক্স
ছবি : কালবেলা গ্রাফিক্স

পশ্চিম ইউরোপজুড়ে সামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনার কাছাকাছি সম্পত্তি কিনে সেগুলোকে গোপন ঘাঁটিতে রূপান্তরের অভিযোগে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়েছে একাধিক ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থা। তাদের আশঙ্কা, দুর্বল আইনি কাঠামোর সুযোগ নিয়ে গড়ে তোলা এই নেটওয়ার্ক ভবিষ্যতে সমন্বিত নাশকতা, নজরদারি ও গোপন হামলার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দাবি, রুশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রীষ্মকালীন বাড়ি, কেবিন, গুদামঘর, শহুরে ফ্ল্যাট, এমনকি দ্বীপও কিনেছে। কিছু স্থানে বিস্ফোরক, ড্রোন বা অস্ত্র মজুত থাকতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা করছেন। ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর লন্ডন ও ওয়ারশতে অগ্নিসংযোগ, পার্সেল বোমা ও নাশকতার চেষ্টার মতো ঘটনা এ উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এগুলো বড় অভিযানের আগে ‘পরীক্ষামূলক চাল’ হতে পারে।

ব্রিটেনকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমআই৬ প্রধান ব্লেইজ মেট্রেউইলি সতর্ক করে বলেছেন, দেশটি এখন ‘শান্তি ও যুদ্ধের মাঝামাঝি অবস্থানে’ রয়েছে। লন্ডনে এমআই৬ সদর দপ্তর ও মার্কিন দূতাবাসের আশপাশে সন্দেহজনক সম্পত্তি কেনাবেচা তদন্ত হয়েছে। স্কটল্যান্ডের ফাসলেন সাবমেরিন ঘাঁটি ও শেটল্যান্ডের সমুদ্রতল কেবল অবতরণস্থল নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

ফিনল্যান্ড এ বিষয়ে সবচেয়ে কড়াকড়ি পদক্ষেপ নিয়েছে। গত জুলাইয়ে তারা রুশ ও বেলারুশ নাগরিকদের সম্পত্তি কেনায় পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। আর্কিপেলাগো সাগরে এয়ারিস্টন হেলমি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কেনা দ্বীপে ২০১৮ সালে অভিযান চালিয়ে হেলিপ্যাড, জেটি ও উন্নত যোগাযোগ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। কোম্পানির রুশ মালিক পাভেল মেলনিকভ পরে জালিয়াতির দায়ে দণ্ডিত হন।

নরওয়ে, সুইডেন ও বাল্টিক দেশগুলোতেও সামরিক ঘাঁটি ও রাডার স্থাপনার কাছে রুশ-সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি কেনার নজির মিলেছে। কিছু ক্ষেত্রে রুশ অর্থোডক্স চার্চের সম্পত্তি নিয়েও নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সুইজারল্যান্ডে কৌশলগত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নিকটবর্তী সম্পত্তি থেকে সাইবার নজরদারির অভিযোগও উঠেছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি সামরিক হামলার বদলে ‘গ্রে জোন’ কৌশলে অবকাঠামো অচল করে ন্যাটোর ঐক্য পরীক্ষা করতে পারে মস্কো। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে একক নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাব ভেস্তে যাওয়ায় প্রতিরোধ ব্যবস্থা এখনো খণ্ডিত। কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তা-সমন্বিত পাল্টা গোয়েন্দা উদ্যোগ ছাড়া এ বিস্তৃত হুমকি মোকাবিলা কঠিন হবে।

কালবেলা/আইএইচ/এসওআর
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলা, পুলিশ সদস্য নিহত

গাজী নজরুলকে নিয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত ইসিকে জানাবে জামায়াত

বিশ্বকাপে ইরানের ফুটবল দলের ওপর বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র: রাশিয়া

একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

অবৈধ সিসা কারখানা গুঁড়িয়ে দিয়ে ২ লাখ জরিমানা

এসিল্যান্ড হচ্ছেন প্রশাসন ক্যাডারের ৫০ কর্মকর্তা

দেশে কত দিনের জ্বালানি তেলের মজুত আছে, জানাল মন্ত্রণালয়

নৈতিক স্খলন প্রমাণিত / জামায়াত এমপি গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার

বিশ্বকাপ থেকে রেকর্ড আয় ফিফার, অঙ্ক শুনলে চমকে যাবেন

ই-রিটার্ন জমা শুরু, আগে দিলেই মিলবে বড় কর প্রণোদনা

১০

চুরির অভিযোগে নারীকে আনসারের লাঠিপেটা, ভিডিও ভাইরাল

১১

জর্ডান ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন হামলা

১২

ইতিহাস গড়ে ডিগ্রি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

১৩

নেচার ইনডেক্স / দেশে গবেষণায় শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

১৪

আটকের পর ৫ দফা দাবি জানালেন রাহুল গান্ধী

১৫

সাভার পৌরসভার জলাবদ্ধতা নিরসনে নিজ অর্থায়নে ড্রেনেজ সংস্কারে বিএনপি নেতা

১৬

স্ত্রী-সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল যুবকের

১৭

স্পেনের ওপর বাজি ধরে বড় অঙ্কের অর্থ জিতলেন মিয়া খলিফা

১৮

৩ জেলায় বন্যার ঝুঁকি, ২ বিভাগে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

১৯

আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত ইরান-পাকিস্তান

২০
X