কালবেলা প্রতিবেদক, ঢাকা ও বরিশাল ব্যুরো, রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৪, ০২:৪৯ এএম
আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৪, ০২:৫৩ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
তারেক রহমান

সব দলকে সঙ্গে নিয়ে সরকার করতে চাই

সব দলকে সঙ্গে নিয়ে সরকার করতে চাই

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশকে পুনর্গঠন করতে হলে বিএনপি একা পারবে না। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে করতে হবে, সেজন্য আমরা জাতীয় সরকারের কথা বলেছি। আমরা আন্দোলনরত যে দলগুলো ছিলাম, একসঙ্গে আন্দোলন করেছি। আমরা চাই সব দলকে নিয়ে এমন একটি সরকার গঠন করতে—যাতে মানুষ তাদের মতামত রাখতে পারবে এবং সবাই মিলে কাজ করতে পারবে।

গতকাল রোববার দেশের তিনটি বিভাগে রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি বিভাগীয় প্রশিক্ষণ কর্মশালায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

বরিশাল : গতকাল সন্ধ্যায় নগরীর বান্দরোডস্থ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণবিষয়ক কমিটি আয়োজিত কর্মশালার সমাপনী বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা আন্দোলন করেছেন। তবে বিএনপির একক আন্দোলন সফল হয়নি। আরও অনেক রাজনৈতিক দল, সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ একত্রে নেমে এসেছিল বলেই এ আন্দোলন সফল হয়েছে। তার মানে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে সবাই মিলে একত্রিতভাবে। স্বৈরাচারকে খেদিয়ে দিয়েছে, বিদায় করেছে, পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে সবার মিলিত প্রচেষ্টায়। লক্ষ কোটি মানুষের মিলিত প্রচেষ্টায়। ঠিক সেইভাবে পরবর্তী সময়ে দেশকে গড়তে হলে বিএনপি শুধু একা পারবে না। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে করতে হবে। দেশকে গড়তে হলে আমাদের জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। দল মত নির্বিশেষে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। যেভাবে জুলাই-আগস্ট মাসে আন্দোলনের সময় দলমত নির্বিশেষে সবাই রাজপথে নেমে এসেছিল, ঠিক সেভাবে আমাদেরকে মিলে দেশকে পুনর্গঠন করতে হবে।

কর্মশালায় উপস্থিতি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ পুনর্গঠন করতে হলে এখানে সব থেকে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে আপনাদের। অর্থাৎ বিএনপিকে পালন করতে হবে। কথায় কথায় অনেকেই বলে থাকেন, দেশে এ মুহূর্তে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সবচেয়ে বড় দল। কাজেই এই যে মানুষের আস্থা, বিএনপির সামনে যে সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা, এটিকে সফল করা সম্ভব একমাত্র আমরা যদি দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারি, সব মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারি। বিভিন্নজনের বিভিন্ন মতামত থাকবেই, থাকতে পারে। আমাদের ৩১ দফাই শেষ না, এটি কোনো ধর্মীয় গ্রন্থ না যে, এটিকে পরিবর্তন করা যাবে না। অবশ্যই এখানে নতুন জিনিস ইনক্লুড করা যাবে। কোনো ব্যক্তি, কোনো সংগঠন, কোনো দল যদি ভালো প্রস্তাবনা দেয় অবশ্যই সেটি আমরা গ্রহণ করব; কিন্তু আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে করতে হবে।

তিনি বলেন, আপনার আমার মতো সরাসরি রাজনীতি করছি, মিছিল-মিটিং করছি এরকম সমাজে অনেক মানুষ রয়েছে, যারা সরাসরি হয়তো রাজনীতিতে জড়িত নন কিংবা জড়িত হতে চান না। কিন্তু দেশের জন্য তারা কাজ করতে চান, তাদের বক্তব্য রাখতে চান, মতামত রাখতে চান, দেশ পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখতে চান। এর মধ্যে হতে পারে সাংবাদিক, চিকিৎসক, কবি, সাহিত্যিক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সেজন্য ৩১ দফার মধ্যে আমরা উচ্চকক্ষ কথাটি বলেছি। যাতে এরকম যারা আছেন তাদের উচ্চকক্ষে স্থান দিতে পারি, তাদের মতামত নিতে পারি, জানতে পারি এবং তারাও ভূমিকা রাখতে পারেন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, দেশকে পুনর্গঠন করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রত্যেককে প্রত্যেকের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। আমি বা কয়েকজন সিনিয়র নেতা মিলে জনগণের আস্থা ধরে রাখতে পারব না। বিএনপির প্রতি জনগণের আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসা ধরে রাখতে হলে সবাইকে মিলে চেষ্টা করতে হবে। এজন্য যতগুলো ইউনিট আছে সেখানে ছোট ছোট কর্মশালা করতে হবে। নেতাকর্মীকে এডুকেট করতে হবে, আপনারা যা জানলেন, যা শিখলেন, যা বুঝলেন এ কথাগুলো তাদের বলতে হবে। এরপর তারা পৌরসভা, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পাড়া-মহল্লা সর্বত্র দেশের মানুষের কাছে বিএনপির এ বক্তব্যগুলো নিয়ে যাবে। দয়া করে জনগণের আস্থা ধরে রাখার জন্য যে কাজগুলো করা উচিত সেগুলা করুন, আর আস্থা নষ্ট হতে পারে সে কাজগুলো থেকে বিরত থাকুন এবং অন্যকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করুন।

