বিশ্ববেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩১ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

ইরান নিয়ে সীমারেখা টেনে দিয়েছেন ট্রাম্প

মডার্ন পলিসির প্রতিবেদন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটনে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ঘিরে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের শীর্ষ সন্ত্রাস পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে অভিযুক্ত ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। সরাসরি হামলার ঘোষণা না দিলেও তার বক্তব্যের সুরে সামরিক বিকল্প খোলা থাকার ইঙ্গিত স্পষ্ট।

ভাষণটি এমন সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি জোরদার হয়েছে এবং ওয়াশিংটনে তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সরাসরি সংঘাত নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় সক্রিয় করার অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, তেহরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

ইরান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তেহরান বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বেসামরিক জ্বালানি উৎপাদনের জন্য এবং এটি অস্ত্র কর্মসূচি নয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভাষণের আগে কংগ্রেস নেতাদের ব্রিফ করেন। এদিকে সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার সতর্ক করে বলেন, সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা গোপনে নয়, প্রকাশ্য বিতর্কের মাধ্যমে হওয়া উচিত। আজ বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এ সংকট ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধিদের বৈঠক করার কথা রয়েছে। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সংঘাত এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা ‘হাতের নাগালে’র মধ্যেই। একই দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তিনি কূটনীতিকেই অগ্রাধিকার দেন। কিন্তু ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করার বিষয়টি তিনি মেনে নেবেন না।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্য তাৎক্ষণিক যুদ্ধঘোষণা নয়; বরং কৌশলগত সংকেত। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অধীনে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ এড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও ইরানে হামলা আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে—বিশেষত যদি তেহরান পাল্টা জবাব দেয়। জ্বালানি বাজার, আঞ্চলিক জোট এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরোধক্ষমতার বিশ্বাসযোগ্যতা—সবই এতে জড়িত।

পরিস্থিতি এখনো কূটনৈতিক পথ খোলা রাখছে। তবে সামরিক অস্ত্র মোতায়েন ও কঠোর বক্তব্যের পর ভুল হিসাবের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আগামী সপ্তাহগুলোয় কূটনীতি নাকি সংঘাত—কোন পথে ঘটনাপ্রবাহ এগোবে, সেটিই বড় প্রশ্ন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গোমস্তাপুর / শূন্যরেখার ২৮ নারী-পুরুষ ও শিশুর কান্না কেউ শুনছে না, বৃষ্টিতে ভিজেই রাত পার

পদ ছাড়লেন কলকাতার মেয়র, জানালেন কারণ

নদ-নদীতে ইলিশের বিচরণ আটকে দিচ্ছে ‘ডুবোচর’, ভরা মৌসুমেও আকাল

‘মব সৃষ্টি করে’ গ্রেপ্তার বিএনপি নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের টার্গেট করছে ছিনতাইকারীরা

‘আসিফ মাহমুদের ঐতিহাসিক পদক্ষেপের সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশের ফুটবল’

‘জামায়াত, এনসিপি ও রুমিন আপার বক্তব্যে বেশ মিল’

রাজধানীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে সিটি করপোরেশন কর্মচারী আহত

কেন হাদি হত্যার বিচার চান, ব্যাখ্যা দিলেন ডাকসু নেত্রী জুমা

চোরের মাথা ন্যাড়া করে আঁকা হলো আর্জেন্টিনার পতাকা

১০

হানিফ সংকেতের ‘চৈতন্যে’ জুলাই নাই: সারোয়ার তুষার

১১

ইউরোপ জয়ের অনন্য নজির বাংলাদেশের

১২

তপুর জোড়া গোলে সান মারিনোকে হারাল বাংলাদেশ

১৩

মারধরের প্রতিবাদ করায় বন্ধুকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ

১৪

সাতক্ষীরায় সীমানা পিলারসহ আটক ৪

১৫

শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সে ফের আগুন

১৬

উপজেলা স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথে সরকার

১৭

বিএনপি আবারও আওয়ামী লীগের ফাঁদে পড়েছে : নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী

১৮

পুলিশের উপস্থিতিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের মিছিল

১৯

রাত ১টার মধ্যে ঝড় হতে পারে যেসব অঞ্চলে

২০
X