কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৫, ০৮:১০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সম্পাদকীয়

নির্বাচনের তারিখ আসছে!

নির্বাচনের তারিখ আসছে!

এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় এবং বিএনপিসহ কিছু রাজনৈতিক দল ও মহলের বহুপ্রতীক্ষিত দাবি হচ্ছে—ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণের ঘোষণা। আলোচিত বিষয়টি ঘিরে এসব জল্পনা-কল্পনা-সংশয়-দোলাচল কি এবার দূর হতে যাচ্ছে? নির্বাচনের নির্দিষ্ট কোনো দিন-তারিখের ঘোষণা কি আসতে যাচ্ছে?

শনিবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ১৪টি রাজনৈতিক দলের বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার এমনই একটি মন্তব্য করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বরাত দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন প্রধান উপদেষ্টা। মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা ক্যাটাগরিক্যালি (সুস্পষ্টভাবে) বলেছেন, তিনি আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যে নির্বাচনের সময়সীমা, তারিখ ঘোষণা করবেন। আলোচনার সবচেয়ে ফলপ্রসূ বিষয় হচ্ছে এটা। দেশে যে অরাজকতা, তার একমাত্র সমাধানের পথ নির্বাচন—এটা সরকার বুঝতে পেরেছে।’ নির্বাচনের তারিখের সম্ভাব্য ঘোষণায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জাতীয় পার্টির এ নেতা আরও বলেন, ‘এর (নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা) চেয়ে আনন্দের বার্তা আর কিছু হতে পারে না। নৈরাজ্যের সমাধান করবে নির্বাচন। নির্বাচনের মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান হবে।’ অবশ্য এ বিষয়ে বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল আপত্তি তুলেছে। তাদের দাবি, সরকারের পক্ষ থেকে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হওয়া উচিত। তা না হলে বিভ্রান্তি রয়ে যাবে।

এদিকে এদিনই নির্বাচন ভণ্ডুলের অপচেষ্টা রুখে দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘পতিত শক্তি গণ্ডগোল লাগিয়ে নির্বাচনের আয়োজনকে ভণ্ডুল করার চেষ্টা করছে। এ অপচেষ্টা প্রতিহত করতে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। অভ্যুত্থানের সব শক্তি মিলে একটি সুন্দর নির্বাচন করতে না পারলে এই মস্ত বড় সুযোগ আমাদের হাতছাড়া হয়ে যাবে।’

বলা বাহুল্য, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তাতে একটি সুষ্ঠু ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান ছাড়া সম্ভবত এ পরিস্থিতির অবসান সম্ভব নয়। কেননা শুধু রাজনৈতিক অঙ্গন নয়, নির্বাচন নিয়ে এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এক ধরনের সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। আর এমন একটি সময় নির্বাচনের দিন-তারিখের ঘোষণা আসবে—এ বার্তাটি তাই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন মানুষ। অবশ্য সংশয় যে পুরোপুরি দূর হয়েছে, তাও নয়। কেননা এর আগে বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন নজিরও রয়েছে, যেখানে নির্বাচনের দিন-তারিখ এবং তপশিল ঘোষণার পরও নির্ধারিত সময়ে সে নির্বাচন অনুষ্ঠান হয়নি। নজিরবিহীন ঘটনাটি ছিল ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির নির্ধারিত নির্বাচন নিয়ে। তখন এক নির্বাচনের জন্য পাঁচবার তপশিল ঘোষণা করা হয়। পরে ১১ জানুয়ারি স্থগিত করা হয় নির্বাচন কার্যক্রম। ফলে এ কথা বলাই যায় যে, যতক্ষণ না পর্যন্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, ততক্ষণ এ নিয়ে জনমনের সংশয় সম্পূর্ণভাবে দূর হওয়ার নয়। তবে আমরা আশাবাদী হতে চাই যেন দ্রুতই নির্বাচন অনুষ্ঠানের একটি স্পষ্ট বার্তা আসে এবং সব সংশয়ের অবসান ঘটে। আর সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সব রাজনৈতিক দল ও দেশের সব মানুষের যে সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা, সে ব্যাপারে সর্বাত্মকভাবে আন্তরিক হবে সবপক্ষ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১০ লিটার দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা সমর্থকের ব্রাজিলে যোগদান

ডাকাতি করতে গিয়ে মা-মেয়েকে সঙ্ঘবদ্ধ ‘ধর্ষণ’

বছরে কতবার পরিষ্কার করা হয় মসজিদে নববী?

আত্মসমর্পণের পর পাঁচ আ.লীগ নেতা কারাগারে

সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা নিহত

একনেকে ১০ প্রকল্প অনুমোদন

কিউবায় ১৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প

পরম আমাকে বিয়ে করেনি বলে তাদের ভীষণ দুঃখ: রাইমা

চুক্তি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়াতে সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ শুরু

আ.লীগ নেতা রানা গ্রেপ্তার

১০

দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি হামলা, বহু হতাহত

১১

পাবনায় ধর্ষণ-হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে আগুন, নিহত ৩

১২

নতুন কিছু করার অঙ্গীকার শি-কিমের

১৩

চার বছর পর ফিরেই মোসাদ্দেকের ফিফটি

১৪

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুর মাকে ধর্ষণের অভিযোগ

১৫

যৌন অসদাচরণের অভিযোগে আইসিসি প্রসিকিউটর করিম খান সাময়িক বরখাস্ত

১৬

রাশিয়ার শ্রমবাজারে ১ লাখ কর্মী পাঠাতে চায় বাংলাদেশ

১৭

মহাসড়কে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর

১৮

ড. ইউনূসের বিচার চাইলেন গ্রেপ্তার সেই ৬১ আইনজীবী 

১৯

অনার্সে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন কোর্স বাতিলের খবর ‘ভিত্তিহীন’ : শিক্ষা মন্ত্রণালয়

২০
X