বিএনপির বরিশাল বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক আ ক ন কুদ্দুসুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, মজিবর রহমান সরোয়ার, তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, বিএনপির বরিশাল বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হক নান্নু, বিএনপির প্রশিক্ষণবিষয়ক সহসম্পাদক ড. মোর্শেদ হাসান খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য নেওয়াজ হালিমা আর্লি, কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা হাবিবা প্রমুখ।

রংপুর : গতকাল বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত কর্মশালায় যুক্ত হয়ে তারেক রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে। এ সময় বিএনপির প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখতে হবে। ক্ষমতায় গেলে স্কুল পর্যায় থেকে কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে জনশক্তি তৈরি করব। যাতে দেশে কোনো বেকারত্ব না থাকে। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে দেশের বিভিন্ন জায়গায় উন্নয়ন অবকাঠামো তৈরি করা হলে গণঅভ্যুত্থানসহ গত ১৫ বছরে শহীদদের স্মরণে সে সব স্থাপনার নামকরণ করা হবে। দেশের আইন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের যোগ্যতার ভিত্তিতে সে সব জায়গায় চাকরির ব্যবস্থা করা হবে।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু। রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক ১০ জেলার নেতাদের প্রশিক্ষণ দেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, সহকারী প্রশিক্ষক ছিলেন বিএনপির মানবাধিকার কমিটির সদস্য ফারজানা শারমিন পুতুল। নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সহ-প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক রেহানা আক্তার রানু, সহসাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) আব্দুল খালেক, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

ঢাকা : ঢাকা মহানগর উত্তরের খিলক্ষেত থানা বিএনপির কর্মিসভা ও কর্মশালায় তারেক রহমান বলেন, সংস্কার প্রস্তাব শুধু দলীয় কর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, প্রত্যেক জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। জনগণের সমর্থনকে ইতিবাচকভাবে বিএনপির পক্ষে রাখতে হবে। জনগণ যেভাবে বলবে সেভাবেই পরিচালিত হতে হবে। হাতের পাঁচ আঙুল সমান নয়, মানুষও একরকম হয় না। ৫ আগস্টের পর গত চার মাসে দলের কিছু নেতাকর্মী বিভ্রান্ত হয়েছে, বিভ্রান্ত করছে। যে কারণে তাদের অনেকের কাজকর্ম সাধারণ মানুষ পছন্দ করছে না।

গতকাল দুপুরে রাজধানীর বড়ুয়ার আলাউদ্দিন দেওয়ান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৩১ দফা নিয়ে নেতাকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক। মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তফা জামানের সঞ্চালনায় ও খিলক্ষেত থানা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুল হক ফজলুর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন মহানগর উত্তর বিএনপি নেতা মো. আক্তার হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, এসএম জাহাঙ্গীর, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, এবিএমএ রাজ্জাক, মো. আক্তার হোসেন, মো. আতাউর রহমান, গাজী রেজওয়ানুল হোসেন রিয়াজ, মো. তুহিরুল ইসলাম তুহিন, এম কফিল উদ্দিন আহমেদ, মো. আফাজ উদ্দিন প্রমুখ। ঢাকা মহানগর উত্তরের আওতাধীন ২৬টি থানার ২৬ দিনের কর্মিসভা ও দলের ৩১ দফা নিয়ে কর্মশালা গতকাল থেকে শুরু করে আগামী ৩ মার্চ বনানী থানায় গিয়ে শেষ হবে বলে জানায় বিএনপি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের

পলিথিন-প্লাস্টিকের ব্যাগ পেলেই ব্যবস্থা, হুঁশিয়ারি পরিবেশ উপদেষ্টার

উপহার পাঠিয়ে খোঁজ নিলেন রুমিন ফারহানা, কী বললেন হাসনাত

সেলফির পেছনে মৃত্যু: শীর্ষে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র

চবিতে ফের সংঘর্ষ, উপ-উপাচার্যসহ আহত ২০

বিকেলে নয়, সন্ধ্যায় বিএনপির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন প্রধান উপদেষ্টা 

নতুন আরও এক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নাম লেখালেন সাকিব

‘সাইয়ারা’র নায়কের আসল নাম কী?

স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে মাসুদ গ্রেপ্তার

আ.লীগ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

১০

গাছ চুরির তথ্য সংগ্রহে গিয়ে হামলার শিকার ২ সাংবাদিক

১১

চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে বৃদ্ধ নিহত

১২

বিক্ষোভে উত্তাল ইন্দোনেশিয়া, চীন সফর বাতিল প্রেসিডেন্টের

১৩

ইন্টারনেট চালু রেখেও হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ বন্ধ রাখুন

১৪

ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বন্ধ

১৫

সিপিএলে ওয়াইড বলে তারকা ব্যাটারের অদ্ভুতুড়ে আউট (ভিডিও)

১৬

রিটকারীকে শুভেচ্ছা জানালেন শিবিরের জিএস প্রার্থী ফরহাদ

১৭

অঞ্জলিকে ‘অশ্লীল স্পর্শ’ বিতর্কে মুখ খুললেন পবন সিং

১৮

নবীন শিক্ষার্থী ও নির্যাতিত ছাত্রনেতাদের নিয়ে রাকসু নির্বাচনের দাবি

১৯

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পুরোনো ভূমিকায় ধোনিকে চায় ভারত

২০
X