কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৭ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

খালেদা জিয়ার কবরে দিনভর মানুষের শ্রদ্ধা

খালেদা জিয়ার কবরে দিনভর মানুষের শ্রদ্ধা

এক দিন সর্বসাধারণের জন্য বন্ধ থাকার পর গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলে দেওয়া হয়েছে শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমান ও তার সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজার হাজার মানুষ ফুল নিয়ে তাদের প্রিয় নেত্রীর কবর জিয়ারত করছেন, কায়মনোবাক্যে দোয়া করছেন আল্লাহর দরবারে।

গত বুধবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সমাহিত করা হয় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই। ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম দিনে সকাল থেকেই বিজয় সরণি মোহনায় নেতাকর্মীরা জড়ো হন, ঢল নামে বিজয় সরণি সড়কে। সকাল ৯টার দিকে সড়ক খুলে দেওয়া হলেও সমাধিস্থলে প্রবেশপথে নিরাপত্তারক্ষীরা সাধারণ মানুষকে প্রবেশ করতে দেননি। পরে দুপুর ১২টার দিকে সমাধিস্থল সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হলে নেতাকর্মীরা কবর জিয়ারতের সুযোগ পান। সমাধিস্থলের চারপাশের প্রবেশপথ বন্ধ থাকলেও ক্রিসেন্ট লেকের দিক দিয়ে প্রবেশের সুযোগ রাখা হয়। সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পরদিন বুধবার সংসদ ভবন প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

গতকাল বিকেলে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে কবর জিয়ারত করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সকালে নিরাপত্তাব্যবস্থা চলমান থাকা অবস্থায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন। সকালেই নিরাপত্তা বেষ্টনীর সামনে দাঁড়িয়ে মোনাজাত করেন দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

কবর জিয়ারত করে লুৎফুজ্জামান বাবর সাংবাদিকদের বলেন, সকালে বাসায় থাকতে ইচ্ছে করছিল না। নেত্রীর কবর জিয়ারতে এসেছি। জিয়াউর রহমানের আদর্শকে যিনি উড্ডীন রেখেছেন, সেই নেত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি ছিলেন মূর্ত প্রতীক। তার আদর্শ আমাদের পাথেয় হয়ে থাকবে। গণতন্ত্রের সেই দেখানো পথেই বিএনপি চলবে, আমাদের নেতা তারেক রহমান সেই পথেই দেশকে এগিয়ে নেবেন। আপনারা সবাই নেত্রীর জন্য দোয়া করবেন—আল্লাহ যেন তাকে বেহেশতের সর্বোত্তম স্থানে স্থান দেন।

এদিকে, সর্বসাধারণের জন্য সমাধিস্থল খুলে দেওয়ার পর সেখানে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামে। শিশু, স্কুলশিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সব বয়সের নারী-পুরুষ সমাধিস্থলে উপস্থিত হন। ঠিক যেখানে বেগম জিয়াকে দাফন করা হয়েছে, সেখানে দাঁড়িয়ে অনেকে নীরবে শ্রদ্ধা জানান, দরুদ শরিফ পাঠ করেন। কাউকে কাউকে কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা গেছে।

ঢাকার উত্তরায় বসবাসকারী মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি কাজী আমীর খসরু সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে কবর জিয়ারত করেন। এসময় তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকে ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে নেত্রীকে দেখে এসেছি— তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতির কবর জিয়ারতে নেতাকর্মীদের নিয়ে আসতেন। আজ তিনি নিজেই এখানে শায়িত। আমরা এতিম হয়ে গেছি। তবে নেত্রীর জানাজায় জনসমুদ্র দেখে সাহস পাই যে, আমরা যতদিন আছি, তারেক রহমান নেত্রীর পথ অনুসরণ করে জাতীয়তাবাদের পতাকা উড্ডীন রাখবেন।

কুড়িগ্রাম থেকে আসা যুবদল কর্মী সুলতান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন কেউ দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে ভুলবে না। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম তাকে স্মরণ করবে—কারণ তিনি গণতন্ত্রের পতাকাকে উড্ডীন রাখতে নিজের সবকিছু বিসর্জন দিয়েছেন। তার মতো নেত্রী বলতে পারেন, ‘আমার বিদেশে কোনো ঠিকানা নেই, আমার ঠিকানা বাংলাদেশ ও এই দেশের মাটি।’ বুধবার তার জানাজায় অংশ নিয়েছি। আজ কবর জিয়ারতের সুযোগ পেয়েছি—আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।

বিএনপি কর্মী ও বাড্ডার বাসিন্দা সাইফুল আলম বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতার কবর জিয়ারতে নেত্রী কতবার এসেছেন, তার হিসাব নেই। আমি নিজেও এসেছি, স্লোগান দিয়েছি নেত্রীর আগমনে। আজ সেই নেত্রী নেই। আজ তার কবর জিয়ারত করছি—এ কথা মনে হলেই বুকটা ভার হয়ে আসে। তারপরও আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নেত্রীকে নিয়েছেন—সবাইকেই একদিন চলে যেতে হয়। দোয়া করি, তিনি যেন জান্নাতে থাকেন, ভালো স্থানে থাকেন।

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক আজ শেষ হচ্ছে: খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক আজ শুক্রবার শেষ হচ্ছে। শেষ দিনে দেশের সব মসজিদে দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার থেকে সারা দেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন শুরু হয়। শোক উপলক্ষে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কালো পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।

রাষ্ট্রীয় শোকের দ্বিতীয় দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।

মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ শোক কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, ‘গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার গভীরভাবে শোকাহত। তার মৃত্যুতে বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ হতে শুক্রবার, ২ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা হবে।’

এর আগে, জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যুক্তিতর্ক শুনানির আগে অসুস্থ রামিসা হত্যার আসামি স্বপ্না

১০ বছর পর আবারও ফাইনালে মুখোমুখি বাংলাদেশ-ভারত

থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে বেধড়ক মারধর, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার

যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

ঋতুপর্ণার জাদুকরী সেই গোলের নাম কেন ‘অলিম্পিক গোল’?

আর্থিক লেনদেনের জেরে প্রেমিকাকে শ্বাসরোধে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ১১১৮ জন

মহাসড়কে আ.লীগের ঝটিকা মিছিল, গ্রেপ্তার ১২

বিহারের হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৪

এবার জেমস বন্ড সাজে ডোনাল্ড ট্রাম্প

১০

স্ত্রীর গর্ভে ৫ সন্তান, উন্নত চিকিৎসার খরচ জোগাতে পারছেন না দরিদ্র রংমিস্ত্রি

১১

সীমান্তে পুশইন চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

১২

বজ্রপাতে মা-ছেলের করুণ মৃত্যু

১৩

দিল্লির হোটেলে আগুন : মৃত্যুপথযাত্রী বাবাকে দেখতে এসে পুড়ে মরলেন ৮ স্বজন

১৪

ময়মনসিংহে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু

১৫

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ আজ

১৬

আ.লীগ ও জামায়াত একই জিনিস, আমাদের সতর্ক থাকতে হবে : ইশরাক

১৭

আজও নেই বৃষ্টির সম্ভাবনা

১৮

দেশে ফিরলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

১৯

আর্জেন্টিনাকে ‘সতর্কবার্তা’ দিল আলজেরিয়া

২০
X